বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

প্রস্তাবিত নতুন সংবিধান চিলির জনসাধারণের প্রত্যাখ্যান

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:০৩

চিলির জনগণ প্রস্তাবিত নতুন সংবিধান প্রত্যাখ্যান করেছে। স্বৈরশাসক অগাস্তো পিনোচেটের সময় প্রণীত সংবিধান প্রতিস্থাপন করতে নতুন এই সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। রবিবার এই গণভোটের ফলাফলে ৬১ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পড়েছে প্রত্যাখ্যানের পক্ষে এবং বাকি ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ নতুন সংবিধানের পক্ষে ভোট দিয়েছে।

বাধ্যতামূলক এই নির্বাচনে ভোটার ছিলেন দেড় কোটিরও বেশি। ঐ দিন স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে ১০ ঘণ্টা ধরে। গত দুই বছরের মধ্যে চিলির জনগণ সংবিধান নিয়ে তৃতীয় বারের মতো গণভোটে অংশ নেন। প্রথমে তারা সংবিধান নতুন করে লেখার পক্ষে রায় দেন। পরে এ কাজের জন্য প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট দেন। 

এদিকে, ভোটের এই ফলাফলের পর রক্ষণশীল ইউডিআই পার্টির নেতা জাভিয়ার মাকায়া বলেন, এটি চিলি পুনর্গঠনের জন্য একটি পরাজয়। চিলির দক্ষিণাঞ্চলীয় ছোট্ট শহরের বাসিন্দা আলফ্রেডো তোলোসা বলেন, এখানে প্রত্যাখ্যানের পক্ষে প্রায় সবাই। তারা পরিবর্তনকে ভয় পাচ্ছে। কারণ, এই পরিবর্তনের ফলে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। এর ফলে অর্থনীতির ক্ষতি হতে পারে। চিলির জনগণ ২০২০ সালের অক্টোবরে নতুন সংবিধান লেখার পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। এর আগের বছর চিলিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি ছিল সমাজের অসাম্য দূর করার লক্ষ্যে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা।

নতুন সংবিধানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পেনশন খাতে আরও বেশি সমতার দাবি জানানো হয়। তবে প্রস্তাবিত নতুন সংবিধান নিয়ে প্রধান উদ্বেগের বিষয় দাঁড়ায় আদিবাসীদের প্রাধান্য দেওয়ায়। দেশটির ১ কোটি ৯০ লাখ লোকের মধ্যে আদিবাসীর সংখ্যা প্রায় ১৩ শতাংশ। এছাড়া নতুন সংবিধানের মাধ্যমে দেশটির শাসনব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আসত। সিনেটের ক্ষমতা হ্রাস পেত এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অন্তত অর্ধেক পদে নারী কর্মী নিয়োগ দিতে হতো। তবে ফলাফল যা হোক, নতুন সংবিধানের সমর্থক বামপন্থি প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন।

ইত্তেফাক/ইআ