শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

রাণীনগরের পাট যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪:৫৯

এক সময়ের সোনালি আঁশ ছিল পাট। পাটকে বলা হতো সাদা সোনা। সেই পাটের সুদিন আবার ফিরতে শুরু করেছে। উত্তরের জনপদ নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় উৎপাদিত পাট যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে পাটচাষিরা বৃষ্টির সংকটে পড়ে। তবে কিছুদিন পর থেকেই পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে পাট জাগ দিতে তেমন একটা সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি তাদের। আর বর্তমানে বাজারে পাটের দাম ভালো পাওয়ায় অনেক খুশি পাটচাষিরা। এমন অবস্থা বজায় থাকলে উপজেলায় আবার পাটের সুদিন ফিরে আসবে বলে মনে করছেন পাটচাষি ও কৃষিবিভাগ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা এসে নওগাঁর বিভিন্ন হাট থেকে পাট কিনছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক ১১০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। গত বছর মাত্র ৭৫ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছিল আর চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১০০ হেক্টর জমি। অন্য বছরের তুলনায় এবার পাটের দাম বেশি হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। সময়মতো পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাট কেটে তা বিভিন্ন জলাশয়ে জাগ দিচ্ছে কৃষকেরা। চাষিরা পাট কেটে নদীনালা, খালবিল ও ডোবায় জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো এবং হাটবাজারে তা বিক্রিসহ সব মিলিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে ভালোমানের পাটের মূল্য ৩ হাজার ২০০ টাকা মণ ও নিম্নমানের পাটের মূল্য ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান জানান, এবার জমিতে পাট চাষ করেছিলাম, পাটও ভালো হয়েছে এবং অন্য বছরের তুলনায় দাম বেশি হওয়ায় লোকসানে পড়তে হচ্ছে না। উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক আকরাম মণ্ডল বলেন, মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি না হওয়ায় পাট নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। তবে পরে বৃষ্টি হওয়ার কারণে ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারে পাটের মূল্য বেশি হওয়ার কারণে আগামি বছর আরো বেশি জমিতে পাট চাষ করব।

উপজেলার ত্রিমোহনী হাটে পাট কিনতে আসা কুষ্টিয়ার বেপারি তরিকুল আলম জানান, তিনি নিয়মিত আহসানগঞ্জ হাট থেকে পাট কিনে থাকেন। প্রতি হাটে তিনি ট্রাকে করে পাট কিনে থাকেন। গত বছরের তুলনায় এবার পাটের দর কিছুটা বাড়তি। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে। আবহাওয়া পাট চাষের অনুকূলে থাকায় পাটের ফলনও ভালো হয়েছে। দিন দিন পাটজাতীয় পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পাটের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই গত কয়েক বছর থেকে পাটচাষিরা বাজারে পাটের দামও ভালো পাচ্ছেন। যার কারণে উপজেলাতে দিন দিন পাট চাষও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পাটের দামও অনেক বেশি।

ইত্তেফাক/এআই