বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র বিকেন্দ্রীকরণ কেন নয়?

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৩০

গত দুই বছর ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র বিকেন্দ্রীকরণ ও গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা নেওয়ার পদ্ধতি নতুন করে ভাবাচ্ছে কেন্দ্র বিকেন্দ্রীকরণ নিয়ে। গত ১৬ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা, তারও আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম এই ক্যাম্পাস দুটির বাইরেও আরো বেশ ক’টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যেখানে পড়ার স্বপ্ন দেখে হাজারো শিক্ষার্থী। অথচ ভর্তি পরীক্ষা জটিলতায় সেই স্বপ্ন অধরা থেকে যায়। বিত্তশালীদের  সন্তানরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পেলেও কাঁড়িকাঁড়ি টাকা গুনে ভর্তি হতে পারার সুযোগ থাকে প্রাইভেটে বা বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার। কিন্তু আমার দেশের অধিকাংশ মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীর সেই সুযোগ থাকে না। আবার দেশের সবক্ষেত্রে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কদর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপরে অবস্থান করায় তাদের প্রথম এবং একমাত্র পছন্দ হয়ে ওঠে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। অনেকে বাড়ির গবাদিপশু বিক্রি করে, খেতের ফসল বেচে, জমি কিংবা মা-বোনের গয়নাগাঁটি বন্ধক দিয়েই জোগাড় করে পরীক্ষার খরচ। আবার দেখা যায় পরীক্ষার জন্য কোচিং, প্রাইভেট, বই, ফরম ফি বাবদ যাবতীয় খরচ মিটিয়ে শেষমুহূর্তে এসে অনেকে যাতায়াত খরচের জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে না। আমার এক সহপাঠীর কথা মনে আছে, ২০১৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফর্ম নিয়েও চট্টগ্রাম থেকে পরীক্ষা দিতে যায়নি শুধু আবাসন ও যাতায়াত খরচের কারণে। অনেকের ক্ষেত্রে যাতায়াত খরচের অসুবিধা না হলেও আবাসন সমস্যায় পড়তে হয়। শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিষয়টি কতটা প্রগাঢ় তা নতুন করে বলার প্রয়োজন পড়ে না।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ভর্তি পরীক্ষার সময় শহরে আসা-যাওয়া এবং আবাসন সমস্যা পোহাতে গিয়ে আমি নিজেই একটি রাত কাটিয়ে ছিলাম চবির সেন্ট্রাল মসজিদ বারান্দায়। এদিকে গত ১৬ তারিখের পরীক্ষায় চবিতে ঘটেছে লজ্জাজনক ঘটনা। ভর্তি পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় লেখা কয়েকটি টোকেন নিয়ে অনুষদের সামনের রাস্তায় দাঁড়ায় এক যুবক। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভেতরে ফোন নেওয়া নিষেধ করেছে, এমন কথা বলে ঐ যুবক ভর্তি পরীক্ষার্থীদের তার কাছে ফোন জমা রাখতে বলে। যারা ফোন জমা দিয়েছে, সবাইকে সে একটি করে টোকেন দেয়। কিন্তু পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা শেষে ফিরে এসে ঐ যুবককে আর পায়নি। এমন হরেক রকমের ঘটনা ঘটে পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেমন এর দায় এড়াতে পারে না, তেমনি মানতেই হবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দুর্বল ব্যবস্থাপনা।

তাই এখন সময় এসেছে ঢাবি ও গুচ্ছের মতো প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়টি নিয়ে কাজ করার। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোকে বিকেন্দ্রীকরণ করার। এতে পরীক্ষার্থীর ভোগান্তি যেমন লাঘব হবে, তেমনি বাড়বে পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও। অকালেই নিঃশেষ হয়ে যাবে না কারো উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন। দেশের এরকম ব্যাংক নিয়োগ ও অন্যান্য বিশাল সংখ্যক চাকরি নিয়োগ পরীক্ষায়ও বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা সময়ের চাওয়া।

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

ইত্তেফাক/এএইচপি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন