সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

নিয়োগ পদ্ধতির পরিবর্তনেই দূর হবে শিক্ষক সংকট

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:৩০

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট এখন স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৬ সালের আগে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হতো। আর্থিক লেনদেন রোধে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের শিক্ষক নিয়োগ ক্ষমতা এনটিআরসিএ-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০১৬ সালে এনটিআরসিএ ১৬০০০ পদের বিপরীতে প্রথম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। প্রথম গণবিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীরা স্ব স্ব জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করেন। কিন্তু পদ্ধতিগত ভুলের কারণে একই ব্যক্তি একাধিক প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হন। শিক্ষক সংকট থেকেই যায়। 

এরপর ২০১৮ সালের শেষে স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ৩৯৫৩৫ শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন এনটিআরসিএ। দ্বিতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আসে নিয়োগ পদ্ধতির। এ বিজ্ঞপ্তিতে চাকরিপ্রত্যাশীদের দেশের সকল প্রতিষ্ঠানে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে সফটওয়্যারকেও এমন নির্দেশনা দেওয়া হয় যেন একই ব্যক্তি একাধিক প্রতিষ্ঠানে সুপারিশ না পান। দ্বিতীয় নিয়োগ চক্রে চূড়ান্তভাবে প্রায় ৩৪ হাজার শিক্ষক দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুপারিশ পান। নিয়োগচক্রের এ নিয়মে চাকরিপ্রত্যাশীরা অনেকটাই খুশি। 

কিন্তু বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বদলি ব্যবস্থা না থাকা ও সীমিত বেতন হওয়ায় দূরে নিয়োজিত শিক্ষকগণ পড়েন চরম বিপাকে। তারপর ২০২০ সালের ৩১ মার্চ  প্রায় ৫৪ হাজার পদের বিপরীতে প্রকাশ করা হয় তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি। বদলি ব্যবস্থা না থাকায় দ্বিতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ নতুনরাও আবেদন করেন তৃতীয় নিয়োগ চক্রে। তৃতীয় চক্রেও এমপিওভুক্ত ও নন এমপিওসহ ৩৬৫৪০ জন শিক্ষক চূড়ান্ত সুপারিশ পান। যার মধ্যে আগের ইনডেক্সধারীর সংখ্যা ২১৮৭৩ জন। আর নতুন সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষক মাত্র  ১৪৬৬৭ জন।

সামনে আবারও প্রায় সত্তর হাজার পদের বিপরীতে চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি হতে যাচ্ছে। গণবিজ্ঞপ্তি দিলে ষোড়শ নিবন্ধনধারীদের মধ্য থেকে কিছু উচ্চ নম্বরধারীর চাকরি হলেও কম নম্বরধারীরা বেকার পড়ে থাকবেন। যেহেতু বদলি ব্যবস্থা নেই, তাই চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তিতে ইনডেক্সধারীরা আবারও আবেদন করবেন। মোট পদের দুই-তৃতীয়াংশ পদই দখল করবেন ইনডেক্সধারীরা। ফলে শিক্ষক সংকট থেকেই যাবে। অথচ শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতির একটু পরিবর্তনই পারে শিক্ষক সংকট দূর করতে। এজন্য প্রয়োজন ইনডেক্সধারী ও নতুন চাকরি প্রত্যাশীদের জন্য দুটি আলাদা নিয়োগ পদ্ধতি। শূন্যপদ সংগ্রহ শেষ হওয়ার পর ইনডেক্সধারীদের জন্য আলাদা বিজ্ঞপ্তি  দিয়ে ইনডেক্সধারীদের নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে। পরবর্তী সময়ে ইনডেক্সধারীদের ছেড়ে আসা পদ ও নতুন শূন্যপদসহ নতুনদের জন্য একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা। এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে বদলিপ্রত্যাশী ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা প্রত্যাশা পূরণের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত স্থানে যেতে পারবেন। আবার অধিক সংখ্যক নতুন চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হবেন। প্যানেল প্রত্যাশীদেরও একটা বিরাট অংশ চাকরি পাবেন।

এতে একটু বেশি সময় লাগবে, যা নতুন গণবিজ্ঞপ্তি প্রত্যাশীদের ধৈর্যচ্যুতির কারণ হবে। যাঁদের নম্বর বেশি তাঁরা ইনডেক্সধারীদের জন্য আলাদা বিজ্ঞপ্তির ঘোর বিরোধিতাও করবেন। কেননা বেশি নম্বরধারীরা একরকম নিশ্চিত যে, তাঁরা নিয়োগ পাবেনই। কিন্তু যাঁদের নম্বর তুলনামূলক কম, তাঁদের কী হবে? তাঁরা তো আবারও নিয়োগ বঞ্চিত থেকেই যাবেন। তাই চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তির আগে ইনডেক্সধারীদের জন্য প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের জন্য আলাদা বিজ্ঞপ্তি দিলে বদলিপ্রত্যাশী, গণবিজ্ঞপ্তিপ্রত্যাশী, প্যানেলপ্রত্যাশী, কম নম্বরধারী সবার জন্যই কল্যাণকর হবে।

সহকারী শিক্ষক, পূর্ব সন্দ্বীপ ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম

ইত্তেফাক/এএইচপি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন