শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতি

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:১৫

বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির দুটি ফোকাসিং পয়েন্ট হলো ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি ও পাবলিক ডিপ্লোমেসি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা। উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে স্থিতিশীলতার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাও ব্যাপকভাবে প্রয়োজন। আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক ও শান্তি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ এই বিষয়টাকে প্রাধান্য দিয়েই অগ্রসর হচ্ছে সামনে।

বিশ্ব পরিমণ্ডলে একসময় ক্ষুদ্র অর্থনীতির দেশ বলে পরিচিত বাংলাদেশ আজ আর্বিভূত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যবিমোচন নিশ্চিত করে একটি উন্নত ও আধুনিক রাষ্ট্র হওয়ার পথে জোরেসোরে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধে জয়লাভের পর বাংলাদেশের শাসনভার নিজের কাঁধে নিয়ে যে শান্তি ও প্রগতির রাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনাও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে একই নীতি অনুসরণ করে এগিয়ে চলেছেন সামনে। ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’ বিশ্বশান্তির পক্ষে বঙ্গবন্ধুর এই অমোঘ নীতিই এখনো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলমন্ত্র। এই মূলমন্ত্রের ওপর ভর করেই সব বাধার পাহাড় ডিঙিয়ে দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এ দেশের সর্বকালের সফল প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। তার শাসনামলের প্রতিটি পদে পদে রচিত হচ্ছে সফলতার ইতিহাস। শেখ হাসিনা সরকারের বিগত ১৩ বছরে অজস্র কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ শুধু এ দেশের দূরদর্শী কূটনৈতিক নেতৃত্বের কারণে। বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির দুটি ফোকাসিং পয়েন্ট হলো ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি ও পাবলিক ডিপ্লোমেসি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা। উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে স্থিতিশীলতার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাও ব্যাপকভাবে প্রয়োজন। আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক ও শান্তি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ এই বিষয়টাকে প্রাধান্য দিয়েই অগ্রসর হচ্ছে সামনে।

শেখ হাসিনার বর্তমান শাসনামলে অর্থনৈতিক কূটনীতির কার্যক্রম আশাতীত সাফল্য অর্জন করেছে। এর বড় প্রমাণ হচ্ছে, গত এক বছরে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ৬৮ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। গত বছর বাংলাদেশের সমকক্ষ দেশগুলোর কেউই সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আহরণে এমন সাফল্য পায়নি। এ দেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির মূল লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেওয়া ‘ভিশন-২০২১’ ও ‘ভিশন-২০৪১’ অর্জনে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, প্রবাসীদের বিনিয়োগে উত্সাহিত করা, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও গতিময় করা, গুণগত উত্কর্ষ সেবাদানের মাধ্যমে সবার আস্থা অর্জন করা। এসব লক্ষ্য সামনে রেখে পরিচালিত হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতি।

অন্যদিকে পাবলিক ডিপ্লোমেসির উদ্দেশ্য হলো সামাজিক অগ্রগতি, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আর সন্ত্রাস দমনে সরকারের অভাবনীয় সাফাল্য এবং বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগ ও শেখ হাসিনার ভিশনসমূহ বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা, যাতে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ইমেজ পরিবর্তিত হয় এবং বিশ্ববাসী জানে যে বাংলাদেশ আর তলাবিহীন ঝুড়ি নয়, বরং বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশই হচ্ছে সর্বোত্কৃষ্ট গন্তব্য। কারণ, বাংলাদেশের রয়েছে গতিশীল ও সমৃদ্ধিময় অর্থনীতি। অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশে বিনিয়োগের পর রিটার্ন আসে দ্রুত। অন্যান্য দেশ থেকে বাংলাদেশের রিটার্ন অব ইনভেস্টমেন্ট তুলনামূলক খুব ভালো অবস্থানে রয়েছে। বিদেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে, বিদেশের বিভিন্ন নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজকে সম্পৃক্ত করে, সে দেশের সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সংযোগ ঘটিয়ে  বাংলাদেশের সাফল্যের কাহিনি প্রচার করে উন্নত ভাবমূর্তি অর্জন জনকূটনীতির মূল লক্ষ্য। এ কাজ করার জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি মিশনে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ চালু হয়েছে। যেমন  একসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে জানা ও বোঝার জন্য দেশটির মিশনের বাইরে ‘ইউএসআইএস’ প্রতিষ্ঠান ছিল, যারা মার্কিন জীবনধারা, তাদের ইতিহাস, তাদের অর্জন এবং তাদের  গুণাবলি তুলে ধরত। ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ একইভাবে বাংলাদেশের অর্জন, বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগ, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম, ন্যায়বিচার ও মানবধিকার অর্জনের জন্য ত্যাগ, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগের সুযোগ ও পরিবেশ, উন্নত  অবকাঠামো, বিশাল কর্মক্ষম ও দক্ষ যুবসমাজ, আইটি ক্ষেত্রে সক্ষমতা ইত্যাদি, অর্থাৎ বাংলাদেশকে সম্ভাবনার অর্থনীতি হিসেবে বহির্বিশ্বে জানান দেওয়া।  এর সঙ্গে জরুরি বিষয়টি হলো আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা। দেশের অভ্যন্তরীণ অথবা বাইরের যে কোনো বৈরিতা মোকাবিলা করে দেশ ও আঞ্চলিক পর্যায়ে একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা। কারণ, কোনো অঞ্চল একবার অস্থির হয়ে উঠলে সেই এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হয়, সেই সমাজের শান্তি নষ্ট হয়, যার প্রভাব পড়ে অন্য সমাজ ও অন্য দেশেও। একটি শান্তিপূর্ণ দেশের স্থিতিশীল অবস্থাও নষ্ট হতে পারে পাশের দেশের অস্থিতিশীল অবস্থার কারণে। আঞ্চলিক সৌহার্দ, সম্প্রীতি ও সহযোগিতার মানসিকতা না থাকলে কোনো দেশের একার পক্ষে উন্নয়নের সুফল ভোগ করা সম্ভব নয়। তাছাড়া আমাদের উন্নয়নের অর্জনগুলো ধরে রাখতে ও টেকসই করতে প্রয়োজন আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা। এ কারণে সব সময়ই বাংলাদেশ বৈরিতার নীতি পরিহার করে চলেছে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্যতম কারণ হলো দেশের বর্তমান স্থিতিশীল রাজনীতি। সুদীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সব ঝড়ঝঞ্ঝা মোকাবিলা করে শক্ত হাতে দেশ চালাচ্ছেন শেখ হাসিনা। তার যোগ্য ও সুকৌশলী নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নের দিকে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। অস্থিতিশীলতা একটা জাতিকে কতটুকু পিছিয়ে দিতে পারে, তার বর্তমান উদাহরণ হচ্ছে আফগানিস্তান, লিবিয়া, ইয়ামেন কিংবা লেবানন। এই দেশগুলোর জনজীবন ও উন্নয়ন এখন বাধাগ্রস্ত। শান্তি ও স্থিতিশীলতায় ভাটা পড়লে উন্নয়ন ব্যাহত হয়। আমাদের দেশেও এর  প্রমাণ রয়েছে। ’৭৫-এর নৃশংস হত্যাযজ্ঞের কারণে বাংলাদেশ ৩০ বছরের জন্য পিছিয়ে পড়ে। বাংলাদেশ যে চারটি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই দর্শনের অন্যতম একটি হলো গণতন্ত্র, যা ধ্বংস হয়ে গেল ১৫ আগস্টের ভোররাতে। গণতন্ত্র হয়ে গেল সামরিক গণতন্ত্র। তার সঙ্গে মানুষের দোরগোড়ায় গুণগত উন্নত সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধুর সরকার যে ‘জেলায় জেলায় জেলা সরকার’ প্রবর্তন করেন, তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফলটা পাওয়া যায়নি। ফলে জনগণের সব ধরনের সেবা পাওয়ার জন্য এখনো মানুষকে কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। যদিও বর্তমান সরকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আন্তরিক হয়ে কাজ করছে।  স্থিতিশীল রাজনীতি একটি দেশকে কেমন করে উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো এশিয়ার অন্যতম দেশ মালয়েশিয়া। ২০২০ সালে উন্নত রাষ্ট্র ঘোষণা করার টার্গেট অর্জন করতে সক্ষম না হলেও ২০৩০ সালে উন্নত রাষ্ট্র ঘোষণা করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। চীন, সিঙ্গাপুর, ব্রুনেই, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন  ও থাইল্যান্ডের জল ও স্থলসীমান্ত ঘেরা মালয়েশিয়ার আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রয়েছে শক্তিশালী অবস্থান।

স্থিতিশীল রাজনীতির সুফল ভোগকারী আরেকটি ছোট্ট দেশ হলো সিঙ্গাপুর। এশিয়ার ‘চার বাঘ’ খ্যাত ছোট দেশগুলোর একটি হলো সিঙ্গাপুর। বাকি তিন দেশ হচ্ছে হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান। সম্প্রতি বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অর্থনীতির র্যাংকিংয়ে সিঙ্গাপুর যুক্তরাষ্ট্র ও হংকংকে ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করা সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বিজনেস স্কুল আইএমডির র্যাংকিং এমনটা জানাচ্ছে। একেকটি দেশ টেকসই প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং নাগরিকদের কল্যাণে কর্মসূচি বৃদ্ধির পরিবেশ কতটা নিশ্চিত করতে পারছে, তা বিশ্লেষণ করে এই ক্রম সাজানো হয়ে থাকে। র্যাংকিংয়ের শীর্ষে সিঙ্গাপুর উঠে আসার পেছনে দেশটির সরকারের স্থিতিশীলতা, উন্নত প্রযুক্তিভিত্তিক অবকাঠামো, দক্ষ শ্রমিকের প্রাপ্যতা, অনুকূল অভিবাসন আইন এবং নতুন নতুন ব্যবসার সুপরিকল্পিত উদ্যোগ কাজ করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম উন্নত দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির মানুষের বর্তমান মাথাপিছু আয় ৩৭ হাজার ৪৯৭ মার্কিন ডলার। জিডিপির আকার ৪২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আধুনিক আরব আমিরাতের রূপকার ছিলেন শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।

স্থিতিশীল রাজনীতির সুফল ভোগকারী অপর দুটি দেশ হলো কম্বোডিয়া ও রুয়ান্ডা। রুয়ান্ডাকে বর্তমানে বলা হয় সিঙ্গাপুর অব আফ্রিকা। বিগত দুই দশকে রুয়ান্ডার অর্থনীতি ব্যাপকভাবে উন্নত হয়েছে। বিশেষ করে দেশটি শিল্পায়নের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়েছে। একসময় যে রুয়ান্ডার মানুষ ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের সঙ্গে নিয়মিত লড়াই করত, উপনৈশিকদের সৃষ্টি জাতিগত বিভেদ; হোটি ও টুসসির আত্মঘাতী ‘আত্মহত্যা’র কারণে ভবিষ্যৎ ছিল অন্ধকার; তারা এখন স্বপ্ন দেখছে উন্নত ও আধুনিক জীবনের। রুয়ান্ডার মানুষকে এই স্বপ্ন দেখিয়েছন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট পল কাগামি। বস্তুত, ১৯৯৬ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে এখনো দেশটি শাসন করছেন তিনি। তার এই দীর্ঘ ২৬ বছরের শাসনে (উপরাষ্ট্রপতি ও রাষ্ট্রপতি) পুরো চেহারাই বদলে গেছে রুয়ান্ডার অর্থনীতির।

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার আমলে যে স্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে, তার সুফলও পাওয়া যাচ্ছে হাতে হাতে। বিগত ১৩ বছরের ধারাবাহিক শাসনামলে শেখ হাসিনার সরকার দেশকে উন্নতির চরম শিখরের দিকে নিয়ে চলেছেন। একসময় যা অকল্পনীয় ছিল এ দেশে, তা এখন পৌঁছে যাচ্ছে মানুষের দোরগোড়ায়। স্বাধীনতার ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে যখন আওয়ামী লীগ সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল প্রায় ৫৫ শতাংশ। বতর্মানে দারিদ্র্যর হার ২০ দশমিক ৫ শতাংশেরও নিচে নেমে এসেছে। বতর্মান সরকার কর্তৃক দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন ভাতা চালু, তাদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি যেমন—আশ্রয়ণ প্রকল্প, ঘরে ফেরা, কম্যুনিটি ক্লিনিক স্থাপনের মতো কর্মসূচি দারিদ্র্যবিমোচন ও প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। কৃষক ও কৃষিবান্ধব নীতি গ্রহণের ফলে দেশ দ্রুত খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ম্ভরতা অর্জন করেছে। ১০ বছর আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশের মধ্যে বিরাট ব্যবধান। সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটেছে। ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে সর্বস্তরের মানুষের।

তবে এটাও সত্য, বাংলাদেশের একার পক্ষে পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা সম্ভব নয়। অন্যান্য দেশের সহযোগিতা ও সৌহার্দপূর্ণ আচরণ প্রয়োজন। এ কারণেই আমরা অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। আঞ্চলিক দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের স্বার্থেই।

লেখক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

 

ইত্তেফাক/ইআ