রোববার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সৈয়দপুরের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে ভার্চুয়াল জুয়া, আসক্ত হচ্ছে কিশোর-যুবকরা

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৩৫

তথ্যপ্রযুক্তির এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্মার্ট ফোন-ট্যাব বা ইলেকট্রনিকস ডিভাইস ব্যবহার করে থাই ও কালিয়ান জুয়ায় জড়িয়ে নিজেদের ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে এক শ্রেণির কিশোর-যুবক। ভার্চুয়াল এই জুয়ায় আসক্ত সৈয়দপুর শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার অসংখ্য তরুণ ও যুবক।

সূত্রমতে, সৈয়দপুর শহরের কাজীপাড়া, গোলাহাট, হাতিখানাসহ গ্রামীণ জনপদ কামারপুকুর, হাজারীহাট বোতলাগাড়ীসহ উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় প্রসার ঘটেছে এই জুয়ার। জুয়াড়িদের অনেকে আবার বিভিন্ন মাদকেও আসক্ত। তাই অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে মাদকসেবীর সংখ্যাও। এদের ব্যবহার করে একটি চক্র প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। সেই সঙ্গে ভার্চুয়াল এই জুয়াকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় গড়ে উঠেছে একাধিক কিশোর গ্যাং। তারা জুয়ার টাকা জোগাড় করতে জড়িয়ে পড়ছে মাদক বেচাকেনাসহ নানা অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে।

থাই জুয়ায় আসক্ত একজন জানায়, থাই ও কালিয়ান অনলাইনভিত্তিক জুয়া। মূলত এগুলো এক ধরনের লটারি। অর্থাৎ যারা এই জুয়া খেলে তারা বিভিন্ন প্রকার লটারির টিকিট তৈরি করে। এই টিকিটগুলোতে বিভিন্ন প্রকার নম্বর থাকে যেগুলোর ওপর বাজি ধরতে হয়। নম্বরের সঙ্গে মিলে গেলে টাকা বিকাশ বা ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠাতে ও তুলতে হয়। বেশির ভাগ সময় নম্বর দেওয়ার আগে জুয়াড়িরা অগ্রিম টাকা বিকাশের মাধ্যমে নিয়ে নেয়। পরে টাকা হাতে এলে ফোন বন্ধ করে দেয়। এভাবে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে নম্বর দেওয়ার কথা বলে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে জুয়াড়ি চক্রের সদস্যরা।

শহরের কাজীহাট মহল্লার একজন জানান, এটি থাইল্যান্ডভিত্তিক একটি বৈধ লটারি। স্থানীয় জুয়াড়িরা এই লটারির আদলে বিভিন্ন প্রকার লটারির টিকিট বানিয়ে থাইল্যান্ডের লটারি বলে চালিয়ে দেয়। আমাদের বেশির ভাগ ক্রেতা বা খেলোয়াড় হচ্ছে বাইরের দেশের। তারা জুয়ায় অংশ নিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইমো ও ফেসবুকের মেসেঞ্জারকে বেছে নেয়।

সৈয়দপুরে এই জুয়ার প্রাণকেন্দ্র শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীপাড়া। এখানকার বিভিন্ন নিভৃত অংশে আবাসিক এলাকার অলিগলিতে জটলা করে প্রকাশ্যে জুয়া খেলতে দেখা যায় এখানকার কিশোর-যুবাদের।

এক অভিভাবক বলেন, ‘সারা দিন মোবাইল নিয়ে জটলা করতে দেখি পাড়ার ছেলেদের। প্রথম প্রথম কিছু বুঝতে পারিনি। পরে শুনেছি ওরা থাই জুয়া খেলছে। তবে মহল্লার মানুষ ওদের কিছু বলতে ভয় পায়। কারণ ওরা সংগঠিত। কেউ কিছু বললেই সংগঠিত হয়ে তাকে হেনস্তা করতে ছাড়ে না।’ সচেতন এই অভিভাবকের মতে, ‘চোখের সামনে একটি প্রজন্ম জুয়ায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তাদের কারণে পরিবারও নিঃস্ব হচ্ছে অথচ আমরা কিছু করতে পারছি না। এ ব্যাপারে তিনি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।’

সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সৈয়দপুরে অনলাইন জুয়ার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। আমরা এর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানেও নামছি। কিন্তু শুধু পুলিশি অভিযানে এ জুয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এজন্য এলাকাভিত্তিক সামাজিক প্রতিরোধও প্রয়োজন।

ইত্তেফাক/ইআ