মোংলা বন্দরের নতুন রেকর্ড, জেটিতে ভিড়লো ৮ মিটার গভীরতা সম্পন্ন বিদেশী জাহাজ

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২৩:৪১

মোংলা বন্দরের ইতিহাসে এই প্রথম সবচেয়ে বেশি গভীরতা সম্পন্ন কন্টেইনারবাহী জাহাজ এমসিসি টোকিও বন্দর জেটিতে ভিড়েছে। চায়না থেকে আসা এ জাহাজটি সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে বন্দরের ৫ নম্বর জেটিতে ভিড়ে। এরপর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে শুরু হয়েছে কন্টেইনার খালাসের কাজ। 

বিদেশী এ জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট ওসান ট্রেড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ জাহিদ হোসেন জানান, গত ২৫ আগস্ট চায়নার সাংহাই বন্দর থেকে কন্টেইনার বোঝাই করে এ জাহাজটি ছেড়ে আসে। এরপর তাইওয়ান  ও মালয়েশিয়া হয়ে সোমবার দুপুরে মোংলা বন্দর জেটিতে ভিড়ে। ১৮৬ মিটার লম্বা এ জাহাজটির গভীরতা ৮ মিটার। সোমবার বন্দর জেটিতে ভিড়া এ জাহাজটি বন্দরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গভীরতা সম্পন্ন জাহাজ। এ জাহাজটিতে ৭ হাজার ২৪১ মেট্টিক টন ওজনের বিভিন্ন পণ্য বোঝাই ২৮৯টি কন্টেইনার এসেছে। 

তিনি আরও জানান, ১৯৫০ সালের ১১ ডিসেম্বর মোংলা বন্দরের যাত্রা শুরু হলেও মূলত ১৯৮৫ সালের নভেম্বর থেকে এ বন্দরে কন্টেইনারবাহী জাহাজ আগমন ও কন্টেইনার পণ্য বোঝাই-খালাস শুরু হয়। কিন্তু ৮ মিটার ড্রাফটের জাহাজ এর আগে কোনদিন বন্দরের নিজস্ব জেটিতে ভিড়েনি। আর আগে যা এসেছে তার সবই ছিলো ৭ মিটার গভীরতা সম্পন্ন কন্টেইনার জাহাজ। বন্দর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ড্রাফটের জাহাজই হলো এম,ভি এমসিসি টোকিও। এ জাহাজটিতে আসা আমদানী পণ্য বোঝাই এ কন্টেইনার খালাস শেষে এ বন্দর দিয়ে রপ্তানী পণ্য বোঝাই কন্টেইনার নিয়ে বুধবার আবারও চায়নার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। 

বন্দর জেটিতে  কন্টেইনারবাহী জাহাজ এমসিসি টোকিও

শিপিং এজেন্ট ওসান ট্রেড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ জাহিদ হোসেন বলেন, মূলত বন্দর চ্যানেলের আউটারবারের ড্রেজিং সম্পন্ন ও ইনারবারে ড্রেজিং চলার কারণেই ৮ মিটার গভীরতার এ জাহাজটি সরাসরি বন্দর জেটিতে আসতে পেরেছে। এটা বন্দরের জন্য একটা ইতিহাস ও বিশাল অর্জন বলে মনে করেন তিনি। 

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম মুসা বলেন, সোমবার দুপুরে এম ভি এমসিসি টোকিও বন্দরের ৫ নম্বর জেটিতে ভিড়ে বন্দরের সক্ষমতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এটা অধিক গভীরতার জাহাজ যা জেটিতে ভিড়ে নতুন ইতিহাসের রেকর্ড করেছে। আর এটি মূলত সম্ভব হয়েছে সম্প্রতি আউটারবার ড্রেজিং সম্পন্ন করতে পারায় এবং ইনারবার ড্রেজিং চলমান রাখার কারণে। তাই এখন থেকে এ বন্দরে বড় বড় অধিক গভীরতা সম্পন্ন জাহাজ অনায়াসে আসা-যাওয়া করতে পারবে। এখানে সেই ধরণের সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করা হয়েছে। বিদ্যমান সুযোগ সুবিধার কারণে দেশের বড় বড় মেগা প্রকল্পের মালামাল এ বন্দর দিয়ে আমদানি ও নতুন নতুন বিভিন্ন পণ্য বিদেশী রপ্তানিও বেড়ে গেছে।

ইত্তেফাক/ইআ