শুক্রবার, ০৯ জুন ২০২৩, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

চালের বস্তায় লিখতে হবে ধানের জাত

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:০৩

মিলে চাল ইচ্ছামতো ছাঁটাই করা যাবে না উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, ধানের যেটুকু ছাঁটাই করা যাবে, তার একটা রেশিও (অনুপাত) আমরা ঠিক করেছি। বেশি পোলিশের (ছাঁটাই) ফলে চালের একটা অংশ নষ্ট হয়। যেটা সারা দেশের মোট উৎপাদনের একটি বড় অংশ। এ কারণেও এটা আমরা নির্ধারণ করেছি। এছাড়া চালের বস্তায় বাধ্যতামূলকভাবে ধানের জাত লিখতে হবে। খুব শিগিগরই এ ব্যাপারে আইন হচ্ছে। এটা (আইন) পাশ হলে অনেকেই সোজা হয়ে যাবে।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ অংশ নিয়ে তিনি এ কথা জানান। আইনটির খসড়া মন্ত্রিসভার সম্মতির পর বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ে আছে বলেও জানান খাদ্যমন্ত্রী। সংগঠনের সভাপতি তপন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএসআরএফের সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ইচ্ছামতো চাল ছাঁটাই করা না হলে তখন আমরা আগের সেই চাল খেতে পারব। তাহলে প্যাকেট চালও বন্ধ হয়ে যাবে। এত ফাইন রাইস খাওয়ার অবস্থা থাকবে না। তিনি বলেন, মিনিকেট বলে কিছু নেই। মিনিকেটের উৎপত্তি জানলে আর এই নাম দিত না। একসময় ভারত থেকে চিকন চালের বীজ আনতাম মিনি (ছোট) প্যাকেটে করে। এই হলো মিনিপ্যাক। আমরা নাম দিয়েছি মিনিকেট চাল। ভোক্তা অধিকার এই মিনিকেট নাম উচ্ছেদ করতে অভিযান চালাতে পারে। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, যে আইন হচ্ছে, সেখানে বলা আছে ব্র্যান্ড নাম তারা (ব্যবসায়ীরা) যেটাই দিক, রজনীগন্ধা দিতে পারে, গোলাপফুল, জরিনা, সখিনা—নাম যা-ই দিক, কিন্তু ধানের জাতের নাম দিতে হবে।

চালের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কয়েক দিন আগে মিলমালিকদের এক সম্মেলনে আমি সতর্ক করেছি। তারা এখনো বলেন যে, মিলগেটে দাম বাড়াননি। তাদের বলা হয়েছে, তারা যেন মিলগেটের ওয়েবসাইট খোলেন। প্রতিদিন এখানে কোন চালের দাম কত, এটা তাদের দিতে হবে। পাইকারি ব্যবসায়ীদেরও এটা বলা হয়েছে।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের প্রকৃতি যেমন অস্থির, ব্যবসায়ীরাও অস্থির। ভারতে যখন ২০ শতাংশ রাজস্ব আরোপ করল, সেটা সব চালে নয়, আতপ চালে। এটা দেখে দাম বাড়ানো শুরু করেছে। এটা অনুচিত। তিনি বলেন, স্বল্প আয়ের মানুষের সুবিধার্থে প্রয়োজনে চাল আমদানি করে যদি সারা বছর ওএমএস চালাতে হয় আমরা অবশ্যই চালাব।

ইত্তেফাক/ইআ