বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সাদা শাপলা ফুলে ছেয়ে গেছে বাফলার বিল

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩:৫৫

ভোরের সূর্য ওঠার আগেই ফুটে আছে সারি সারি সাদা শাপলা। সকালের মৃদু বাতাসে দুলছে ফুলগুলো। বালিহাঁস, পানকৈৗড়ী, সাদাবকসহ বিভিন্ন অতিথি পাখির আগমনে মুখর হয়ে রয়েছে পুরো বিল। একদিকে পাখির কিঁচিরমিচির শব্দ অপর দিকে পুরো বিল জুড়ে সাদা শাপলা ফুলের ছড়াছড়ি। সারি সারি সাদা শাপলার সৌন্দর্য পথচারীদের মুগ্ধ করছে। 

এমনই চিত্র দেখা গেছে, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত রণচন্ডি ইউনিয়নে বাফলার বিলে। ইউনিয়নের বাফলা গ্রামের নামেই বিলটির নামকরণ করা হয়েছে বাফলার বিল। প্রায় ৩৫০ বিঘা খাসভুক্ত এ বিলে বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সৌন্দর্যের মেলা বসে। শীতের শুরুতে বসে পরিযায়ী পাখির মেলা। 

ডাহুক, পানকৌড়ি, সরালি, বালিহাঁসের জলকেলিসহ দেশীয় হরেক পাখির ওড়াওড়িতে মাতিয়ে তোলে পুরো বিল এলাকা। এমন মনোমুগ্ধকর সব দৃশ্য উদাসি করে তোলে সববয়সি মানুষকে। বর্ষায় বসেছে সাদা শাপলার মেলা। শুধু সৌন্দর্যের বেলাভূমি নয়, বিলের তলদেশে সারা বছর জুড়ে থাকে পানি। শুষ্ক মৌসুমে বিলের পানি কিছুটা শুকিয়ে গেলে সেখানে বোরো আবাদসহ নানা রবি শস্যর পসরা বসে। বাকি সময়  টইটম্বুর পানিতে ভরা বিলে থাকে হরেক প্রজাতির দেশীয় মাছের প্রাচুর্য। সারা বছর বিলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন স্থানীয়সহ হাজারো মৎস্যজীবী।

রনচন্ডি ইউপি চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান বিমান বলেন, এ বিলের ঐতিহ্য অতি প্রাচীন। প্রতি বছর এ বিলে ব্যাপক পদ্মের সমাহার ঘটে। শীতে অতিথি পাখির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। এলাকাটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। 

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম বারী পাইলট বলেন, গত বছর মৎস্য অধিদপ্তর থেকে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয় করে বিলটি খনন করা হয়েছে। বিলটি খননের কারণে একদিকে যেমন মৎস্যজীবীরা তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন। অপর দিকে বিলটি খননের ফলে সেখানে অতিথি পাখির অভয়াশ্রম সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে বিলটিতে সাদা শাফলা ফুটার কারণে অপরূপ সৌন্দর্য বিরাজ করছে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুর-ই আলম সিদ্দিকী  বলেন, বাফলা বিলের কিছু জমি ব্যক্তি মালিকানা দাবি করে কিছু মানুষ দখলে রেখেছে আমরা কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে দখলকৃত জমি উদ্ধার করব। ইতিমধ্যে আমরা অনেক জমি উদ্ধারও করেছি। বাকি জমি উদ্ধার শেষে বিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। তিনি আরো বলেন ইতিমধ্যে আমরা বিলের সৌন্দর্য রক্ষার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি।

ইত্তেফাক/এআই