রোববার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

তাহারা বিপদঘণ্টা শুনিতে পায় না

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪:৩০

ভারতের বিহার রাজ্যের মুশাহার নামক গ্রামের সাত বত্সরের ছোট্ট শিশু অমরজিৎ সদা। শিশু হিসাবে তাহার আদুরে কোলে থাকিবার কথা; কিন্তু না, সে এমন কাজ করিতে লাগিল, যাহা বিশ্বব্যাপী তাহাকে কুখ্যাতি আনিয়া দিল ‘দি ইয়ংগেস্ট সিরিয়াল কিলার অব দি ওয়ার্ল্ড’ হিসাবে। সাত হইতে আট বত্সর বয়স পর্যন্ত সে নিজের কয়েক মাস বয়সি শিশু-বোনসহ কমপক্ষে তিনটি শিশুকে ইট দিয়া মাথা থ্যাঁতলাইয়া হত্যা করিয়া নিভৃত স্থানে পুঁতিয়া ফালায়। টের পাইয়া তাহার পিতা-মাতাও এই অপকর্মের কথা লুকাইয়া ফালাইতে চেষ্টা করেন; কিন্তু শেষ রক্ষা হয় নাই। বিহারের পুলিশ তাহা ধরিয়া ফালায়।

তাহাকে পুলিশ জিজ্ঞাসা করে—‘তুমি কেন ইহা করিলে।’ উত্তরে সে হাসিয়া বলে, ‘বিস্কুট খাইব’। ভারতীয় আদালত অবশেষে তাহাকে ১৮ বত্সর বয়স না হওয়া পর্যন্ত কিশোর অপরাধ সংশোধনাগারে রাখিবার আদেশ দিয়াছে। এই শিশুর সাইকোলজি লইয়া ইউরোপ, আমেরিকা এমনকি মেক্সিকোর মনস্তত্ত্ববিদরাও কাজ করিতেছেন। কিশোররা যখন অপরাধ করে তাহা লইয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, এমনকি আদালতকেও মুশকিলে পড়িতে হয়। অথচ এমন সকল ঘটনা কোনো কোনো শিশু ঘটাইয়া থাকে যাহা পূর্ণবয়স্ক মানুষের চিন্তাকেও হার মানাইয়া ফালায়। তাই ফরাসি কিশোর অ্যাগনাস মারিসের বেলায়, অথবা কানাডার কিশোর কেভিন ম্যাডেনের অপরাধের ধরনের কারণে আদালত ‘লাইফটাইম প্রিজন’ না দেওয়ার কারণ খুঁজিয়া পান নাই। সুতরাং কিশোর অপরাধকে তুচ্ছ ভাবিবার কোনো উপায় নাই। 

বাংলাদেশে বিভিন্ন এলাকায় কিশোর অপরাধ দিনদিন বাড়িয়া চলিয়াছে। পূর্বে এই প্রবণতা কম থাকিলেও উত্তরোত্তর ইহা বাড়িয়াই চলিয়াছে। কিশোররা কোনো কোনো ক্ষেত্রে অর্থ, অস্ত্র ও মাদকে প্রলুব্ধ হইয়াও জড়াইয়া পড়িতেছে অপরাধে। অপরাধপ্রবণতার সহিত যখন লোভ জড়াইয়া যাইতেছে তখনই সমাজে কিশোররা বিপজ্জনক হইয়া উঠিতেছে। আমরা জানি, উঠতি অনেক ভিত্তিহীন ব্যক্তি রাজনীতিতে সম্কৃক্ত হইয়া কিশোরদের সহজে আয়ত্ত করিয়া লইতেছে। ইহা নিঃসন্দেহে উদ্বেগের কারণ। যেহেতু তাহাদের রাজনৈতিক ভিত্তি নাই, তাই তাহারা উঠতি বয়সের কিশোরদের ব্যবহার করিতেছে। আরো উদ্বেগের কারণ হইল, এই সকল কিশোর অপরাধী হয় আইনের মারপ্যাঁচে, অথবা অপরাধ করিয়া পার পাইয়া আবার অপরাধে জড়াইয়া পড়িতেছে; কিন্তু তাহারা বুঝিতে পারিতেছে না যে, এই অপরাধের কারণে তাহাকে এক সময় ধরা পড়িতেই হইবে।

হিন্দি ভাষাতেই একটি প্রবচন আছে, ‘খতের কি ঘণ্টে শোননা চাহিয়ে’। অর্থাৎ বিপদের ঘণ্টাধ্বনি শুনিতে হইবে। বাংলাদেশের মানুষের আধুনিক হইবার পাশাপশি প্রযুক্তির যে উন্নয়ন ঘটিয়াছে, তাহা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অধিক ভালো করিয়াই ব্যবহার করিতে শিখিয়াছে। সম্ক্রতি একটি ঘটনায় ৫০০ সিসি ক্যামেরা পরীক্ষা করিয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করিয়াছে। শুধু বাংলাদেশ কেন, অপরাপর দেশগুলিও প্রযুক্তিতে যোগাযোগ ক্ষেত্রে অনেক আগাইয়া গিয়াছে। এক দেশের অপরাধী আরেক দেশে পালাইয়া গিয়া পার পাইতেছে না, ধরা পড়িতেছে। বৃহস্কতিবার বাংলাদেশের একটি হত্যাকাণ্ডের সহিত জড়িত অভিযুক্ত ব্যক্তি ভারতের উত্তর প্রদেশের পুলিশের হাতে ধরা পড়িয়াছে। সুতরাং বুঝিতে হইবে, অপরাধ করিয়া পার পাওয়া যাইবে না, আজ হউক অথবা কাল অপরাধের কারণে শাস্তি ভোগ করিতেই হইবে। বিশেষ করিয়া কিশোরদের অনেকে ভবিষ্যত্ চিন্তা করিতে পারে না। তাই এই ভবিষ্যত্ তাহাদের পিতা-মাতাকে বুঝিতে হইবে।

ইত্তেফাক/কেকে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন