রোববার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

‘এসিল্যান্ড স্যারের সব টিকিট লাগবে’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৮:৪৮

এসিল্যান্ড স্যারের সব টিকিট লাগবে’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন নওগাঁর রাণীনগরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হাফিজুর রহমান। 

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই প্রতিবাদে বলা হয়, দৈনিক ইত্তেফাক (অনলাইন) ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে ‘সারাদেশ অংশে’ এসিল্যান্ড স্যারের সব টিকিট লাগবে শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদের গর্ভে আমি মাত্র ০৩ (তিন) টি টিকিট ক্রয় করেছি মর্মে উল্লেখ থাকলেও শিরোনামে ‘এসিল্যান্ড স্যারের সব টিকিট লাগবে’ উল্লেখ করা হয়, যা জনমনে এসিল্যান্ড সম্পর্কে বিরূপ ধারণা তৈরির প্রচষ্টার প্রমাণ বহন করে। একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে ০৩ (তিন)টি টিকিট ক্রয় করায় নিয়মের ব্যত্যয় হয়নি, তথাপি বিষয়টিকে এরূপ নেতিবাচক ও উদ্দেশ্যমূলক শিরোনামে উপস্থান করা একটি বহুল প্রচারিত ও প্রাচীন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার ক্ষেত্রে মোটেও কাম্য নয়। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। 

উল্লেখ্য, বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশনে ট্রেনের টিকিট কাটতে যান নওগাঁ জেলা শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেডি উচ্চবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোবারক আলী শেখ। টিকিট চাইলে রেল স্টেশনের কাউন্টারে দায়িত্বরত নারী ও তার ঊর্ধ্বতন অফিসার বলেন, ‘টিকিট নেই, সব টিকিট এসিল্যান্ড স্যারের লাগবে’। মর্মাহত হয়ে ঐ শিক্ষক চিঠি আকারে ঘটনাটি লেখেন। চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। 

একটি ওষুধ কোম্পানির প্যাডে তার নিজহাতে লেখা খোলা চিঠি ফেসবুকে পোস্ট করেন। পরে সেটি ভাইরাল হয়ে যায়।

ওই চিঠিতে মোবারক আলী শেখ লেখেন, ১১ সেপ্টেম্বর। সান্তাহার রেলওয়ে টিকিট কাউন্টার। দাঁড়িয়েছি সকাল ৬টা ২২ মিনিটে। এক নম্বর কাউন্টারে আমি প্রথম ব্যক্তি। আশা ছিল দুটা টিকিট পাব, এসি স্নিগ্ধা। ১৫ সেপ্টেম্বরের, ট্রেন কুড়িগ্রাম। ৮টায় টিকিট কাউন্টার খোলা হলো। টিকিট যিনি দিচ্ছেন উনি একজন মহিলা। বললাম, ‘মা’ আমাকে এসি দুটি টিকিট দেন। ওনার ওপরের বস একজন, যিনি টিকিট কাউন্টারের হেড। তার নির্দেশ মোতাবেক আমাকে টিকিট না দিয়ে, এসি স্নিগ্ধার সব টিকিট তার বসকে দিয়ে দিলেন। আমি কয়েক বার তাদের অনুরোধ করেও ব্যর্থ হয়েছি। আমার বয়স ৬৫ বছর পেরিয়েছে। আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। বসের কথা, রাণীনগরের এসিল্যান্ড স্যারের সব টিকিট লাগবে। তাই তিনি আমাকে দুটা টিকিট (এসি স্নিগ্ধা) দিতে পারবেন না। আমি অনেক দুঃখ পেয়েছি। কষ্ট পেয়েছি। বুঝাতে পারছি না নিজের মনকে। কাউন্টার থেকে বেরিয়ে বাসায় আসলাম। মোবারক আলী শেখ, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, নওগাঁ কেডি উবি।

ইত্তেফাক/এএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন