ফয়সাল হোসেন বাপ্পি পড়াশোনা করছেন চট্টগ্রাম কলেজে, মনস্তত্ত্ববিদ্যায়, স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে। তার কাজ পিছিয়ে পড়া মানুষকে নিয়ে। ২০১৭ সালে মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রয়াসে কয়েকজন বন্ধুসহ প্রতিষ্ঠা করেন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'ভিক্টোরি অব হিউম্যানিটি অর্গানাইজেশন'। শুরু থেকেই এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি।
দক্ষ নেতৃত্ব ও দূরদর্শীতায় তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলায় সংগঠনটি মানুষের জন্য ছুটে এসেছে সবসময়। ২০১৭ সালে সদ্য হাইস্কুলের গন্ডি পার হওয়া বাপ্পি রক্তদানের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করেন অনেক তরুণকে। স্কুলে থাকতে বিকশিত হতে আরম্ভ করে বাপ্পির নেতৃত্বের গুণ। স্কুল লাইব্রেরি স্থাপনের মধ্য দিয়ে হাতেখড়ি সাংগঠনিক কাজের। ধীরে ধীরে দক্ষ হতে থাকেন।
তার দক্ষ নেতৃত্বে সংগঠন যেমন পেয়েছে একাধিক সরকারি নিবন্ধনের স্বীকৃতি, তেমনি তিনি নিজেও বিভিন্ন সময় পেয়েছেন নানান সম্মাননা। পেয়েছেন মানুষের গ্রহণযোগ্যতা। সোশ্যাল কমিউনিটি ডেভেলপমেন্টে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় গতবছর পান 'আইভিডি বাংলাদেশ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড।' এর আগে ২০২০ সালে 'ইয়ুথ ক্যাডেট ফোরাম কুমিল্লা' তাকে দেয় আজীবন সম্মাননা।
তবে এসব অর্জনে গা না ভাসিয়ে এগিয়ে যেতে চান মানবতার কল্যাণে। বেকারত্ব দূর করতে স্থাপন করেছেন ভিক্টোরি আইটি একাডেমি। স্বপ্ন দেখেন, এখান থেকে সঠিক প্রশিক্ষণ নিয়ে তরুণরা আর বেকার থাকবে না। পিছিয়ে পড়া শিশুদের জন্য খুলেছেন ভিক্টোরি স্কুল। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়ানো হয় সেখানে। এছাড়া, ভিক্টোরি অব হিউম্যানিটি অর্গানাইজেশনের ব্যানারে গত পাঁচ বছরে লাকসাম উপজেলায় বাপ্পি ও তার টিম ছুটে গেছে অসহায়ের আর্তনাদে, সময়ে অসময়ে।
বাপ্পি বলেন, 'অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই আমৃত্যু। নিশ্চিত করতে চাই তারুণ্য যেনো সঠিক পথে থাকে। আমি যদি একজনের জীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে, তাহলে আমার দেখাদেখি আরও অনেকে অন্যান্য সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসবে।'
বয়সের স্রোতে গা ভাসিয়ে বিপথগামী না হয়ে এই তরুণ নিজেকে সঁপে দেন আর্ত মানবতার সেবায়। মনস্তত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা করা বাপ্পির বিষয়ের সঙ্গে মানসিকতার কী নিদারুণ মিল।
