রোববার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

রাঙ্গুনিয়ায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো বেহাল, চিকিৎসাসেবা ব্যাহত

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:৩২

রাঙ্গুনিয়ায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো বেহাল অবস্থায় রয়েছে। ফলে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয়রা। ভবনগুলো জরাজীর্ণ, ব্যবহারের অনুপযোগী, আবার কোনোটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে আছে। সরকারি কিংবা বেসরকারি পরিত্যক্ত ঘরে কোনো কোনো ইউনিয়নে নামমাত্র সেবা কার্যক্রম থাকলেও দেখা মেলে না চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহের ছয় দিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো খোলা থাকার কথা রয়েছে। নিয়ম অনুসারে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এক জন মেডিক্যাল অফিসার, এক জন উপসহকারি মেডিক্যাল অফিসার, এক জন ফার্মাসিস্ট এবং এক জন এমএলএসএস দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও নানা দুরাবস্থার কারণে তাদের কেউই দায়িত্ব ঠিক মতো পালন করতে পারেন না। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, সরফভাটা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি অনেক আগেই কর্ণফুলি নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। ক্ষেত্রবাজারের কাছে ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের একটি কক্ষে নামমাত্র চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার দেব প্রসাদ চক্রবর্তী বলেন, নিয়মিত সভা এবং উপজেলা সমন্বয় সভায় কর্তৃপক্ষের কাছে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর বিষয়ে অবহিত করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া  হয় না। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় চিকিৎসার জন্য প্রত্যন্ত এলাকার রোগীরা সরাসরি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন। 

সরফভাটার সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, হাসপাতালে নিয়মিত কোনো চিকিৎসক আসেন না। মাঝেমধ্যে একজন উপসহকারি মেডিক্যাল অফিসার এসে চিকিৎসাসেবা দেন। সরফভাটা ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, গত ৯ বছর যাবৎ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাক্তার আসেন না। কোনো চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমও নেই। বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ রোগীরা।   

বেতাগী ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি তালাবদ্ধ। সপ্তাহে ছয় দিনের মধ্যে চার দিনই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি তালাবদ্ধ থাকে বলে অভিযোগ স্থানীয় পান্থ নিবাস বড়ুয়ার। এছাড়া কোনো এমবিবিএস চিকিৎসক ছাড়াই চলছে হাসপাতালটির সেবা কার্যক্রম। এক জন স্বাস্থ্যকর্মী দিয়েই সারানো হয় এই কেন্দ্রের চিকিৎসা কার্যক্রম। মোহাম্মদ সিয়াম নামে হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী এলাকার এক বাসিন্দা জানান, সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার এই দুই দিন এক জন নারী স্বাস্থ্যকর্মী এসে বেতাগী উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা দেন। বাকী দিনগুলোতে হাসপাতাল তালাবদ্ধ থাকে। বছরের পর বছর এভাবেই চলে আসছে বেতাগী উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কার্যক্রম। উপজেলার শিলক, ধামাইরহাট, পোমরা, হোসনাবাদ ও পদুয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একইভাবে নামমাত্র কার্যক্রম চলছে। এতে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। 

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দেব প্রসাদ চক্রবর্তী বলেন, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে পোস্টেড মেডিক্যাল অফিসারদের অনেকে উপজেলা এবং জেলা হাসপাতালে কাজ করছেন। বেতাগী ও ধামাইরহাট উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডাক্তাররা দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন বলেও তিনি স্বীকার করেন।

ইত্তেফাক/ইআ