শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

কেন বার্সা ছেড়েছিলেন মেসি?

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩:১৮

লিওনেল মেসি আর বার্সেলোনা, সম্পর্কটা যেন হরিহর আত্মা। সেই সম্পর্কেই ছেদ পড়ে প্রায় দুই মৌসুম আগে। নিজের ঘর বার্সেলোনা ছেড়ে ফ্রান্সের ক্লাব পিএসজিতে যোগ দেন আর্জেন্টাইন তারকা। তবে নিজের ইচ্ছায় বার্সা ছাড়তে চাননি, ক্লাবের অর্থনৈতিক জটিওতার কারনেই বাধ্য হয়েছেন বার্সা ছাড়তে। 

সম্প্রতি বার্সেলোনা আবারও তাদের ঘরের ছেলেকে ঘরে ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছে। তবে সেসময় মেসিকে কেনো বার্সা ছাড়তে হয়েছিলো বা চেয়েছিলো সেটি নিয়ে নতুন করে সামনে এলো একটি তথ্য।

স্প্যানিশ পত্রিকা এল মুন্দো জানিয়েছে ২০২০ সালে মেসির সঙ্গে বার্সা বোর্ড চুক্তি নবায়ন করতে চাইলে তখন মেসি ৯টি শর্ত দিয়েছিলো। তক্ষণ সেগুলো নিয়ে বনিবনা না হওয়াতেই চুক্তি করা হয়নি দুই পক্ষের। সেই চুক্তি হয়ে গেলে আর বার্সা ছাড়ার প্রশ্নই আস্তো না মেসির জন্য। 

মেসি সেসময় যে ৯টি শর্ত দিয়েছিলো তার মধ্যে ৬টি শর্ত মেনে নিয়েছিলো বার্সা বোর্ড। ঝামেলাটয়া বাধে বাকি৩টি নিয়ে। দুটি চুক্তি মেনেই নেয়নি বোর্ড আর বাকি একটিও মানতে চেয়েছিলো শর্তসাপেক্ষে। 

চুক্তি নবায়নের জন্য বার্সা বোর্ডকে যে ৯টি শর্ত দিয়েছিল মেসি-

১. নতুন চুক্তি হবে ৩ বছরের।

২. কর্তিত বেতন সুদসহ ফেরত: কোভিড-১৯-এর কারণে ২০২০-২১ মৌসুমে ২০ শতাংশ বেতন কমানো হয়েছিল মেসিসহ সব ফুটবলারের। মেসির দাবি এর পুরোটাই ফেরত দিতে হবে। এর মধ্যে ২০২১-২২ মৌসুমে ১০ শতাংশ, ২০২২-২৩ মৌসুমে বাকি ১০ শতাংশ। শুধু বেতনের কেটে নেয়া অংশই নয় এর সঙ্গে ৩ শতাংশ সুদও দিতে হবে।

৩. নিজের ও সুয়ারেজের পরিবারের জন্য ক্যাম্প ন্যুতে প্রাইভেট বক্স।

৪. ক্রিসমাসের ছুটিতে পুরো পরিবার নিয়ে আর্জেন্টিনায় যাতায়াতের জন্য দিতে হবে প্রাইভেট বিমান।

৫. চুক্তি নবায়নের জন্য ১০ মিলিয়ন ইউরো বোনাস প্রদান করতে হবে।

৬. রিলিজ ক্লজের ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনা: ২০১৭ সালে করা সর্বশেষ চুক্তি অনুযায়ী মেসির রিলিজ ক্লজ ছিল ৭০ কোটি ইউরোর কাছাকাছি। নতুন চুক্তিতে রিলিজ ক্লজ একেবারে কমিয়ে আনার শর্ত দেন তিনি। ‘কমিয়ে আনা’ বলতে প্রায় বিলুপ্ত করে দেয়া। ৭০ কোটি ইউরো থেকে মাত্র ১০ হাজার ইউরো। অর্থাৎ চুক্তি থাকাবস্থায় কোনো ক্লাব চাইলে যেন বার্সাকে ১০ হাজার ইউরো দিয়েই নিয়ে যেতে পারে।

৭. বেতন বৃদ্ধি: স্পেন সরকার করের হার বাড়ানোয় বেতন বাবদ আয় কমে যাচ্ছিল মেসির। এ জন্য তিনি বেতন বৃদ্ধির দাবি করেন যাতে কর পরবর্তী আয় আগের চেয়ে কম না হয়।

৮. ব্যক্তিগত সহকারীর চুক্তি নবায়ন: বার্সেলোনায় মেসির ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন পেপে কস্তা। বার্সেলোনা যার যেতন পে-রোলে প্রদান করত। ক্লাবের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে তার কাজ বন্ধ করে দেয়ার পরিকল্পনা ছিল বার্সেলোনা বোর্ডের। মেসি শর্ত দেন কস্তার সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করতে হবে।

৯. নিজের ভাইয়ের জন্য কমিশন: মেসির ভাই রদ্রিগো বার্সেলোনার সঙ্গে কাজ করতেন ফুটবলারদের এজেন্ট হিসেবে। ওই সময় আনসু ফাতির এজেন্ট ছিলেন তিনি। মেসির শর্ত ছিল তার ভাইয়ের সঙ্গেও চুক্তি নবায়ন করতে হবে।

এই শর্তগুলোর মধ্যে রিলিজ ক্লজ কমানো এবং চুক্তি নবায়ন বাবদ ১০ মিলিয়ন ইউরোর শর্ত সরাসরি নাকচ করে দেন বার্সা প্রেসিডেন্ট। বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে জানানো হয়, যেহেতু ক্লাব তখন আর্থিকভাবে খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল তাই ক্লাবের আয় ১১০ কোটি ইউরো পার হওয়ার পরই বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হবে।

এই শর্ত তিনটি মেনে না নেওয়াতেই শেষ পর্যন্ত বার্সায় আর থাকতে চাননি মেসি ও তার পরিবার। ওই বছরই আগস্টের শেষ সপ্তাহে ক্লাবের কাছে বুরোফ্যাক্স পাঠিয়ে ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছার কথা জানানা মেসি। তবে তক্ষণ ক্লাব ছাড়ার সুযোগ না থাকাতে আরও এক মৌসুম ক্লাবে থেকে যান মেসি।

এল মুন্দোর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, তৎকালীন বার্সা প্রেসিডেন্ট জোসেফ মারিয়া বার্তোমেউ ২০২০ সালের ৪ মে মেসির বাবাকে চুক্তি নবায়নের জন্য যে প্রস্তাবপত্র পাঠায় সেখানে বলা হয়, চুক্তির মেয়াদ হবে এক বছর। এরপর প্রতিবছরই এটা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকবে, যদি না ৩০ এপ্রিলের মধ্যে মেসি ক্লাব ছাড়ার কথা বলেন।

চুক্তি নবায়নের জন্য মেসির ৯টি শর্তের বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া গেছে মেসির বাবা ও এজেন্ট হোর্হে মেসি, তার আইনজীবি জর্জ পেকোর্ট, তৎকালীন বার্সা প্রেসিডেন্ট জোসেফ বার্তোমেউ ও বার্সা সিইও স্কার গ্রাউয়ের মধ্যকার আদান-পরদান হওয়া মেইলের মাধ্যমে।

ইত্তেফাক/এসএস