শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সাফ ফুটবলজয়ী নিলা এখন কুষ্টিয়ার গর্ব

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৯:৩৪

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা বিজয়ী দলের খেলোয়ার নিলুফা ইয়াসমিন নিলা এখন কুষ্টিয়াবাসীর গর্ব ও অহংকার। তিনি কুষ্টিয়ার মেয়ে ও সাফ নারী ফুটবল টিমের সফল সদস্য। ক্রীড়াঙ্গনে সাফল্য দেখানো কুষ্টিয়ার অন্যান্যদের তালিকায় নারী খেলোয়াড় নিলা সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি মুখ উজ্জল করেছেন কুষ্টিয়াবাসীর। কুষ্টিয়ার মাটিতে বেড়ে উঠা নারী ফুটবলার দেশের মুখ উজ্জল করেছেন।

দরিদ্র পরিবারে বেড়ে উঠা ও সামাজিক কুসংস্কার-প্রতিবন্ধকতা ডিঙ্গিয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি অন্যান্য খেলাধুলাসহ ফুটবল খেলায় তিনি এখন সফল নারী খেলোয়াড় হিসাবে দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন। উদ্যমী ও সাহসী এই নারী ফুটবলারের সাফল্যে আনন্দে ভাসছে তার পরিবার ও এলাকাবাসী। 

রিক্সাচালক বাবা তার মাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর নিলুফার বয়স ছিল আড়াই বছর ও তার ছোট বোন সুরভী আক্তারের বয়স তখন ছিল মাত্র দেড়মাস। সাহস বুকে বেধে মা বাছিরন নিলুফারের নানী বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া এলাকায় কুঠিপাড়া চরে আশ্রয় নেন। তিনি শহরের একটি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে সামান্য বেতনে একটি চাকরী করেই দুই মেয়ে পড়া লেখা করান। 

সাফ ফুটবলজয়ী নিলুফা ইয়াসমিন নিলা

মায়ের ইচ্ছে মেয়ে দুটোকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে। নিলুফা ছোট বেলা থেকেই খেলাধুলায় ছিলেন পারদর্শি। স্কুলে পড়ার সময় থেকেই সে নানা খেলায় সাফল্য দেখিয়েছেন। উচ্চ লাফ, দৌড়সহ প্রায় সব ধরণের খেলায় পারদর্শিতায় নিলুফার মা বাছিরন মেয়েকে দেশের অন্যতম ক্রীড়াবীদ হিসেবে তৈরির ইচ্ছা পোষন করেন। তিনি মেয়ে নিলূফাকে উৎসাহ ও সাহস দিতে থাকেন। 

কুসংস্কারছন্ন সমাজে নিলুফাকে খেলোয়াড় বানাতে তার পরিবারকে নানা নেতিবাচক কথাও শুনতে হয়েছে বলে জানান তিনি। কুষ্টিয়া চাঁদসুলতানা স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করার পর মিরপুর উপজেলার আমলা সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন নিলুফা ইয়াসমিন নিলা। পরে খেলোয়াড় কোটায় ভর্তি হন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। 

কুষ্টিয়ার আরেক কৃতি সন্তান আবু ফাত্তাহ ছিলেন ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি শহরের কুঠিপাড়া এলাকায় নিলুফারের ফুটবল খেলা দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকে উৎসাহ দেন। ঢাকায় প্রশিক্ষন ও ভর্তিবাবদ যাবতীয় সহযোগিতা করেন তিনি ।

ফুটবলে সাফল্য দেখানো নিলুফা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পেয়েছিলেন অর্থ পুরস্কার। তা দিয়ে জমি কিনে জুগিয়া ফার্মপাড়ায় বাড়ি তৈরী শুরু করেছেন। তবে এখনও ঘরের দেয়াল প্লাস্টার করা হয়নি।

নিলুফারের মা বাছিরন জানান, আমার মেয়ে জাতীয় দলে ফুটবলার একথা এলাকার অনেকেই জানতেন না। এমনকি শহরেরও অনেকে জানতো না। কিন্তু সাফ নারী ফুটবলে শিরোপা লাভের পর থেকে আমার বাড়িতে অনেক সাংবাদিক, এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি, পৌর কাউন্সিলরসহ অনেকেই আসছেন। আগেই যারা নিলুফাকে নিয়ে নেতিবাচক কথা বলেতেন, তাদের অনেকে ক্ষমাও চেয়েছেন।

কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র শাহিন উদ্দিন নিলুফার বাড়ি যাওয়ার পথটি নিজ খরচে আছাগামুক্ত ও চলাচল উপযোগী করেছেন। এছাড়া তার বাড়ির উঠানের পানি নিষ্কাশন ও জলবদ্ধতা নিরসনে বালু ফেলে উঁচু করে দিয়েছেন। এতে নিলূফার মা বাছিরন আক্তার বেশ খুশী।

কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র শাহিন উদ্দিন ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, আমরা তার পরিবারের পাশেই আছি এবং থাকবো। নিলা আমাদের এলাকার গর্ব। সে এখনো ঢাকায় আছে। আমরা তাকে বরন করার অপেক্ষায় আছি। যেদিন সে ঢাকা থেকে আসবে তাকে নিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হবে, আন্নন্দ উল্লাস করবো। ইতোমধ্যে আমরা প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছি। 

সাফ ফুটবলজয়ী বাংলাদেশ দল

তিনি আরো বলেন, আমাদের কুষ্টিয়ার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে কোন খেলার মাঠ নেই। ইতোমধ্যে আমাদের সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাদের একালার খেলোয়ারদের জন্য সরকারি খাস জায়গা থেকে মাঠ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী জানান, নিলুফার ইয়াসমিন নিলার সাফল্যে আমরা কুষ্টিয়াবাসী গর্বিত। গর্বিত এই নারী খেলোয়াড়ের পাশে জেলা ক্রীড়া সংস্থা সব সময় থাকবে বলে তিনি জানান।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামের জানান, কুষ্টিয়ার নারী ফুটবলার নিলুফার সাফল্যে আমরা গর্বিত। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মামনা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

ইত্তেফাক/এএইচপি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন