শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

উপজেলা চেয়ারম্যানের ‘মারধরে’ আহত ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৮:০৭

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ ও তার সহযোগীদের মারধরে আহত ছাত্রলীগ নেতা জামিউল ইসলাম জীবন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়। রামেক হাসপাতালের আইসিইউ’র ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল জীবনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

তিনি বলেন, ‘চিকিৎসাধীন জীবনের মাথায় রক্ত জমাট বেধে ছিল। শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে, অপারেশন করা যায়নি। মূলত সে কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।’

নিহত জীবনের পরিবার জানায়, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নলডাঙ্গা উপজেলার আমতলী বাজারে জীবন ও তার পিতা ফরহাদ হোসেনকে ডেকে নেন উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে চেয়ারম্যান আসাদ ও তার সহযোগীরা বাবা-ছেলেকে বেধড়ক মারধর করেন। পরে গুরুতর অবস্থায় বাবা-ছেলেকে প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে এবং ওইদিন রাতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরদিন (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জীবনকে রামেক হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে চিকিৎসকরা জীবনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে জীবন ও তার বাবাকে মারধরের পরদিন (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জীবনের মা জাহানারা বেগম বাদী হয়ে নলডাঙ্গা থানায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও তার দুই সহোদরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। 

অন্যদিকে নাটোর ডিবি পুলিশ মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে রাজশাহীর পুঠিয়া এলাকা থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামানের ভাই আলীম আল রাজী শাহকে গ্রেফতার করে। রাতেই তাকে নলডাঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়। 

নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, মামলার প্রধান অভিযুক্ত উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামানসহ তার অপর আরেক ভাই পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে। 

তবে এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান পলাতক রয়েছেন। তার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।  

ইত্তেফাক/এনএ