রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

রংপুর মেডিক্যালের ১৬ সদস্যকে বদলি

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:২৮

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ১৬ জন কর্মচারীকে বদলি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক শামিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি আদেশে তাদের বদলি করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন,অধ্যাপক ডা. মো. সামিউল ইসলাম, পরিচালক প্রশাসন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মহাখালি ঢাকা। তিনি স্বারক নম্বর স্বাস্থ্য বিধিমালা ৩/ বিধি/বদলি-১১০/২০২২/৩৯২৬/১(৯) ও একই স্মারকে ৩৯২৭ দুটি বদলি আদেশ জারি করেছেন।

এতে বলা হয়, আদেশ জারির সাত দিনের মধ্যে তাঁদের বদলি করা কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। এই আদেশ মানা না হলে পরদিন থেকে তাঁরা সরাসরি অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে গণ্য হবেন।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বিভাগের রেজিস্টার ইত্তেফাককে বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে এই ১৬ জনের বদলির আদেশ জারি হয়েছে। মেডিক্যালজুড়ে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় আরো যারা জড়িত আছেন তাদের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেডিকেল কলেজের বদলি হওয়া ওই ১৬ জন কর্মচারী হলেন হাসপাতালের অফিস সহায়ক আল আমিন ইসলাম, হামিদুল ইসলাম, মোর্শেদ হাবীব, শাহজাদা মিয়া, আবু জাফর, সিরাজুল ইসলাম, বিউটি আক্তার, বসুনিয়া, ভানুরাম সরকার, নুরুজ্জামান, রইস উদ্দিন, মোহিত আল রশীদ ওরফে উদয়, ওয়ার্ড মাস্টার আবুল হাসান, স্টেনো টাইপিস্ট আবদুল আলীম, নিরাপত্তাপ্রহরী রহমত আলী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী হাছিনা বেগম। তাদের বিভিন্ন জেলা হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে।

এদিকে, গত সাত দিন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এমনটা জানা গেছে। ২১ দিন স্ত্রীর চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে রিলিজ (ছাড়পত্র) নেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মধুর হাইল্যা গ্রামের রফিকুল ইসলাম। গত বৃহস্পতিবার বিকালে হাসপাতাল ছাড়েন তিনি। এ সময় তাকে বিভিন্নজনকে সাড়ে ৩’শ টাকা বকশিস দিতে হয়েছে।

কুড়িগ্রামের চিলমারী এলাকার তারা মিয়া বলেন, আমার ছেলে লিটনকে গতকাল শুক্রবার রাত ১০-১১ টার দিকে ভর্তি করাই। এসমন সময় ভর্তির জন্য নিছে ১০০ টাকা, ঠেলাগাড়ির জন্য (ট্রলি) নিছে ২০০ টাকা।তারা মিয়ার অভিযোগ, এটা কোন কথা হইলো। তাইলে ওমরা কী বেতন ট্যাতন পায় না। আমারগুলের ভরসায় থাকে...।

লালমনিরহাটের পাড়া গ্রামের আলী আকবর বলেন, গত  বৃহস্পতিবার আমার ভাইকে ভর্তি করেছি। ভর্তির জন্য নিয়েছে ১০০ টাকা। আর ট্রলির জন্য নিয়েছে ১৫০ টাকা। এটা কেন নেয় জানি না। প্রথমে কিছু বলে না। রোগি নিচ থেকে উপরে নিয়ে যাওয়ার পর বলে, মামা এত কষ্ট করলাম বকশিস দেন। পরে তাদের দিয়ে দেই।প্রথমে ২০০ টাকা দাবী করছিল পরে ১৫০ টাকা দিয়েছি।

রংপুরের তারাগঞ্জের সোহেল রানা বলেন, ২২ তারিখ আমার বোনকে ভর্তি করিয়েছি। ভর্তিতে নিছে ১০০ টাকা আর ট্রলির জন্য নিয়েছে ১২০ টাকা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিন এই হাসপাতালে সর্বনিম্ম নতুন রোগি ভর্তি হয় ২৫০ জন। সর্বোচ্চ ৪৫০ জন ভর্তি হয়।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৩৭ ও ২৩ সেপ্টেম্বর ভর্তি হয়েছেন ২৫৯ জন রোগী।

রংপুর মেডিক্যাল হাসপাতালের পরিচালক ডা. শরীফুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা হাসপাতালে প্রবেশ করে তারা আমার মতে ট্রেইড না (ট্রেনিং প্রাপ্ত না) হসপিটাল সিসটেম সম্পর্কে বা বিধি বিধান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকার কারণে এ ধারনের কার্যক্রমে উৎসাহিত হচ্ছে।তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে পরিচালনা পরিষদে কথা বলেছি। এখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে হাসপাতাল তীক্ষ্ণ তদারকি থাকবে। মানুষ যেন হয়রানীর শিকার না হন, চিকিৎসা সেবা পান সে বিষয়ে সবাইকে বলা হয়েছে।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অর্থোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক এবিএম রাশেদুল আমীর তার মাকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করাতে গিয়ে ‘বকশিস’ বাণিজ্যের কবলে পড়েন। বিব্রত এই চিকিৎসক বিষয়টি লিখিতভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক হৈচৈ পড়ে এবং রংপুরে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত দুই চুক্তিভিক্তিক কর্মচারী মাসুদ ও ঝর্ণাকে বহিস্কার ছাড়াও তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ডাক্তার দের মানব বন্ধন প্রতিবাদ সভা করে।

ইত্তেফাক/কেকে