বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:৪০

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রতিদিনই অসংখ্য ব্যক্তি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে। গতকাল বুধবার চট্টগ্রামে নতুন করে ৩৩ জন আক্রান্ত হয়েছে। জেলার চেয়ে নগরীতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। গত জানুয়ারি থেকে এই পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৫৩৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। গতকালও নগরীর লালখান বাজার এলাকার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এক শিশু মারা গেছে। নগরবাসীর অভিযোগ ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়লে নগরীতে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম নিয়ে হতাশাব্যঞ্জক। মাঝেমধ্যে নালায় কিছু ওষুধ ছিটানো হলেও এডিস মশার আবাসস্থল বাসাবাড়ি ও আশপাশের জলাবদ্ধ স্থানে মশক নিধনের কোনো কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না।

চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট বিআইটিআইডির সহযোগী অধ্যাপক ডা. মামুনুর রশিদ বলেন, বর্তমানে নতুন করে যারা আক্রান্ত হচ্ছে তাতে এ ধরনের পরিবর্তন  দেখা যাচ্ছে। কাঁপিয়ে জ্বর আসছে, পুরো শরীর ব্যথা, শরীর লালচে বর্ণের হয়ে যাচ্ছে। আমরা বহির্বিভাগের আসা রোগীদের পরীক্ষা করে ডেঙ্গু শনাক্ত হলে ভর্তি নিচ্ছি। এখন ১১ জন ভর্তি আছে।’

গত আগস্ট থেকে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নগরী ও জেলায় প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ জন নারী, পুরুষ ও শিশু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে। গতকাল নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় এক শিশু মারা গেছে। চট্টগ্রামে এই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে চার জন মারা গেছে। মৃত্যু ও আক্রান্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ বেড়েছে। চট্টগ্রামে প্রতিদিনই থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। এতে এডিস মশার প্রজনন ছড়াচ্ছে।

জানা গেছে, নগরীর হালিশহর, পতেঙ্গা, বন্দর, পাহাড়তলী, ডবলমুরিং, মোগলটুলি, খুলশী, বায়েজিদ এলাকা থেকে ডেঙ্গুতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। নগরীতে এই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্তরা এসব এলাকার বাসিন্দা। এডিস মশার লাভা ধ্বংসে সিটি করপোরেশন কার্যক্রম চলছে ঢিমেতালে। গত কয়েক দিন আগে চসিক নগরীর ছয়/সাতটি বাসাবাড়িতে অভিযান চালিয়ে কয়েক হাজার টাকা জরিমানা করেছে। অথচ ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিনই অভিযান চালানো প্রয়োজন। মাঝেমধ্যে দেখা যায় নালায় কিছু ওষুধ ছিটানো হয়। তবে নগরবাসীর অভিযোগ অধিকাংশ এলাকায় সিটি করপোরেশনের মশার ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম দেখা যায় না। ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আশপাশের এলাকায় মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।

সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হাশেম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। স্প্রে ও ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বিশেষজ্ঞ যে ভেষজ ওষুধ ব্যবহারের সুপারিশ করেছিল তা কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান দ্বারা প্রমাণিত নয়। আমরা আইইডিসিআর ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে চিঠি দিয়ে মতামত চেয়েছি। বর্তমানে আমরা যে অ্যাডাল্টিসাইট ও লার্ভিসাইট ব্যবহার করছি।

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব অনুসন্ধানে গত ১৮ সেপ্টেম্বর আইইডিসিআরের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল চট্টগ্রামে আসে। তারা আক্রান্তদের কাছ থেকে রক্তের নমুনা, লার্ভা সংগ্রহ ও আক্রান্তদের বসবাসের এলাকা পরিদর্শন করেছেন। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃষ্টি বন্ধ হলে হয়তো পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। সিটি করপোরেশন মশক নিধনের কাজ করছে।’

 

ইত্তেফাক/ইআ