শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ইউএই-সুদান চুক্তি বাতিল করতে চায় চীন

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৮:৫৫

নতুন একটি বিনিয়োগ চুক্তির অংশ হিসেবে সুদানের লোহিত সাগর অঞ্চলে একটি বন্দর নির্মাণ করতে চায় সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। সুদানের সামরিক শাসক ওমর আল বশিরের শাসনের অবসানের পর এই প্রথম এধরনের উল্লেখযোগ্য বিদেশি বিনিয়োগ হচ্ছে দরিদ্র এই দেশটিতে। কিন্তু চীন এই প্রকল্প থেকে সরে আসার জন্য সুদানের উপর চাপ দিচ্ছে। ফাইনান্সিয়াল পোস্টের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।    

৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের চুক্তিটি পোর্ট সুদানে প্রথম বিদেশি বিনিয়োগ। প্রস্তাবিত আবু হামামা বন্দরটি পোর্ট সুদান থেকে ২০০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। এই প্রকল্পের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য, দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরের আদলে একটি শিল্প অঞ্চল এবং ছোট একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অন্তর্ভুক্ত থাকবে।  
 
সুদান হর্ন অব আফ্রিকায় অবস্থিত একটি দেশ। ভৌগোলিক সুবিধা থাকা সত্ত্বেও, দেশটি এখনও পর্যন্ত বিশ্বের ব্যস্ততম সমুদ্রপথকে কাজে লাগাতে পারেনি। অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ এবং জাতিগত দ্বন্দ্বে জর্জরিত দেশটির প্রধান বন্দর পোর্ট সুদান থেকে এখনো পর্যন্ত পর্যাপ্ত রাজস্ব আয় করতে পারেনি।    

আরব আমিরাতের এই বিনিয়োগের ফলে দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতির উন্নতি ঘটবে। এই বন্দর প্রকল্পের ফলে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া পর্যটনের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এই বিনিয়োগের ফলে সুদানের অন্যান্য অঞ্চলও উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।    

এদিকে প্রস্তাবিত এই প্রকল্পে বাধা সৃষ্টি করছে চীন। এই চুক্তি থেকে সরে আসার জন্য সুদান সরকারের উপর চাপ দিচ্ছে দেশটি।

ফাইনান্সিয়াল পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, 'বেইজিং জানে কিভাবে কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে আফ্রিকান অঞ্চলের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সামরিক নেটওয়ার্ককে পর্যাপ্তভাবে শোষণ এবং এতে অনুপ্রবেশ করতে হয়। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে করা চীনা বিনিয়োগ থেকে এটি প্রমাণিত হয়। উদাহরণ হিসেবে জিবুতির কথা বলা যায়। হর্ন অব আফ্রিকার ছোট কিন্তু কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দেশটিতে চীনের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। বিদেশের মাটিতে এটিই চীনের প্রথম সামরিক ঘাঁটি।'

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, চীন তার বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) মাধ্যমে আফ্রিকায় বাজার একচেটিয়াকরণ করতে চায়।  

সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার মাধ্যমে চীন আফ্রিকার দেশগুলোকে প্রলুব্ধ করে ঋণের ফাঁদে ফেলছে। দারিদ্র্যপীড়িত সুদানও এর ব্যতিক্রম নয়।

সুদানের উপর চীনের বিশাল ঋণের বোঝা রয়েছে। দেশটির কাছে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ পাওনা রয়েছে চীনের। এটিকে কাজে লাগিয়ে এই বন্দর প্রকল্প থেকে সুদানকে সরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে চীন। 

ইত্তেফাক/এএইচপি