বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পিরোজপুর ১২ তলা জেলা হাসপাতাল ভবনের সাততলা নির্মিত, বাকিটা নিয়ে অনিশ্চয়তা

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২২, ০১:০২

পিরোজপুর জেলা হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ প্রকল্পে নির্মিত হচ্ছে ১৭৩ শয্যার অবকাঠামো। ৩৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের ১২ তলাবিশিষ্ট মূল ভবনের বেসমেন্টসহ সাততলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ সমাপ্তির পথে। তবে মূল ভবন ১২ তলার বাকি পাঁচতলার নির্মাণকাজ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

স্থায়ী ২৪টি আধুনিক কেবিনসহ বিশেষায়িত চিকিৎসার সুবিধা ছাড়াই ১৯০ শয্যার জেলা হাসপাতাল নিয়ে পিরোজপুরবাসীকে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। ২০১৮ সালের শেষে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। গণপূর্ত বিভাগ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে জেলা হাসপাতাল নির্মাণে সাততলার অনুমোদন পায়। যেখানে বেসমেন্টসহ ঊর্ধ্বমুখী সাততলার নির্মাণকাজ প্রায় শেষের পথে। অনুমোদিত নকশার সাততলার কার্যাদেশে উল্লিখিত মেয়াদে গত ২০২০ সালে এপ্রিলে সম্পন্ন হওয়ার শর্ত ছিল। গণপূর্ত বিভাগের আশা ছিল বাকি কাজ ২০২১ সালের ডিসেম্বর নাগাদ শেষ হওয়ার। এই সাততলার মধ্যে ইমার্জেন্সি ব্লক, ডক্টরস ব্লক, অপারেশন থিয়েটারসহ জেনারেল বেড থাকলেও স্থায়ী কেবিন থাকছে না।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম তৌহিদুল ইসলাম জানান, ‘হাসপাতালের মূল ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় সমাপ্তির পথে। ৭ম তলা পর্যন্ত নির্মিত ভবনে ১৭৩টি শয্যা থাকছে। নিচতলায় ইমার্জেন্সি ও সার্ভিস ব্লকে আটটি শয্যা, ১ম তলায় আউট পেশেন্ট বিভাগ, ২য় তলায় রেডিও ডায়াগনস্টিক ও প্যাথলজি, তৃতীয় তলায় প্রশাসনিক ও অন্যান্য, চতুর্থ তলায় ১৯ শয্যাবিশিষ্ট ওটি কমপ্লেক্স, পঞ্চম তলায় ৩৮ শয্যাবিশিষ্ট গাইনি ও অবস্ বিভাগ, ৬ষ্ঠ তলায় ৫৪টি শয্যা এবং সপ্তম তলায় ৫৪টি শয্যা থাকবে। ঊর্ধ্বমুখী আরো অষ্টম তলায় ৫৪ শয্যাবিশিষ্ট ওয়ার্ড, নবম তলায় ২২ শয্যাবিশিষ্ট কেবিন ও দশম তলায় আরো ২২ শয্যাবিশিষ্ট কেবিন থাকবে। হাসপাতালটি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট করতে ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করে সার্ভিস বিল্ডিং, ১০ শয্যাবিশিষ্ট আইসিইউ, ২০ শয্যাবিশিষ্ট আইসোলিশন সেন্টার, পিসিআর ল্যাব, ডায়ালাইসিস ইউনিট ও বার্ন ইউনিট স্থাপনের প্রস্তাবনা রয়েছে।’      

জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. নিজাম উদ্দিন ইত্তেফাককে জানান, ‘সাততলার ভবনে আইসিইউ, সিসিইউ, ডায়ালাইসিস, গাইনি, মেডিসিন, মহিলা, অর্থপেডিকস্, চক্ষু, সার্জারি, ইএনটি, কার্ডিওলজি ইত্যাদি বিভাগের সুযোগ থাকবে অপর্যাপ্ত। থাকবে না স্থায়ী কোনো কেবিন সুবিধা।’ এ ব্যাপারে গণপূর্ত অধিদপ্তরের পিরোজপুরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সুলতান মাহমুদ সৈকত বলেন, ‘চিকিৎসাসেবার অপরিহার্য বিভাগগুলোর সুযোগ রেখেই সাততলা হাসপাতালের কাজ শেষ করার পর্যায়ে। ১২ তলার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পত্র দেওয়া হয়েছে। ২৪টি স্থায়ী কেবিন, করোনা ওয়ার্ডে আইসোলেশন  ও কোয়ারেন্টাইন সেন্টার, কিডনি ডায়ালেসিসসহ বিভিন্ন সুবিধাবহুল পরিসর রাখার প্রস্তাব এ পত্রে উল্লেখ রয়েছে।’ গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সুলতান মাহমুদ সৈকত জানান, ‘১২ তলা পর্যন্ত হাসপাতাল ভবনের কাজ সম্পন্ন করতে যে অর্থের প্রয়োজন তা বিশ্বব্যাংক থেকে অনুদান হিসেবে প্রাপ্তির প্রক্রিয়া রয়েছে। ’

 

 

ইত্তেফাক/ইআ