বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সিলেটে বসানো হবে ৫০ হাজার প্রিপেইড গ্যাস মিটার 

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২২, ০২:১০

গ্যাসের অপচয় রোধে সিলেট নগরীতে ৫০ হাজার প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হবে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে মিটারিং স্থাপনের কাজ শেষ হবে। প্রাথমিকভাবে তারা সিলেট নগরীর হাউজিং এস্টেট ও উপশহর এলাকায় প্রিপেইড মিটার স্থাপন করবেন। এ বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে এ দুটি স্থানে মিটার স্থাপন করা হবে। এ দুটি স্থানে পাইলটিংয়ের পর নগরীতে আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে বৃহত্ আকারে মিটার স্থাপনের কাজে হাত দেওয়া হবে।

জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেমস লিমিটেড (জেজিটিডিএসএল) এ লক্ষ্যে জেজিটিডিএসএল এবং দি কনসোর্টিয়াম অব জেনার মিটারিং টেকনোলজি (সাংহাই) লিমিটেড ও হেক্সিং ইলেকট্রিকেল কোম্পানি লিমিটেড, চায়নার সঙ্গে রবিবার একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তির আওতায় ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) ও সিলেট সদর উপজেলার ৫০ হাজার গ্রাহক প্রিপেইড মিটারের আওতায় আসবে।

গত রবিবার জালালাবাদ গ্যাস ভবনে আয়োজিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জেজিটিডিএসএল-এর পক্ষে কোম্পানি সচিব মো. শহিদুল ইসলাম এবং হেক্সিং ইলেকট্রিক্যাল-এর রিজিওনাল সিইও লিও জু (Leo Xu)  নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় জালালাবাদ গ্যাসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) প্রকৌশলী শোয়েব মতিন (Eng Shoaib Ahmed Matin), প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী লিটন নন্দীসহ সংশ্লিষ্ট পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জালালাবাদ গ্যাসের এমডি বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে জালালাবাদ গ্যাসের ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হলো। তিনি বলেন, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দীর্ঘ ১৯ মাসের প্রচেষ্টার পর মিটার স্থাপনের জন্য চায়না কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হলো। ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে মিটারিং স্থাপনের কাজ শেষ হবে বলে  আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।  এর মাধ্যমে আমাদের গ্রাহকরা উপকৃত হবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

হেক্সিং ইলেকট্রিক্যাল-এর রিজিওনাল সিইও লিও জু বলেন, বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডসহ এ দেশে অনেক প্রকল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। তারা দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে এ কাজে নিয়োজিত। সিলেটে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কাজ নির্ধারিত সময়েই শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রকল্প পরিচালক লিটন নন্দী জানান, আবাসিকে গ্যাসের অপচয় রোধ এবং গ্রাহকদের বিল-সাশ্রয়ে মূলত এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তারা সিলেট নগরীর হাউজিং এস্টেট ও উপশহর এলাকায় প্রিপেইড মিটার স্থাপন করবেন। এ বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে এ দুটি স্থানে মিটার স্থাপন করা হবে। এ দুটি স্থানে পাইলটিংয়ের পর নগরীতে আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে বৃহত্ আকারে মিটার স্থাপনের কাজে হাত দেওয়া হবে। 

তিনি জানান, জালালাবাদ গ্যাসের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের বিনা মূল্যে মিটার লাগিয়ে দেওয়া হবে। মিটারের মূল্য মাসিক ভাড়া হিসেবে সমন্বয় করা হবে। তিনি বলেন, এটি কন্টাক্টলেস স্মার্ট কার্ডভিত্তিক উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন গ্যাস পরিমাপের মিটার। নিকটস্থ রিচার্জ পয়েন্ট থেকে স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে ক্রেডিট কিনে প্রিপেইট মিটার রিচার্জ করা যাবে। রিচার্জ শেষ হলেও এতে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্সের সুবিধা থাকবে বলে জানান তিনি।  তিনি বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামে প্রিপেইড গ্যাস মিটার থাকলেও সিলেটে প্রথমবারের মতো চালু করা হচ্ছে এ পদ্ধতি।

ইত্তেফাক/ইআ