ফিফা টায়ার ওয়ান প্রথম প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশ ১-০ গোলে কম্বোডিয়াকে হারিয়ে নেপালের যায় দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে। সেখানে গিয়ে নেপালের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ফুটবলাররা বোনাস দাবি করেছিলেন। কম্বোডিয়াকে হারিয়ে বোনাস দাবির চাপে মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছিলেন দলের ম্যানেজার ইকবাল হোসেন। বারবার বলেছিলেন আগে তোমরা খেল। বোনাস নিয়ে পরে কথা বলা যাবে। সেটা খেলোয়াড়দের মধ্যে সাড়া ফেলেনি। ইকবাল ঢাকায় ফুটবল ফেডারেশনে ফোন করে জানিয়েছিল খেলোয়াড়রা বোনাস চাইছেন। খেলোয়াড়দের বোনাস চাওয়ার কথাটা কেন উঠল বাফুফের কোনো কর্মকর্তাই বুঝে উঠতে পারছিলেন না। তারাও হতভম্ব। বাফুফের সহসভাপতি আতাউর রহমান মানিক নিজেও বুঝে উঠতে পারছেন না বোনাস দেওয়া বিষয়টি কেন উঠল। ম্যানেজার ইকবাল বললেন, ‘নেপাল ম্যাচের আগে বোনাস চেয়েছিলেন খেলোয়াড়রা।’
কথাটা এতদিন চাপা ছিল। বোনাস চাওয়ার বিষয়টা নিয়ে সম্প্রতি বেশ কথা হচ্ছে। ইকবাল বললেন, ‘নেপালের সঙ্গে জিতে যদি বোনাস চাইত তাহলে আমিও ফেডারেশনকে জোর করতে পারতাম। কিন্তু খেলার আগে বোনাস চাওয়ার বিষয়টি আমার কাছে একটু বেমানানই মনে হচ্ছে। আমিও ফুটবল খেলেছি। দেখেছি খেলার আগে কর্মকর্তারা নিজ উদ্যোগে বোনাস ঘোষণা করেন। আর খেলোয়াড়রা বোনাস চাইলে সেটি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আবদার করেছি। আর কম্বোডিয়া এবং নেপালের বিপক্ষে ছিল প্রীতি ম্যাচ। এটা কোনো টুর্নামেন্টের খেলা না।’
বাফুফের সহসভাপতি মানিকও একই কথা বলছিলেন, ‘জেতার পর বোনাস চাইতে শুনেছি। কিন্তু খেলার আগে বোনাস চাওয়ার বিষয়টা আমার কাছেও খটকা লেগেছিল।’
নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশ ফুটবল দলের পারফরম্যান্স দেশের ফুটবল দর্শকদের লজ্জা দিয়েছে। নেপালে আহামরি কোনো ফুটবল খেলেনি। অথচ তারা মাঠে নেমে ছোঁ মেরে ৩ গোল করল, হ্যাটট্রিক করল এবং ম্যাচটা নিয়ে ঘরে চলে গেল। রহমত মিয়া, টুটুল হোসেন বাদশা, গোলকিপার জিকো, হেমন্ত ভিনসেন্ট, রিমন হোসেন, রাকিব হোসেন, জামাল ভুইয়ারা তাদের পারফরম্যান্স দিয়ে হূদয় রক্তাক্ত করেছেন। মাত্রই নারী ফুটবল দল দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনে দেশকে আনন্দে ভাসিয়েছেন। আর পুরুষ ফুটবলাররা ভালোর চেয়ে বাজে খেলা খেলে দেশের মানুষকে হতাশ করেছেন।
ফুটবল ফেডারেশনও বুঝতে পারছে সামনে খেলোয়াড় দলবদল। সব ফুটবলারই পছন্দের ক্লাবের সঙ্গে কথা বলে পারিশ্রমিক নিয়েছেন। এখন ফুটবলারদের মন সেদিকে। জাতীয় দলের খেলা খেলতে গিয়ে যদি কোনো অঘটন ঘটে, তাহলে খেলোয়াড়রা ক্ষতির মুখে পড়বে। মুখে না বললেও বাফুফের শীর্ষ কর্তারা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন খেলোয়াড়রা পা বাঁচানো ফুটবল খেলতে গিয়ে নেপালের কাছে মাথা নত করেছেন। নেপালের বিপক্ষে ৩ গোলে হারের মতো দল ছিল না এটি। যারা খুব কাছ থেকে দেখেছেন এটি তাদেরই মতামত।
বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন সেদিন লিগ কমিটির সভা শেষে পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে তার প্রশ্ন আছে। সালাহউদ্দিন কোনো দিনই তার খেলোয়াড়দের নিয়ে এমন প্রশ্ন করেননি। এবারই প্রথম বাফুফের সভাপতির কণ্ঠে পারফরম্যান্স নিয়ে কথা উঠল। সালাহউদ্দিন হতাশ। কারণ বারবার বলে আসছেন আমি মাঠে খেলে দিতে পারব না। তোমাদের যতরকম সহযোগিতা দরকার আমি আমার আমাদের বাফুফে হতে দেওয়ার চেষ্টা করব। কিন্তু খেলে দিতে পারব না। মাঠের খেলাটা তোমাদেরই খেলতে হবে।’ কিন্তু সভাপতির এই কথায় খেলোয়াড়দের মন গলে না। অন্য সূত্রের খবর হচ্ছে বাফুফের সভাপতি তার সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগকে বলেছেন দলবদলের আগে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার শিডিউল না নেওয়াই ভালো।
