শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বিশ্ব শিক্ষক দিবস আজ

অর্থসংকটে শিক্ষকরা, প্রাপ্য মর্যাদাটুকুও পাচ্ছেন না

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২২, ০৯:৪৩

শিক্ষকরা সবার শ্রেষ্ঠ, তাদের আদর্শ ধারণ করেই ছাত্ররা গড়ে ওঠে। এক সময় দেশ-সমাজ পরিচালনা করে তাদের ছাত্ররাই। কিন্তু সেই শিক্ষকরা এখন অর্থ সংকটে। যথাযথ সম্মান-মর্যাদা পাচ্ছেন না। 

আবার সাম্প্রতিককালের কিছু কিছু ঘটনা এ ধারণাই দেয়—শিক্ষকদের কেউ কেউ মূল আদর্শ থেকে দূরে সরে গেছেন। যার কারণে এখন শিক্ষকসমাজ সমালোচনার মুখে পড়েছে।

ছবি- সংগৃহীত

শিক্ষকরা বলছেন, শিক্ষকরা নানা বৈষম্যের শিকার। বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষকরা ঠিকমতো বেতন-ভাতা পান না। এ কারণে আর্থিক অনটনে দিন কাটে তাদের। অর্থের সঙ্গে সম্মান-মর্যাদা জড়িত। বেতন-ভাতা না পাওয়ায় সমাজের কাছে তাদের সম্মানহানি ঘটছে। মর্যাদা হারাচ্ছেন।

এমন প্রেক্ষাপটে আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হচ্ছে। দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘শিক্ষকদের দিয়েই শিক্ষার রূপান্তর শুরু’। বাংলাদেশে জাতীয়ভাবে দিবসটি পালিত না হলেও বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন এই দিবসটি নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালন করে।

ছবি- সংগৃহীত

দেশে বেসরকারি কলেজে ৫ হাজার ৫০০ অনার্স-মাস্টার্সের শিক্ষক বিনা বেতনে প্রায় ৩০ বছর ধরে পাঠদান করে যাচ্ছেন। শিক্ষক নেতা নেকবর হোসাইন বলেন, আমাদের এমপিওর জন্য কত আলোচনা, দফায় দফায় কত বৈঠক হয়েছে। মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি, কত স্মারকলিপি, কত আশ্বাস। কিন্তু আমরা এখনো শূন্য হাতে।

এই শিক্ষকদের মতো নন-এমপিও স্কুলের শিক্ষকদের অবস্থাও। বেতন-ভাতা না পেয়ে কষ্টে দিন কাটছে তাদের। দাবি আদায়ে আন্দোলন করেছেন। কিন্তু অর্থসংকটের কথা বলে এমপিভুক্ত করা হয়নি তাদের। আবার জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়া প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকরাও ভালো নেই। বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মামুনুর রশিদ খোকন বলেন,  দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করেও কোনো ফল হয়নি। আবারও আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছি। বেতন না পাওয়ার কষ্ট আর সইতে পারছি না। সমাজে অনেক ‘ছোট’ হয়ে আছি। 

ছবি- সংগৃহীত

একদিকে বেতন-ভাতা না পেয়ে সমাজের কাছে ছোট হয়ে আছেন, অন্যদিকে বেতন পাওয়া শিক্ষকদের একটি অংশ শিক্ষক সমাজের মর্যাদাকে কলুষিত করছেন।

প্রশ্ন ফাঁস-নকল সরবরাহ, নারী কেলেঙ্কারিসহ নানা অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটছে হরহামেশাই। শিক্ষক নেতারা বিষয়টিকে ‘শিক্ষক সমাজের অবক্ষয়’ হিসেবে দেখছেন।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত কয়েক জন শিক্ষক। এর মধ্যে দুই সহকারী শিক্ষককে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। এছাড়া মামলায় কেন্দ্র সচিব ও প্রধান শিক্ষকের রিমান্ড শেষ হলে জেলহাজতে পাঠানো হয়। ঐ প্রশ্ন ফাঁসের কারণে কয়েক লাখ শিক্ষার্থীর চার দিনের পরীক্ষা পিছিয়ে দিতে হয়।

ছবি- সংগৃহীত

চলতি এসএসসি পরীক্ষার সময় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে পরীক্ষার্থীদের নকল সরবরাহের সময় তিন শিক্ষক আটক হন। টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় নারী কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে পাইস্কা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়। রাজধানীর ভিকারুন নিসা নূন স্কুলের কলঙ্কিত শিক্ষক পরিমলের নাম এখনো মানুষ ভোলেনি।

চলতি বছরের জুন মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) এক প্রতিবেদনে দেশে ১ হাজার ১০৮ জন শিক্ষক পাওয়া গেছে, যারা অবৈধভাবে নিয়েছেন সাড়ে ৪০ কোটি টাকা। তারা জাল সনদে চাকরি করছেন বছরের পর বছর ধরে।

ছবি- সংগৃহীত

শিক্ষকদের অর্থ আত্মসাতের ঘটনাও কম নয়। বিশেষ করে প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষরাই এটি করে থাকেন। পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে তদন্তে এমন কয়েক হাজার শিক্ষকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। 

ক্লাসে মনোযোগী করার জন্য কোচিং বাণিজ্য বন্ধে নীতিমালা জারি করে সরকার। কিন্তু শিক্ষকরা ক্লাসের পড়াশোনায় মনোযোগী না হয়ে প্রাইভেট-টিউশনি-কোচিংমুখী।

ছবি- সংগৃহীত

স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলম সাজু বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে অবক্ষয় হয়েছে। শিক্ষকরাও  এর বাইরে নন। তিনি বলেন, শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা কম। এ কারণে  শিক্ষকরা অর্থের জন্য এদিন-ওদিক ছোটাছুটি করেন।

ইত্তেফাক/এমএএম