বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পাউবোর ১০ কোটি টাকার সেচখাল সংস্কারে অনিয়ম

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১৮:১৬

নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জে দুটি খাল সংস্কারে প্রায় ১০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোডের্র বাস্তবায়নাধীন তিস্তা সেচ প্রকল্পে পুনর্বাসন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় টি-১ আর টারসিয়ারী সেচ খালের দুপাশের ডাইক মেরামত ও পুনরাকৃতিকরণ কাজে বরাদ্দ ৬ কোটি ৪১ লাখ ৫ হাজার ৪১৭ টাকা ও তিস্তা সেচ প্রকল্পের কমান্ড এলাকায় পূনর্বাসন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে টি-৫ টারসিয়ারী সেচ খালে বরাদ্দ রয়েছে ৩ কোটি ৪ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।

এদিকে টি-৫ সেচ খালের পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যকরী সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান লিখিত অভিযোগে বলেন, সেচ খাল সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তার সাথে ঠিকাদাররা যোগসাজশে এই দুর্নীতি হচ্ছে। সিডিউল ও ইস্টিমিট অনুযায়ী কাজ না করে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে বড় ধরনের অনিয়ম করছে।

এছাড়া সিসি ঢালাইয়ের নিচের বেডে ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি বালু ও পানি দিয়ে মাটি দৃঢ়করণ করে সিসি ঢালাই করার কথা। তা না করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি বালু দিয়ে মাটি দৃঢ়করণ ছাড়াই ঢালাইয়ের কাজ করেন। এতে ভারী বন্যায় মাটি সরে গিয়ে খাল ভেঙে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

তাছাড়া সেচখালের পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হোসাইন মোহাম্মদ ছাদেকুল ইসলাম বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ সিমেন্ট, নিম্নমানের বালু ও মরা-পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে সিসি ও আরসিসি ঢালাইয়ে।

টি-১ সেচখালে সরেজমিন পরিদশর্নকালে এলাকার বাসিন্দা আজহারুল ইসলাম, সফিকুল ইসলাম, আবতাব ও আসাদুল অভিযোগ করেন। তারা বলেন, এই সেচখালের কাজ অনিয়মে ভরা। তদারকি নেই। কাজের সময় শাখা কর্মকর্তা শারফুল ইসলাম থাকেন লাপাত্তা। ফলে যাচ্ছেতাই কাজ করেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

প্রকল্প দুটির ঠিকাদার অসিম সিং ও হারুন-অর-রশিদ সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যারা অভিযোগ দিয়েছেন, তারা আমাদের কাছ থেকে সুবিধা চেয়েছিলেন। না পেয়ে অভিযোগ করেছেন। তাছাড়া কাজের সময় তদারকি কর্মকর্তা উপস্থিত থেকে কাজ বাস্তবায়ন করে নিচ্ছেন।
 
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আখিনুজ্জামান জানান, আমরা প্রকল্প এলাকাগুলো পরিদর্শন করে কাজের মান ভালো দেখেছি। কোথাও কোন অনিয়ম হলে সেই দায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে।  

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু তাহের বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/পিও/জেডএইচডি