রোববার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

থাইল্যান্ডে ডে কেয়ার সেন্টারে হামলা: শিশুসহ নিহত ৩৮

হামলাকারীর আত্মহত্যা

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০২:৫৫

থাইল্যান্ডের একটি প্রি স্কুল ডে কেয়ার সেন্টারে একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা গুলি ছুড়ে এবং ছুরি চালিয়ে অন্তত ৩৮ জনকে হত্যা করেছে। জখম হয়েছে আরো কমপক্ষে ১২ জন। দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিহতদের ২৩ জনই শিশু। নিহতের মধ্যে দুই বছর বয়সি শিশুও রয়েছে। সন্দেহভাজন হামলাকারী পরে নিজের স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান ওচা এই ঘটনাকে খুবই হূদয়বিদারক বলে মন্তব্য করে দ্রুত তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এভাবে এলোপাতাড়ি গুলি করে গণহারে মানুষ হত্যার ঘটনা থাইল্যান্ডে বিরল। যদিও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের মধ্যে থাইল্যান্ডে বেসামরিক লোকজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। অবৈধ অস্ত্রের সংখ্যাও কম নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটা এ ধরনের দুটি হত্যাকাণ্ডের হোতা ছিল সেনাসদস্যরা। মাসখানেক আগে ব্যাংককে একটি সেনাঘাঁটিতে একজন কর্মকর্তা তার দুই সহকর্মীকে গুলি করে হত্যা করেন। এর আগে ২০২০ সালে নাখন রাটচাসিমা নামে এক শহরে একজন সৈন্য গুলি করে ২৯ জনকে হত্যা করেছিল।

বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বে নং বুয়া লামফু প্রদেশের উথাই সাওয়ান নামে একটি শহরে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে। কেন সাবেক ঐ পুলিশ কর্মকর্তা শিশুদের একটি ডে কেয়ারে এমন নৃশংস হামলা চালিয়েছেন তার সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর এখনো কেউ দিতে পারেনি। তবে একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন মাদক সেবনের জন্য লে. কর্নেল পদমর্যাদার ঐ কর্মকর্তাকে গত জুনে বরখাস্ত করা হয়। ঐ ব্যক্তির নাম পনিয়া খামরাব। ঐ হামলার সময় কাছে ছিলেন এমন একজন স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১২টার দিকে হামলাকারী চড়াও হয়ে প্রথমেই ডে কেয়ার সেন্টারের চার-পাঁচ জন কর্মচারীকে গুলি করে। এর মধ্যে একজন সন্তানসম্ভবা শিক্ষিকাও ছিলেন। এরপর দরজা বন্ধ করে যে ঘরে শিশুরা ঘুমাচ্ছিল সেই ঘরে চড়াও হয় ঐ হামলাকারী। সেখানে প্রায় ৩০টি শিশু ছিল। তার কাছে শটগান, পিস্তল এবং ছুরি ছিল। 

ঐ কর্মকর্তা বলেন, প্রথমে মনে হয়েছিল বাজি ফোটানো হচ্ছে। হামলার পরপরই সে সাদা টয়োটা পিক-আপ ভ্যান চালিয়ে পালিয়ে যায়। গাড়িটিতে ব্যাংককের রেজিস্ট্রেশন প্লেট ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হামলাকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর, অনিয়ন্ত্রিতভাবে গাড়ি চালাচ্ছিল। সে রাস্তার অন্য লোকদের ওপর গাড়ি উঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। হামলাকারী একটি মোটরবাইকে ধাক্কা দেয় এবং দুই জন আহত হয়। ঐ হামলাকারী এলাকায় একজন মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত। পুলিশ প্রথমে সন্দেহভাজন হামলাকারীকে ধরতে অভিযান শুরু করলেও পরে জানানো হয় হামলাকারী পরিবারের সদস্যদের খুন করে আত্মহত্যা করেছেন।

পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেছেন, হামলা চালানোর আগে একটি মাদক মামলার শুনাতিতে হাজিরা দিয়েছিলেন হামলাকারী। এ ঘটনার পর থাই পুলিশ জনগণকে ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার না করার আহ্বান জানিয়েছে। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন থাই প্রধানমন্ত্রী। তিনি হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। আহতদের চিকিত্সা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সমবেদনা জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ-সহ বিভিন্ন দেশের নেতা।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি