টেন্ডার ছাড়াই পুরাতন সেতুর মালামাল বিক্রি

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২২, ০১:৩২

সাটুরিয়ায় টেন্ডার ছাড়াই পুরাতন অকেজো সেতু বিক্রির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআই্ও) মো. রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে। অপরদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার একক সিদ্ধান্তে ও কোন প্রকার টেন্ডার আহ্বান না করে গোপনে পাঁচটি সেতু বিক্রয় করার ফলে সরকার প্রায় ছয় লক্ষাধিক টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে। 

জানা যায়, উপজেলার বালিয়াটি ইউনিয়নের চরপাড়া আলেক নদীর শাখা খালের ওপর একটি, দরগ্রাম ইউনিয়নের তেবারিয়া-দরগ্রাম রাস্তার ওপর একটি, বরাইদ ইউনিয়নের ছনকা মাদব খালের ওপর একটি, ধানকোড়া ইউনিয়নের কান্দাপাড়া জসিম উদ্দিনের দোকানের পাশে খালের ওপরে একটি ও সাটুরিয়া ইউনিয়নের মালশী-গওলা রাস্তার ওপর একটিসহ মোট পাঁচটি পুরাতন সেতু টেন্ডারে নিলাম ডাক ছাড়াই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা একক সিদ্ধান্তে তা ভেঙে বিক্রি করেছেন। এ বাবদ পাওয়া সমুদয় অর্থ আত্মসাতেরও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এসব সেতু ভাঙা ও বিক্রির ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান, নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করার নিয়ম থাকলেও তিনি তাদের পাশ কাটিয়ে গোপনে একক সিদ্ধান্তে বিক্রয় ও ভাঙার কাজ শেষ করেছেন। এ কাজে তাকে মদত দিয়েছেন সাইফুল ইসলাম নামে এক দালাল। এ নিয়ে নানা মহলে কথা উঠলে টনক নড়ে উপজেলা প্রশাসনের। তারই পরিপ্রেক্ষিতে পিআইওকে বাঁচাতে ভাঙা সেতুর মালামাল বিক্রয়ের পর উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে গত ২৮ জুলাই সভা ডেকে রেজুলেশনের মাধ্যমে টেন্ডার দেখিয়ে পিআইওর কথায় পাঁচটি সেতুর আনুমানিক বিক্রয় মূল্য ৬১ হাজার ১২০ টাকা নির্ধারণ করে তার ওপর ৭.৫% ভ্যাট বাবদ ৪ হাজার ৫৮৫ টাকা ও ১০% আয়কর বাবদ ৬ হাজার ১১২ টাকাসহ সর্বমোট ৭১ হাজার ৮১৭ টাকা গত ১৭ আগস্ট সরকারি কোষাগারে সাটুরিয়া সোনালী ব্যাংক শাখায় জমা দিয়েছেন পিআইও রবিউল ইসলাম। তবে খোলা টেন্ডারের মাধ্যমে সেতুর মালামাল বিক্রয় না হওয়ায় এক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সরকার হারিয়েছে রাজস্ব বাবদ অন্তত ৬ লাখ টাকা ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ক্রেতা বলেন, গত মে মাসে তিনি দুইটি ভাঙা সেতুর মালামাল মোটা অঙ্কে কিনে মো. রবিউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে নারাজ। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আরা বলেন, মাসিক সভায় রেজুলেশনের ম্যাধমে গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক পাঁচটি সেতুর মালামাল বিক্রয় করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/ইআ