প্রবাসে বন্ধুত্ব, কক্সবাজারে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২২, ১৭:৩৫

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মৌলভীবাজারের রশিদ আহমদের ছেলে শফিক আহমদ (৩২) ও চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা ইউপি’র কাহারিয়া গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে মোহাম্মদ রাসেল (৩২)। দুবাইয়ের শারজাহ শহরে দিনমজুরি কাজ ও একই ভবনে থাকার সুবাদে তাদের বন্ধুত্ব। সেই বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়েই শফিককে কক্সবাজার শহরের কলাতলী সড়কের হোটেল-মোটেল জোনের অপকর্ম ও টর্চার সেল হিসেবে খ্যাত ওয়ার্ল্ড বিচ রিসোর্টে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেছে প্রবাসী বন্ধু রাসেল ও তার সঙ্গীরা, এমনই অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শফিক। 

ছবি- সংগৃহীত

মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) মাঝ রাতে কক্সবাজার সদর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শফিক। এরপরই বুধবার দুপুর থেকে বিষয়টি জানাজানি হয়।
 
এজাহার থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, সোমবার সকালে শফিক টমটম গ্যারেজের জন্য মালামাল কিনতে কক্সবাজার শহরে আসেন। হঠাৎ পথে তার সাথে প্রবাসীবন্ধুর রাসেলের দেখা হয়। তখন রাসেল তার বউয়ের সাথে পরিচয় করে দেয়ার কথা বলে শফিককে ওয়ার্ল্ড বিচ রিসোর্টের ৮২৩ নম্বর কক্ষে নিয়ে তালাবদ্ধ করে দেয়। পরে সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা রাসেলের অস্ত্রধারী সহযোগীরা শফিককে এলোপাথাড়ি মারধর করে।  

কক্সবাজার সদর থানা। ছবি- সংগৃহীত

ভিকটিম শফিক বলেন, রাসেল ও তার সহযোগীরা একপর্যায়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আমার কাছ থেকে ১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জোরপূর্বক আদায় করে। পরে এই ঘটনা কাউকে না জানাতে আমাকে উলঙ্গ করে ছবি ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিলে আমার নগ্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল তারা। তবুও আমি ন্যায় বিচারের জন্য পুলিশের কাছে এজাহার জমা দিয়েছি। 

এদিকে ওয়ার্ল্ড বীচ রিসোর্ট ও আশেপাশে ভবন ও রেস্তোরায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সোমবার দুপুর ১২ টার দিকে জসিম নামের এক যুবক হোটেল পউষীর দিকে হাটছে। তার পেছনে শফিক ও রাসেল কথা বলে বলে এগোচ্ছে। এরপর তারা পউষীর পাশের সিঁড়ি দিয়ে রিসোর্টে উঠে। পরে তাদের আবার দেখা মিলে ৮২৩ নম্বর কক্ষের সামনে। সেখানে দেখা গেছে আরও ৩ জনকে। ওইসময় ওই তিন যুবকসহ রাসেল ও জসিম মিলে শফিককে ধাক্কা দিয়ে ৮২৩ নম্বর কক্ষে ডুকায় ।

কক্সবাজার সদর থানা

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রিসোর্টটির কেয়ারটেকার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী চোচুলা মুরা এলাকার রহমত ছালামের ছেলে খোরশেদ ফ্ল্যাটটির মালিক আজমগীরের থেকে  ভাড়া নিয়েছে। ঘটনার পর থেকে লাপাত্তা কেয়ারটেকার খোরশেদ। 

এবিষয়ে ফ্ল্যাট মালিক আজমগীর বলেন, আমি ফ্লাটটি বাৎসরিক ভাড়া দিয়েছি। ঘটনার পর থেকে খোরশেদের মুঠোফোন বন্ধ পাচ্ছি।  

ছবি- প্রতীকী (সংগৃহীত)

ওয়ার্ল্ড বীচ রিসোর্টের ল্যান্ড ওনার্স ম্যানেজমেন্টের নির্বাহী পরিচালক শাহীনুল ইসলাম বলেন, এখানে কিছু ফ্ল্যাট বিভিন্ন অপরাধী নিয়ন্ত্রণ করছে। যার কারণে হরহামেশা বিতর্কিত নানা ঘটনা ঘটছে। এই ঘটনার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হবে।

এ বিষয়ে, কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) রাজ্জাক বলেন, আমরা যাবতীয় খোঁজখবর নিচ্ছি। জড়িতদের গ্রেফতারে তৎপরতা অব্যাহত আছে। এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর ওই রিসোর্টে দুই পর্যটককে  অপহরণের পর বন্দী করে রাখা হয়েছিল। পরে আমরা গিয়ে উদ্ধার করি। 

কক্সবাজার সদর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি আরেকটু তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইত্তেফাক/এমএএম