সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ছে

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৯, ০০:৩৩

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বাজেটে। এ জন্য উপকারভোগীর তথ্যভান্ডার প্রস্তুত এবং ভাতাভোগীদের কাছে সরাসরি সরকারি কোষাগার থেকে ‘জি টু পি’ পদ্ধতিতে অর্থ পাঠানো হচ্ছে বলেও বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী। নতুন ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির সংখ্যা ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ জনে বাড়ানো হবে। বাড়বে উপবৃত্তির টাকার পরিমাণও। বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক স্তরে উপবৃত্তির হার ৭০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫০ টাকা করা হবে। মাধ্যমিক স্তরে ৭৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৮৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯০০ টাকা করা হবে। সব অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের সহায়তার লক্ষ্যে আগামী অর্থবছরে ভাতাভোগীর সংখ্যা ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১৫ লাখ ৪৫ হাজার জন করা হবে। অর্থমন্ত্রী আরো জানান, বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা ৪০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৪৪ লাখ, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা নারী ভাতাভোগীর সংখ্যা ১৪ লাখ থেকে ১৭ লাখে বৃদ্ধি, সব হিজড়াকে অন্তর্ভুক্ত করে হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ৬ হাজার জনে উন্নীত করা, বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উপকারভোগীর সংখ্যা ৬৪ হাজার থেকে ৮৪ হাজারে বৃদ্ধি, চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজারে উন্নীত করা হবে। ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড ও জন্মগতভাবে হূদরোগে আক্রান্তদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার, দরিদ্র নারীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগীর সংখ্যা ৭ লাখ থেকে ৭ লাখ ৭০ হাজার জনে বৃদ্ধি এবং কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তার আওতায় ভাতাভোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ ৭৫ হাজারে বৃদ্ধি করা হবে। অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে এই খাতে বরাদ্দ দ্বিগুণ করা হবে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে মোট ৭৩ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে যা বাজেটের ১৪.১৩ শতাংশ এবং জিডিপির ২.৫৮ শতাংশ। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ৬৪ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা।