উন্নয়নশীল দেশে জনগণকে দায়িত্ব নিতে হয়: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২২, ০২:৩৪

জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, উন্নয়নকাজে যে সম্পদ ব্যবহৃত হয় তা সরকার, রাষ্ট্র তথা জনগণের সম্পদ। এই সম্পদের সদ্ব্যবহার তথা অপচয় রোধ করতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সব ধরনের দুর্নীতি, অপচয়, আত্মসাতের বিরুদ্ধে জনগণের মধ্যে প্রতিরোধ গড়ার মানসিকতা সৃষ্টি করতে হবে। কাজ সঠিকভাবে করতে ইমান মজবুত করা প্রয়োজন। 

গতকাল বুধবার রাতে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের মালিয়ার হাটে স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি আরো বলেন, উন্নয়নশীল দেশ ও উন্নত দেশের মধ্যে যে পার্থক্য তা আমাদের উপলব্ধি করতে হবে। উন্নয়নশীল দেশে জনগণকে দায়িত্ব নিতে হয়। এ দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হলে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে চেয়ারম্যান ও মেম্বারদেরও দায়িত্ব রয়েছে।

জেপি চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের রাজনীতি খুবই সহজ। আমাদের ওপর আল্লাহর রহমত আছে বলে বিগত ৩৭ বছর ধরে আমরা লাগাতারভাবে এলাকার সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রচেষ্টায় ব্যাপৃত রয়েছি। এর মধ্যে ১৮ বছরই বিভিন্ন সরকারের মন্ত্রী সভায় দায়িত্ব পালনে সক্ষম হয়েছি। এ সময়কালে আমরা এলাকায় বিভাজনের রাজনীতি করিনি। উপমহাদেশের যে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি জিন্নাহ সাহেব শুরু করেছিলেন তা থেকে আমরা এ অঞ্চলের মানুষকে মুক্ত রাখতে সক্ষম হয়েছি। জিন্নাহ সাহেব যখন ভারত বিভাজনের কথা বলেছেন, তখন বলতেন হিন্দু-মুসলমানের জন্য পৃথক রাজনীতি, পৃথক দেশ। পাকিস্তান সৃষ্টি পর তিনি আবার বললেন, আমরা হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান আলাদা নই, আমরা সবাই পাকিস্তানি। তার এই বক্তব্য এক কথায় স্ববিরোধী বা মোনাফিকি।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আরো বলেন, আমরা কীভাবে এলাকায় কাজ করার চেষ্টা করেছি তা আপনারা মূল্যায়ন করবেন। আমাদের এক থাকতে হবে। শোষণ-বঞ্চনা থেকে মানুষকে রক্ষা করতে হবে, তাদের মুক্ত করতে হবে। আমি যখন প্রথম এ অঞ্চলে আসি তখন ঢাকায় বসে সচিবরা বলতেন আপনাদের জন্য আল্লাহ নৌকায় চড়ার ব্যবস্থা রেখেছেন। রাস্তা-ঘাট, পুল-কালভার্ট করার সুযোগ আপনাদের অঞ্চলে নাই। এই দীর্ঘ তিন যুগে আমরা এটা প্রমাণ করেছি এ অঞ্চলের রাস্তাঘাট হয়, বড় বড় সেতু করা যায়, গাড়ি চড়ে উপজেলা থেকে জেলায়, জেলা থেকে বিভাগে, রাজধানীতে দ্রুততম সময় যাওয়া-আসা করা যায়।

তিনি আরো বলেন, আমরা দুই ধরনের সরকারের সঙ্গে কাজ করেছি। এক ধরনের সরকার স্বৈরাচারী, আরেক ধরনের সরকার গণতান্ত্রিক। এ দুই ধরনের সরকারের কৌশলগুলো কাজে লাগিয়ে মানুষের কল্যাণ করার লক্ষ্য পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি। এ দেশ যদি কোরআন ও সুন্নাহ মাফিক চলত, তাহলে অনেক ত্রুটি ঠিক হয়ে যেত। শরিয়তি আইনে যে হাত-পা কাটার বিধান রয়েছে তা বলবত্ হলে দুর্নীতিবাজরা অন্যায় করতে সাহস পেত না। আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছি এটা একটি সুযোগ। এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে হবে। মানুষকে শোষন-বঞ্চনা থেকে মুক্ত করতে হলে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এই জন্য দ্বন্দ্ব-সংঘাত, কাইজ্যা, বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করা প্রয়োজন। আমাদের ভালোভাবে বাঁচতে হলে ঐক্যবদ্ধভাবে বসবাস করা বাঞ্ছনীয়।   

গৌরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা জাতীয় পার্টি-জেপির সহসভাপতি মো. মজিবুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা জেপির সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, উপজেলা জেপির সিনিয়র সহসভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, যুব সংহতির উপজেলা সদস্য সচিব মামুনুর রশীদ সরদার, অধ্যক্ষ মো. কামরুজ্জামান, মাস্টার আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেপির উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খোকন সিকদার, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার হোসেন দুলাল মল্লিক, দপ্তর সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন বাবুল, সদস্য রেজা আহমেদ দুলাল, জেপি নেতা আহসানুল কিবরিয়া ফরিদ মল্লিক, যুব সংহতির উপজেলা আহ্বায়ক রেজাউল হক রেজভি জোমাদ্দার, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির উপজেলা সভাপতি মুনির সরদার, ছাত্র সমাজের নেতা মেহেদী হাসান রাজু, মাহবুব শরীফ শুভ প্রমুখ।

ইত্তেফাক/ইআ