পদ্মার চরে কুমির আতঙ্ক, আহত গৃহবধূ হাসপাতালে

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২২, ১৫:০৬

ফরিদপুরের পদ্মার চরে ফের কুমির আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। রোববার ভোরে সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ গ্রামে এক গৃহবধূ আহত হওয়ার ঘটনায় এই কুমির আতঙ্কের খবর ছড়িয়ে পরে। আহত নারীর নাম পারুলী বেগম। তাকে বর্তমানে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত গৃহবধূ পারুলী বেগমের স্বামী শেখ আব্দুর রাজ্জাক জানান, ফজর নামায পড়তে উঠেছিলেন তারা। ঘর থেকে বের হয়ে হাঁস-মুরগির ঘরের কাছে শব্দ পেয়ে এগিয়ে যান। শিয়ালের ভয়ে হাঁস মুরগীর ঘরের চারপাশে নেট জালের বেড়া দেওয়া ছিল। সেখানে শব্দ পেয়ে আমার স্ত্রী মনে করেছিল গরুর বাছুর বুঝি নেটে আটকে গেছে। সে নেট উঁচা করার সঙ্গে সঙ্গে তাকে কামড় দেয়। স্ত্রীর চিৎকারে বাঁশের লাঠি নিয়ে কয়েকটা বাড়ি দিলে কুমিরটি পাশের নালায় নেমে যায়। 
সেটা কি কুমির নাকি অন্য কিছু নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, স্ত্রীকে কামড় দেওয়া জন্তুটি কুমিরই ছিল। এবং কুমিরটি এখনো পদ্মা নদী সংযুক্ত ওই নালায় রয়েছে। 

গত বছর একই এলাকা থেকে একটি কুমির ধরা পরেছিল। সেই কুমিরটিকে বন বিভাগের সহায়তায় খুলনায় নিয়ে নিরাপদ স্থানে অবমুক্ত করা হয়। এই পুরো এলাকাটি পদ্মা নদী বেষ্টিত। বর্ষাকালে এই এলাকার নালা-পুকুর সব পদ্মা নদীর সঙ্গে মিশে যায়। এদিকে, কুমিরের কামড়ে একজন আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ফের কুমির আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গত বছর যেখান থেকে কুমিরটি আটক করা হয়েছিল। তার আশেপাশেই এই ঘটনা ঘটেছে। 

তিনি আরও জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও বন বিভাগের খুলনা রেঞ্জের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। সকাল থেকে তিনি ওই এলাকায় গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করেছেন, কিন্তু কুমির দেখার আর কোনো খবর পাওয়া যায়নি। 

 

 

ইত্তেফাক/পিও