নিজেদের জলসীমায় প্রতিপক্ষের জাহাজ ঢুকে পড়ার অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে আবার উত্তেজনা। প্রতিপক্ষকে সতর্ক করতে দু'দিক থেকেই ছোঁড়া হয়েছে গুলি।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ (জেসিএস) এক বিবৃতিতে জানায়, উত্তর কোরিয়ার একটি বাণিজ্যিক জাহাজ রোববার ভোর ৩ টা ৪০-এর দিকে নর্দার্ন লিমিট লাইনে (এনএলএল) দক্ষিণ কোরিয়ার জলসীমায় ঢুকে পড়ায় সতর্কবার্তা প্রচার করা হয়। পরে উত্তর কোরিয়ার কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করতে গুলিও ছোঁড়া হয় বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ তুলেছে উত্তর কোরিয়া। তাদের দাবি, দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনীর একটি জাহাজ এনএলএল লঙ্ঘন করে তাদের জলসীমায় ঢুকে পড়ে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দক্ষিণের জাহাজ উত্তরের জলসীমায় ঢুকে পড়ার বিষয়টি নজরে আসা মাত্রই জাহাজটিকে দ্রুত ফিরে যেতে বাধ্য করতে রকেট লঞ্চার থেকে ১০ বার গোলা ছোড়া হয়। উত্তর কোরিয়ার কেসিএনএ নিউজকে সে দেশের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেন, ‘‘শত্রুর যুদ্ধজাহাজকে বিতাড়িত করতে আমরা দ্রুত প্রাথমিক পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দেই।'
'দক্ষিণ কোরিয়া অবশ্য উত্তর কোরিয়ার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে জেসিএস বরং বৈরি প্রতিবেশীকেই অহেতুক উসকানি দেয়া বন্ধ করতে বলেছে, ‘‘ আমরা আবার কোরীয় উপদ্বীপ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শান্তি বিনষ্ট করতে উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে যে উসকানি দিচ্ছে এবং অভিযোগ তুলছে সেসব বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।''
বৈরি দুই দেশের মধ্যেগত কিছুদিন ধরে আবার উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া কয়েকবার স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে, শত শত গোলা ছুঁড়েও নিজেদের সামরিক শক্তির প্রমাণ রেখেছে। উত্তর কোরিয়ার দাবি, দক্ষিণ কোরিয়ার তৎপরতার কারণেই নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য অস্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে তারা। দক্ষিণ কোরিয়া নিয়মিত বিরতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া চালিয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে হোগুক সামরিক মহড়া। এ মহড়া চলবে আগামী ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবেলার প্রস্তুতি হিসেবে শুরু করা এ মহড়ায় ২০টি যুদ্ধজাহাজ ও বিপুল অস্ত্রসম্ভার প্রদর্শিত হবে।
