সড়কে মৃত্যুর মিছিল

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৯, ২১:৫৩

মুহাম্মাদ রিয়াজ উদ্দিন

 

ঈদের আগে ও পরে কয়েকদিনের ব্যবধানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান অর্ধশতাধিক। আহত হয়েছেন শতাধিক। কোনোভাবেই সড়কের এ মৃত্যুর মিছিল থামানো যাচ্ছে না। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নানা পরামর্শ  দেওয়া হয়। কিন্তু পদক্ষেপগুলো কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে। এই দুর্ঘটনার জন্য শুধু চালক কিংবা ফিটনেসবিহীন গাড়ি দায়ী নয়। আমাদেরও দায় আছে বৈকি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াতের জন্য যতই বাধা-নিষেধ থাকুক না কেন আমাদের বাড়ি ফিরতেই হবে। সুতরাং লঞ্চ, ট্রেন কিংবা বাসে অতিরিক্ত যাত্রী হতেও আমরা দ্বিধা করি না। এ প্রবণতা থেকে যতদিন না বের হওয়া যাবে, ততদিন দুর্ঘটনা বন্ধের কোনো সম্ভাবনা নেই। প্রতিবছরই ঈদুল ফিতর আর ঈদুল আজহার ছুটিতে ঘরমুখো মানুষের বাড়ি ফেরার স্রোত লক্ষণীয়। ট্রাকে দাঁড়িয়েও বাড়ি যেতে হবে। এক্ষেত্রে যাত্রীসাধারণের সচেতনতা অনেক জরুরি। যে পরিবহনে ৪২ জন যাত্রী বহনে সক্ষম সেখানে কেনইবা আমরা ৫০ জন উঠব? যে লঞ্চের ধারণক্ষমতা ৭০০ সেখানে কেনইবা আমরা ১০০০ যাত্রী উঠব? আর ট্রেনের ছাদে চড়ে গন্তব্যে বাড়ি ফেরা—এ তো নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। অবশ্য এবার ঈদে ট্রেনে যাত্রী হয়ে বাড়ি যাবার ব্যাপারে রেল কর্তৃপক্ষ কঠোর ছিলেন। তাই ট্রেনের ছাদে কেউ যাত্রী হতে পারেনি। ট্রেনের ছাদে যাত্রী হওয়ার ফলে যে দুর্ঘটনা ঘটবে, তার দায় নিশ্চয়ই ঐ যাত্রীর ওপর বর্তায়।

বেসরকারি সংগঠন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির পর্যবেক্ষণে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য যে ১০টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে—১. চালকদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, ২. দৈনিক চুক্তিতে চালক, কন্ডাক্টর বা হেলপারের কাছে গাড়ি ভাড়া দেওয়া, ৩. অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগ, ৪. সড়কে চলাচলে পথচারীদের অসতর্কতা, ৫. বিধি লঙ্ঘন করে ওভারলোডিং ও ওভারটেকিং,

৬. দীর্ঘক্ষণ বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানো, ৭. ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব,

৮. জনবহুল এলাকাসহ দূরপাল্লার সড়কে ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণ না করা, ৯.সড়কে-মহাসড়কে মোটরসাইকেলসহ তিন চাকার যানবাহন চলাচল বৃদ্ধি এবং ১০. স্থানীয়ভাবে তৈরি ইঞ্জিনচালিত ক্ষুদ্রযানে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন। এই কারণগুলো বিশ্লেষণ করলেই সহজেই অনুমেয় যে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী মূলত কারা। যে গাড়ি সড়কে কিংবা মহাসড়কে যাত্রী বহনের কোনো অনুমতি নেই সেই গাড়িগুলো চলছে খোদ ট্রাফিক পুলিশের সামনেই!

আমাদের সচেতনতার বিকল্প নেই। আমাদের জীবনটার মূল্য অন্তত আমাদের দিতে হবে। ‘সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি’—এ স্লোগান গাড়ির ভেতর লেখা দেখা যায়। এর মর্মার্থ যতদিন আমরা অনুধাবন করতে না পারব, ততদিন সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা অসম্ভব। শুধু কঠোর আইন প্রণয়ন করে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ সম্ভব নয়। একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে সড়কখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি যাত্রীসাধারণ তথা সবাইকে সচেতন হতে হবে।

বরিশাল