রাতের আধাঁরে দিনাজপুরের খানসামায় প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ ও কক্ষে প্রবেশ নিয়ে দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটছে। মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) রাত ৭টার দিকে উপজেলার ভাবকি ইউনিয়নের কুমড়িয়া দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এতে ২জন আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২০২০ সালের ১ নভেম্বর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. মন্টু ইসলাম। কিন্তু সেই সময় থেকে ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক অব্যাহতি প্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক আসলাম আলী নিজেকে প্রধান হিসেবে দাবি করে। এটা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের দুই পক্ষের মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। তবে গত ১৫ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড ৬ মাসের জন্য এ্যাডভোকেট শামসুর রহমান পারভেজকে সভাপতি করে ৪ সদস্যের এডহক কমিটি ঘোষণা করে। এই ক্ষমতাবলে তারা আসলাম আলীকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব দেয়। আসলাম আলী গত মাসে অবসরে যাওয়ার সময় সহকারী শিক্ষক মোকছেদ আলীকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব দেয়। তবে সেই কমিটিকে অবৈধ দাবি করে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন এক অভিভাবক। সেটি এখন বিচারাধীন।
এমতাবস্থায় মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) রাত ৭টার দিকে উপজেলা চেয়ারম্যান সফিউল আযম চৌধুরী লায়ন, অফিসার ইনচার্জ চিত্তরঞ্জন রায়, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল হক মিলে মোকছেদ আলীকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদানের লক্ষ্যে স্কুলে গেলে তা তালাবদ্ধ পায়। মোকসেদ আলীর লোকজন গেট ও কক্ষের তালা ভাঙ্গলে মন্টু আলীর লোকজন বাঁধা দেয়। এতে দুই গ্রুপের মধ্যে বাকবিতন্ডা, ধাওয়া পাল্টা ও মারামারি হয়। এতে ঐ এলাকার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবলুর রহমান গুরুতর আহত হয়ে দিনাজপুর এম আঃ রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হক বলেন, আমরা ব্যাংকের কাজ শেষ করতে বিলম্ব হওয়ায় প্রতিষ্ঠানে যেতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। তবে আমাদের অগোচরে কে বা কাহারা তালা ভেঙে ফেলায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। পরে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ওসি পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনার পর আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে এ ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত।
