সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় টিম শরুব ইয়ুথ

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২২, ২০:৪৩

‘উপকূলবাসীর জীবনযাত্রা আর চারটি সাধারণ মানুষের মতো নয়। প্রতিনিয়ত তাদেরকে সম্মুখীন হতে হয় নানা চ্যালেঞ্জের। কখনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কখনো খাবারের তীব্র সংকট। এখানে বেঁচে থাকাটাই যেন একটা রীতিমত লড়াই।’ কথাগুলো বলছিলেন শরুব ইয়ুথ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা জান্নাতুল নাঈম। নাঈম বেড়ে ওঠেছেন দক্ষিণের উপকূলবর্তী এলাকা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায়। ছোট থেকেই এ অঞ্চলের নদী ভাঙন, জলাবদ্ধতা, সুপেয় পানির অভাবের মতো প্রতিকূলতার  সাথে পরিচয় তার।

২০১৮ সালে স্থানীয় কিছু স্বেচ্ছাসেবকের সঙ্গে কাজ শুরু করেন নাঈম। দলগুলো অংশ নিত  স্থানীয় বিভিন্ন সেবামূলক কাজে। একপর্যায়ে নাঈমের ভাবোদয় হলো এভাবে দু-একটি সেবামূলক কাজ করে এই উপকূলীয় মানুষের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি। তাই ২০২১ সালে কয়েকজন উদ্যমী তরুণকে নিয়ে শুরু করেন শরুব ইয়ুথ সংগঠন। যার লক্ষ্য জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নত করা। বর্তমানে তাদের সাথে শতাধিক নারী-পুরুষ স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে কাজ করছে।

ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদী ভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে যখন এসব উপকূলবর্তী প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়, তখন নিরুপায় মানুষদের পাশে দাঁড়ায় শরুব ইয়ুথ। ত্রাণ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে,  উদ্ধার কাজ পরিচালনা করে। তাই অল্প দিনেই খুব প্রশংসা কুড়িয়েছে স্থানীয়দের।

জান্নাতুল নাঈম

শরুব ইয়ুথ সংগঠনটি শ্যামনগরের প্রান্তীয় অঞ্চলে ২৫টি গভীর নলকূপ স্থাপন করে প্রায় ১৫০০ মানুষের বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করেছে। নদী ভাঙন ও বজ্রপাত রোধে প্রায় ১০ হাজার বৃক্ষরোপণ করেছে উপকূলীয় অঞ্চলে। স্থানীয় কালভার্ট-ব্রিজ নির্মাণে স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছে তাদের সদস্যরা। এছাড়াও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ ও বাল্যবিবাহ রোধে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে নিয়ে চলে তাদের নিয়মিত উঠান বৈঠক। রক্ত দান, শীতবস্ত্র দান, বিশেষ দিবসগুলোতে গরিব-অসহায়দের মাঝে খাবার প্রদানের মতো  সেবামূলক কাজ করে গেলেও তাদের মূল লক্ষ্য উপকূলবাসীকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে রক্ষা করা। তাই এ  বিষয়ে আয়োজন করছে নিয়মিত সভা-সেমিনার।

দৈনিক ইত্তেফাককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংগঠনের পরিচালক জান্নাতুল নাঈম বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করতে হলে প্রথমত আমাদের জীববৈচিত্র্যকে রক্ষা করতে হবে। তাই আপাতত এ বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় নদী ভাঙন প্রবণ এলাকায় বাঁধ নির্মাণ করছি। পুল-সাকো-কালভার্ট মেরামত করছি। জলবায়ু ন্যায্যতার দাবিতে সাতক্ষীরা জেলায় প্রতি সপ্তাহের শুক্রবারে যুবদের অংশগ্রহণে জলবায়ু অবরোধ কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছি।’

অবহেলিত জনগোষ্ঠীর মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে তারা স্থাপন করেছে আশার আলো শিক্ষালয়। ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের ফেরানোর জন্য এই আয়োজন। শরুব ইয়ুথ টিমের এবারের লক্ষ্য আরো বিস্তৃত। কাজ করবে সারা দেশে। গড়ে তুলবে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ।

ইত্তেফাক/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন