অব্যবস্থাপনায় বৃষ্টির পেটে বিশ্বকাপ!

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৯, ২১:৫৯

স্পোর্টস রিপোর্টার, টনটন (ইংল্যান্ড) থেকে

এবারের বিশ্বকাপে নতুন রেকর্ড গড়েছে বৃষ্টি। বৃষ্টির কারণে চারটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। একটি ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে ডিএলএস পদ্ধতিতে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে সর্বোচ্চ দুটি ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছিল। ১৯৯২ ও ২০০৩ বিশ্বকাপে দুটি করে ম্যাচ বৃষ্টিতে পণ্ড হয়। এবার আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড হয়েছে।

প্রতিটি বিশ্বকাপে ফাইনালের পর যে ম্যাচটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি জল্পনা কল্পনা হয় সেটি হলো ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ।

আগামী রবিবার ম্যানচেস্টারে হতে যাওয়া ম্যাচটি নিয়ে দুই দেশের সমর্থকরা উত্তেজনায় টগবগ করে ফুটছেন। কিন্তু তাদের উত্তেজনার উষ্ণ জলে বরফ ঢালতে পারে বৃষ্টি। কারণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস সেদিনও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে বৃষ্টি হতে পারে সকালের দিকে। যতই বেলা গড়াবে বৃষ্টির তোড় কমে যেতে থাকবে। তবুও শঙ্কায় রয়েছেন সমর্থকরা। লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছে টিভি চ্যানেলগুলো যারা পাক-ভারত দ্বৈরথ সামনে রেখে বিশাল বাণিজ্যের পরিকল্পনা করেছিল।

আর বৃষ্টির এই দাপটের পেছনে আইসিসির সমালোচকরা দায় দেখছেন আইসিসি ও ইসিবির অব্যবস্থাপনার। কারণ, বৃষ্টির সময় পুরো মাঠ ঢেকে রাখার মতো কাভার ব্যবস্থা কোনো মাঠেই রাখা হয়নি। ফলে বৃষ্টি থেমে গেলেও খেলার জন্য মাঠ তৈরি করতে পারছে না আইসিসি। এ নিয়ে দারুণ সমালোচনা করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, কিছু বাড়তি খরচ হবে, এই কারণে ইসিবি কাভারের ব্যবস্থা করেনি।    

অবশ্য জুন মাসে সাধারণত খুব একটা বৃষ্টি হয় না যুক্তরাজ্যে। গত বছর গোটা যুক্তরাজ্যে মাত্র ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল। তবে এবার রেকর্ড হচ্ছে। গত সোমবার একদিনে শুধু পূর্ব লন্ডনে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। তাই এবারের বিশ্বকাপকে মজা করে বৃষ্টিকাপও বলা হচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক রসালো মন্তব্য জুড়ে দিচ্ছেন অনেকে।

বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত ৪ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট পেয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে নিউজিল্যান্ড। তবে কারো কারো মতে, নিউজিল্যান্ড না। আসলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকবে বৃষ্টি। বৃষ্টির কারণে ৪টি ম্যাচে কোনো ফলাফল হয়নি। এর মধ্যে তিনটি ম্যাচে টস করাও সম্ভব হয়নি। তাই চার ম্যাচে বৃষ্টির পয়েন্ট ৮। 

বৃষ্টির কারণে শ্রীলঙ্কার সাথে পরিত্যক্ত ম্যাচে এক পয়েন্ট হারায় বাংলাদেশ। পয়েন্ট ভাগাভাগিতে হতাশা প্রকাশ করেন দলের কোচ স্টিভ রোডস। ব্রিস্টলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা চাঁদে মানুষ পাঠাতে পারি তাহলে বিশ্বকাপে রিজার্ভ ডে রাখতে পারি না কেন?’

রিজার্ভ ডে না রাখায় সমালোচনা শুনতে হচ্ছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসিকে। তবে এর কারণও ব্যাখ্যা করেছে সংস্থাটি। তারা বলছে, রিজার্ভ ডে রাখা হলে টুর্নামেন্টের দৈর্ঘ্য অনেক বেড়ে যাবে। এতে টুর্নামেন্ট সম্পন্ন করা নিয়ে জটিলতা তৈরি হবে। আবার রিজার্ভ ডের দিনেও যে বৃষ্টি হবে না, তারই নিশ্চয়তা কি। একটা ম্যাচে মাঠে প্রায় ১২০০ কর্মী থাকে। রিজার্ভ ডেতে তাদেরকে পাওয়া যাবে কিনা, আম্পায়ার, ম্যাচ অফিসিয়াল, স্বেচ্ছাসেবকরা থাকবেন কিনা, সেটাও বড় প্রশ্ন। সমস্যায় পড়বেন দর্শকরাও। একটা ম্যাচ দেখার জন্য পরপর দুদিন মাঠে আসাও তাদের জন্য কঠিন কাজ।

আগামী সোমবার টনটনেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। যদি সেই আশঙ্কা সত্য হয়, তাহলে হয়তো আরো একটা ম্যাচে এক পয়েন্ট নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হবে বাংলাদেশকে।