ভুল হইতে শিক্ষা গ্রহণের প্রয়োজন

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২২, ০১:২০

উন্নয়নশীল দেশের সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা লইয়া রহিয়াছে নানা মুণির নানা মত। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা উন্নয়নশীল বিশ্বের সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করিতে চেষ্টা করিয়া থাকে নানা দৃষ্টিকোণ হইতে। ইউনাইটেড ন্যাশনস কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বা আংকটাড মনে করে, দুর্নীতি, জ্বালানি সংকট, আমদানি-রপ্তানি জটিলতাগুলি বড় সমস্যা। আবার ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেশন বা ফাও মনে করে, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করিতে না পারা প্রধান একটি অন্তরায়। দারিদ্র্যের কারণে এবং খাদ্যের অপ্রতুলতার কারণে উন্নয়নশীল বিশ্ব তাহার পপুলেশন লইয়া আগাইতে পারে না। অন্যদিকে ইউনাইটেড ন্যাশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম বা ইউএনডিপি মনে করে, দারিদ্র্য বিমোচন, লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন,  স্থিতিশীল সমাজব্যবস্থা, বিচার সুনিশ্চিত করা এবং সাশ্রয়ী জ্বালানি উৎস নিশ্চিত করিতে পারা উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আবার ইউনাইটেড ন্যাশনস এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন বা ইউনেসকো মনে করে, সঠিক শিক্ষা প্রদান করিতে না পারা, উন্নত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকার কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলি জাতীয়ভাবে পিছাইয়া থাকে। বিভিন্ন সংস্থা হইতে বিভিন্নভাবে সমস্যা চিহ্নিত করা হইলেও, ইহার সবগুলিই সত্য। কিন্তু আরো একটি বড় সমস্যার কথা অনুল্লিখিতই রহিয়া যায়, যাহা আমরা নিবিড়ভাবে দেখিতে পাই। আর তাহা হইল, উন্নয়নশীল দেশগুলি তাহাদের ভুল হইতে শিক্ষা গ্রহণ করে না। এই সমস্যা অন্যান্য অনেকগুলি সমস্যার জন্ম দিয়া থাকে। সরকারে যাহারাই থাকুক না কেন, একটা সংস্কৃতি দাঁড়াইয়া রহিয়াছে ভুল হইতে শিক্ষা না লইবার। এই যে ভুলভ্রান্তি হয়, তাহা কাহারো নিকট অজানা নহে। কিন্তু সেই  ভুল শুধরাইবার কোনো তাগিদ লক্ষ করা যায় না। ফলে যাহা হইবার তাহাই হয়। জনগণের অভিযোগের পাহাড় জমিতে থাকে। তাহার কোনো প্রতিকার হয় না। জনগণও সেই কারণেই জনপ্রতিনিধিদের, সরকারি কর্মকর্তাদের সকলকেই নেতিবাচক অবস্থানে দাঁড় করাইয়া থাকে। 

দুর্বলতা রহিয়াছে, সত্য। একটি দুর্ঘটনায় পর দেখা যায় তদন্ত কমিটি গঠিত হইয়াছে। পত্রপত্রিকায় তাহা ফলাও করিয়া প্রকাশ পাইয়াছে। কিন্তু সেই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অতল গহ্বরে ঢুকিয়া যায়। কী অ্যাকশন হইয়াছে, অথবা আদৌ হইয়াছে কি না তাহা জানিবার আর উপায় থাকে না। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে যে গাফিলতি, যে অনিয়মগুলি দেখা যায় তাহার চেহারা পূর্বেও যেই রকম ছিল, এখনো সেই রকমই রহিয়াছে। ইহার প্রধানতম কারণ হইল কোনো অ্যাকশন না হওয়া। জগতের কেহই জবাবদিহি হইতে চাহে না, জবাবদিহি করিতে হয়—এই সত্য উপলব্ধি করিতে না পারিলে কোনো কিছুই ঠিকমতো কাজ করিবে না। সরকারের প্রতিটি অফিসে লোকবল রহিয়াছে। প্রধান কার্যালয় হইতে শুরু করিয়া বিভাগীয়, জেলা, থানা পর্যায়ে কয়েক স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী রহিয়াছেন। তাহাদের উপর অর্পিত সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব রহিয়াছে। কেহ কি দাবি করিতে পারিবেন যে সর্বক্ষেত্রে উহা পালন হইতেছে? বাস্তব হইল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হইতেছে না! এই ক্ষেত্রে ইহাও সত্য যে জনগণের সচেতনতার অভাব রহিয়াছে। তাহাদের বেশির ভাগই জানে না কোনটা তাহার অধিকার আর কোনটা তাহার দায়িত্ব। এই সচেতনতা যত দিন না আসিবে তত দিন পুরো জাতিকেই ধুঁকিতে হইবে। সুতরাং এক দিকে যেমন সরকারের পক্ষ হইতে অ্যাকশন বা প্রতিকারের ব্যাপারে কঠিন হইতে হইবে, অপরদিকে জনগণকেও সচেতন হইতে হইবে। তাহা হইলেই উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলির ভাগ্যের পরিবর্তন হইতে পারে।

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন