শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

চীনকে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের আহ্বান পাকিস্তানের

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২২, ২১:৩১

গত বৃহস্পতিবার, পাকিস্তান  চীনকে ১৮.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পাঁচটি প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ করে। এ প্রকল্পগুলি পূরণ করতে আরো বিলম্ব ঘটলে তা এক বছরে রেল ব্যবস্থার পতন ঘটাবে এবং ৩১০০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদনেও বিলম্ব ঘটাবে।

১১তম যৌথ সহযোগিতা কমিটির (জেসিসি) বৈঠকে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন মন্ত্রী আহসান ইকবাল এ দাবি জানান। ইকবাল মোট ১১ টি জেসিসি অধিবেশনের মধ্যে আটটির সভাপতিত্ব করেছেন।

চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) জেসিসি বৈঠক কোনো নতুন ঘোষণা ছাড়াই শেষ হয়েছে এবং এতে আট বছর আগে সম্মত স্কিম বাস্তবায়নে দীর্ঘ বিলম্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

আহসান ইকবাল ছাড়াও বৈঠকে সহ-সভাপতি ছিলেন জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনের (এনডিআরসি) ভাইস চেয়ারম্যান লিন নিনজিউ।

ইসলামাবাদ বেইজিংকে ১০ বিলিয়ন ডলারের মেইনলাইন-১ রেলওয়ে প্রকল্প, ১.২ বিলিয়ন ডলারের করাচি সার্কুলার রেলওয়ে প্রকল্প, ১.৬ বিলিয়ন ডলারের আজাদ পাত্তান জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, ২.৫ বিলিয়ন ডলারের কোহালা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ৩ বিলিয়ন ডলারের থার ব্লক-আই কয়লা প্রকল্পকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিবেচনা করার অনুরোধ করেছে।

"দুই পক্ষের নানা বাধার কারণে এই প্রকল্পগুলি বছরের পর বছর ধরে বিলম্বের সম্মুখীন হচ্ছে," বলে জানিয়েছেন একজন কর্মকর্তা।

এর পাশাপাশি, পরিকল্পনা মন্ত্রী ৫৮৪ মিলিয়ন ডলারের গোয়াদর পাওয়ার প্লান্ট স্থানান্তরের ব্যাপারে পাকিস্তানের অনুরোধকে বিবেচনা করার জন্য চীনের কাছে আবারো আর্জি জানান।

যে সুযোগগুলি তারা ইতোমধ্যে হারিয়ে ফেলেছেন তা তিনি তুলে ধরেন। এ ব্যাপারে বিশেষ করে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) বিকাশে চীনা অভিজ্ঞতার সদ্ব্যবহার করতে পাকিস্তানের ব্যর্থতার কথা তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি পাকিস্তানের রেল ব্যবস্থাকে বাঁচাতে চীনের সাহায্য চাওয়ার সময় প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘ বিলম্বের দিকেও ইঙ্গিত করেন।

"সরকার এখনো ১১ তম জেসিসির কার্যবিবরণীতে স্বাক্ষর করেনি এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের চীন সফরের সময় এর ফলাফল সম্পর্কে একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে," বলে মন্ত্রী জানান। আগামী ১ নভেম্বর দুই দিনের সফরে চীন যাবেন প্রধানমন্ত্রী।

একটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সফরে অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতের কিছু প্রকল্পে নতুন অগ্রগতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইভাবে চীনে কিছু কৃষিপণ্য রপ্তানির সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে। তথ্য প্রযুক্তি এবং এসইজেডের পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতার জন্য সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হবে। 

২০১৩ সালে শুরু হওয়া, এ পর্যন্ত ১৮.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ২৮ টি প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের স্কিমগুলি বাস্তবায়িত হচ্ছে বা পরিকল্পনার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

ইকবাল এনডিআরসি ভাইস চেয়ারম্যানকে জানান, "যদি আমরা অবিলম্বে এমএল-আই প্রকল্পটি শুরু না করি, তাহলে পাকিস্তান রেলওয়ের মূল লাইন সম্ভবত এক বছরের মধ্যেই ভেঙে পড়বে।"

তিনি আরো বলেন যে যেহেতু চীন এমএল-আই প্রকল্পটি সিপিইসিতে নিয়েছে, তাই পাকিস্তান রেলওয়ে এই প্রকল্পে কোন প্রকার বিনিয়োগ করেনি।

গত সপ্তাহে, পাকিস্তান প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার করেছে, অর্থাৎ এই ব্যয় প্রায় ৪৫% বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইকবাল চীনকে বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে এমএলআই প্রকল্পের জন্য একটি অর্থায়ন চুক্তির পথও প্রশস্ত হবে।"

মন্ত্রী বলেন যে চীন মেইনলাইন-১ এবং করাচি সার্কুলার রেলওয়েতে কাজ শুরু করার গুরুত্ব স্বীকার করেছে।

বৈঠকের পর ইকবাল বলেন, সরকার চলমান পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করছে এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্রও চিহ্নিত করছে।

পাকিস্তান আবারও চীনকে আশ্বস্ত করেছে যে এটি সিপিইসি কাঠামোর অধীনে সম্মত ট্যাক্স এবং শুল্ক নীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে এবং এটি চীনা স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন তার সমাধান করবে।

মন্ত্রী ৩১০০ মেগাওয়াট মোট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন তিনটি প্রকল্পের বাস্তবায়নে দীর্ঘ বিলম্ব হচ্ছে বলে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি চীনকে তাদের অর্থায়ন চুক্তি দ্রুত চূড়ান্তকরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

পাকিস্তান ১.৬ বিলিয়ন ডলারের আজাদ পত্তন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ২.৫ বিলিয়ন ডলারের কোহালা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ ত্বরান্বিত করতে চীনের সাহায্য চেয়েছে। ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ১৩২০ এমডব্লিউ থার ব্লক-১ প্রকল্পের টাকাও মুলতুবি রয়েছে।

তবে বিলম্বের জন্য পাকিস্তানকেই দায়ী করা উচিত। কারণ দেশটি চীনা শক্তি উৎপাদনকারীদের সার্কুলার ঋণ থেকে বাঁচাতে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার মূল চুক্তির শর্ত পূরণ করতে পারেনি।

পাকিস্তান চীনকে ৩০০ মেগাওয়াট আমদানি করা কয়লা-চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিকল্প পর্যালোচনা করার জন্য অনুরোধ করেছিল। মূলত আমদানি করা কয়লার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি এবং সরকারও গোয়াদরে কঠোর পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করতে চেয়েছিল।

পরিকল্পনা মন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে পাকিস্তান মূলত চীনা অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পারেনি।

ইত্তেফাক/এএইচপি