চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগে দেশটির মধ্যডানপন্থি সরকারের পদত্যাগ দাবি করে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমেছেন। তারা আগাম নির্বাচনের দাবি করেছেন। একইসঙ্গে তারা শীতের আগেই গ্যাস সরবরাহ নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাগের প্রধান চত্বরে ছুটির দিনে এ নিয়ে একই দাবিতে তৃতীয় বিক্ষোভ করলো কট্টর ডানপন্থি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, কমিউনিস্ট পার্টি ও মূলধারার বাইরের কিছু গোষ্ঠী। শুক্রবারের (২৮ অক্টোবর) বিক্ষোভে উপস্থিতি লাখখানেকের চেয়ে কম হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ।
'চেক রিপাবলিক ফার্স্ট' ব্যানারে আয়োজিত এই বিক্ষোভে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট নেটোকে নিয়ে আপত্তি জানানোর পাশাপাশি এক কোটির সামান্য বেশি জনসংখ্যার চেক প্রজাতন্ত্র যেন সামরিকভাবে নিরপেক্ষ থাকে সে দাবিও তোলা হয়েছে।
চেক প্রজাতন্ত্রের পতাকা হাতে বিক্ষোভকারীরা এদিন 'পদত্যাগ, পদত্যাগ' স্লোগান দেন। তাদের অনেকের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে নেটো ও ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চিহ্ন প্রদর্শিত হয়েছে।
লাদিস্লাভ ভ্রাবেল নামক একজন আয়োজক জানিয়েছেন, এটা জাতীয় নবজাগরণ, যার লক্ষ্য হচ্ছে চেক প্রজাতন্ত্রকে স্বাধীন করা। ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তাদের বাড়তি খরচ কমাতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সরকারগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে।
চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী পিওতর ফায়ালাও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞায় স্বাক্ষর করেছেন। জ্বালানি ব্যয় নিয়ে সৃষ্ট সংকট মোকাবেলায় কিছু পদক্ষেপও নিয়েছে দেশটির সরকার। এসবের মধ্যে আছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা এবং বাড়ির বিদ্যুৎ বিল সর্বোচ্চ কত হতে পারবে, তা নির্ধারণ করে দেওয়া।
