পার্বতীপুর পৌরসভা

আটটি নলকূপ বসানোর ২৭ বছর পরও মিলছে না পানি

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২২, ০৩:২২

প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে পার্বতীপুর পৌরসভার বিশেষ পানি সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ ২৭ বছর পূর্বে শেষ হলেও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও পৌরসভার মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের কারণে পৌরবাসী বিশুদ্ধ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

জানা যায়, ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে জিওবি তহবিল থেকে পানি সরবরাহ প্রকল্পের জন্য ৮৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেই বছর কাজটি সম্পূর্ণ না হওয়ায় ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে আরো বরাদ্দ দেওয়ায় মোট বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি টাকা। প্রকল্পের কাজের মধ্যে রয়েছে পৌর এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য ৮ কিঃমিঃ পাইপলাইন স্থাপন, দুটি পরীক্ষামূলক নলকূপ, দুটি উৎপাদক নলকূপ, দুটি পাম্প হাউজ ও পাইপ মেরামত। সম্পূর্ণ কাজটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী বিভাগের তত্ত্বাবধায়নে সম্পন্ন হয়। এজন্য তারা পৌরসভার নিকট প্রয়োজনীয় ম্যাপসহ এলাকার বিবরণ, দুটি গভীর নলকূপ বসানোর জন্য জায়গা এবং পাইপ বসানোর জন্য পৌর এলাকায় পাকা রাস্তা কাটার অনুমতি চায়। পৌরসভা এ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ তদারকি করার জন্য সরকারি নির্দেশিকা মোতাবেক একটি কমিটি গঠন করে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এ কমিটিকে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেওয়া হয়। কিন্তু কার্যত কমিটি তদারকি ও পরামর্শ উপেক্ষা করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কাজে ব্যাপক অনিয়ম করে। 'নিয়ম বহির্ভূতভাবে পাকা রাস্তা কেটে টিঅ্যান্ডটি আন্ডার গ্রাউন্ড ক্যাবলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করা হয়। রাস্তার ইট, বড় বড় বোল্ডার পাথর পৌরসভায় জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়। ভূগর্ভস্থ জিআই পাইপ পরিবর্তন করে পিভিসি পাইপ বসানোর সময় সরকারি স্টকে জমা না দিয়ে মূল্য করে দেওয়া হয়। কমিটিকে পাশ কাটিয়ে কোনো কিছুকে তোয়াক্কা না করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের এই ধরনের স্বেচ্ছাচারিতামূলক কাজে পৌরসভা বারবার চিঠি দিলেও পৌরসভাকে উপেক্ষা করে কাজ সম্পন্ন করা হয়। ফলে পৌরসভার চেয়ারম্যান গঠিত কমিটি পদত্যাগ করে। ফলে গত ১৯৯৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর দিনাজপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পত্র দেওয়া হয়।

এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে পানি সরবরাহের কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ আছে। জনস্বাস্থ্য বিভাগ ও পৌরসভার টানাহ্যাঁচড়ার কারণে বিশেষ পানি সরবরাহ প্রকল্পের বিশুদ্ধ পানির সুবিধা থেকে ৬২ হাজার পৌরবাসী আজ ২৭ বছর যাবৎ বঞ্চিত। 

পার্বতীপুর জনস্বাস্থ্য সহকারী প্রকৌশলী মো. নাজিম উদ্দীন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ইতিপূর্বে পৌরসভা এলাকায় গুলশাননগর, আমীরগঞ্জ, ধুপিপাড়া ও পুরাতন বাজারে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য চারটি গভীর নলকূপ বসানোর পর অনেক দিন পর বাস টার্মিনাল এলাকায় আরো একটি গভীর নলকূপ বসানো হলে মোট গভীর নলকূপের সংখ্যা পাঁচটি দাঁড়ায়। এরপর পানি সরবরাহ চালু না হওয়া সত্ত্বেও আরো নতুন তিনটি গভীর নলকূপ উপজেলা পরিষদ, আমেরিকা ক্যাম্প ও বৃত্তিপাড়া এলাকায় বসানো হয়েছে।

মোট আটটি গভীর নলকূপ বসানো হওয়া সত্ত্বেও কেন পার্বতীপুর পৌরবাসী বিশুদ্ধ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তা জনস্বাস্থ্য সহকারী প্রকৌশলী মো. নাজিম উদ্দীন সরকারকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, কাগজকলমে আমি পৌরসভা কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করেছি। সে সময়কার পৌর মেয়র এ জেড এম মেনহাজুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, সঠিকভাবে পৌরসভার কাছে হস্তান্তর না করায় তা বুঝিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম ও বর্তমান পৌর প্রশাসক মো. ইসমাইল (ইউএনও) সাহেবের সঙ্গে পৌরবাসীর জন্য বিশেষ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা প্রসঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী দপ্তর থেকে পানি সরবরাহ প্রকল্প হস্তান্তর সম্পর্কে তারা জানেন না।

ইত্তেফাক/ইআ