একদিন পরেই ২০ বছরে পা দিতেন ইরানের খ্যাতনামা শেফ মেহরশাদ শাহিদি। কিন্তু তার আগেই তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে রেভলিউশনারি গার্ড ফোর্স। হিজাব বিরোধী আন্দোলনে পথে নেমেছিলেন শাহিদি। তখনই তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে হেফাজতে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৯ অক্টোবর) শাহিদির শেষকৃত্যের সময় প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন হাজার হাজার মানুষ। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯ বছর বয়সেই দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন শাহিদি। তাকে ইরানের 'জেমি অলিভার' বলা হতো। আরক শহরে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদের সময় তাকে তুলে নিয়ে যায় ইরানের নিরাপত্তা রক্ষী।
হেফাজতে নিয়ে তাকে নির্মমভাবে পিটানোর অভিযোগ উঠেছে। মাথায় আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। শাহিদির পরিবার অভিযোগ করেছে, তাদের ছেলের হৃদ্রোগে মৃত্যু হয়েছে বলার জন্য চাপ দিচ্ছে পুলিশ ও প্রশাসন।
ইরানের প্রশাসন অবশ্য শাহিদির মৃত্যুর দায় এড়িয়ে গেছে। ইরানের প্রধান বিচারপতি আবদোলমেহদি মৌসাভি জানিয়েছেন, শাহিদির দেহে হাত, পা বা মাথা ভাঙার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
যদিও শাহিদির মৃত্যু নিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের দিকেই আঙুল তুলেছেন অনেকে। চিকিৎসক নিনা আনসারি জানিয়েছেন, মেহরশাদ শাহিদি বুট রেস্তরাঁর একজন প্রতিভাশালী শেফ ছিলেন। ইরানে তাকে ভয়ঙ্কর ভাবে খুন করা হয়েছে। পরের দিন তার ২০ বছরের জন্মদিন ছিল। তারা কখনও ভুলবেন না এবং কখনও ক্ষমাও করবেন না।
ঠিকমতো হিজাব না পরার অভিযোগে ইরানের নীতি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন ২২ বছরের তরুণী মাহশা আমিনি। হেফাজতে মৃত্যু হয় তার। সেই থেকে প্রতিবাদের আগুনে জ্বলছে ইরান। ইরানের নিরাপত্তা রক্ষীদের হাতে খুন হয়েছেন অনেক প্রতিবাদী। যদিও ইরানের দাবি, এসব কিছুর পিছনে যুক্তরাষ্ট্র দায়ী।
