যমুনা অয়েল
সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম অফিস
যমুনা অয়েল কোম্পানির প্রায় কোটি টাকা মূল্যের তেল পাচারের ঘটনা গত দেড় বছরেও সুরাহা হয়নি। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত রিপোর্ট প্রদানের একবছর পরও এর বাস্তবায়ন হয়নি। এরই মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তেল পাচারের ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি ঝুলে থাকার পরিপ্রেক্ষিতে সাময়িক বহিষ্কৃতদের একজন ইতিমধ্যে চাকরিতে পুনর্বহালের জন্য উচ্চ আদালতে রিট করেছেন।
গত ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর যমুনা অয়েল কোম্পানির পতেঙ্গার প্রধান স্থাপনা থেকে খুলনার দৌলতপুর ডিপো এবং নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ডিপোর জন্য দুটি জাহাজে অতিরিক্ত ডিজেল ভর্তি করে পাচার করা হয়। দৌলতপুরগামী এম টি রাইদা জাহাজে ৫০ হাজার ৯০০ লিটার এবং ফতুল্লা ডিপোগামী এম টি মনোয়ারা জাহাজে অতিরিক্ত ১ লাখ ৭৮২ লিটার ডিজেল ভর্তি করা হয়। দুটি জাহাজে ১ লাখ ৫১ হাজার ৮৯০ লিটার অতিরিক্ত ডিজেল ভর্তি করে পাচার করা।
খুলনা এলাকায় অতিরিক্ত সেই তেল অবৈধভাবে বিক্রির সময় বিষয়টি নজরে আসে র্যাব-৬ এর টহল টিমের। এ ঘটনায় জাহাজের কর্মচারী ও যমুনা অয়েল কোম্পানির তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তেল চুরির মামলা হয়। সে সময় বিপিসির চেয়ারম্যান ও বর্তমানে জ্বালানি সচিব রহমতুল মুনিরের নির্দেশে বিপিসি এবং যমুনা অয়েল কোম্পানি দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। যমুনা অয়েল কোম্পানির এজিএম (টার্মিনাল) নুরুদ্দিন আহমেদ আল মাসুদ, বাল্ক ইনচার্জ প্রিয়তোষ নন্দী ও সিনিয়র অফিসার অপারেশন্স সমীর কুমার পালকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এদিকে গত ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি যমুনা অয়েল কোম্পানির উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. মাসুদ করিমকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি একই বছরের ৩ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।
তদন্ত প্রতিবেদনে সাময়িক বরখাস্তকৃত তিনজনসহ ছয়জনকে তেল পাচারের ঘটনায় দায়ী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সহকারী ম্যানেজার আবদুর রাজ্জাক রাইদা জাহাজের ডুপ্লিকেট পিটিও (প্রোডাক্ট ট্রান্সফার অর্ডার) আদালতে উপস্থাপনের মাধ্যমে সাময়িক বহিষ্কৃত তিনজন খুলনার মামলায় অব্যাহতি পান। বিভাগীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে যমুনার সহকারী ম্যানেজার আবদুর রাজ্জাক, ম্যানেজার (ওসি) জাহেদ মুরাদ, বাল্ক ইনচার্জ প্রিয়তোষ নন্দী, সিনিয়র অফিসার সমীর কুমার পাল, সিনিয়র অফিসার মো. নুরুল আলম এবং এজিএম (টার্মিনাল) নুরুদ্দিন আহমেদ আল-মাসুদকে দায়ী করা হয়।
প্রতিবেদনের পর যমুনা অয়েল কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াসউদ্দিন আনচারী দায়ীদের বিরুদ্ধে আর্থিক ক্ষতির দায়-দায়িত্ব নিরূপণ এবং হার নির্ধারণের জন্য যমুনার জিএম (বিপণন) মো. আইয়ুব হোসেনকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী দায়ী ছয়জনের মধ্যে মো. জাহেদ মুরাদকে বাদ দিয়ে বাকি পাঁচজনের ওপর বিভিন্ন অনুপাতে পাচার হওয়া দেড় লক্ষাধিক ডিজেলের মূল্য বাবদ প্রায় ৯৫ লাখ টাকা দায় নির্ধারণ করেন। কিন্তু এ পর্যন্ত যমুনা অয়েল কোম্পানি থেকে তদন্ত প্রতিবেদন ও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের সুপারিশ অনুযায়ী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা যায়। অপরদিকে সম্প্রতি দুদকের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণে পত্র দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে যমুনা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গিয়াসউদ্দিন আনচারী কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
