সাফাই গাইতে বাধ্য হলেন জার্মান চ্যান্সেলর 

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২২, ১৬:৩১

মাত্র ১১ ঘণ্টার জন্য চীন সফরে যাচ্ছেন জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস। কিন্তু তার এই সংক্ষিপ্ত সফরকে ঘিরে দেশে-বিদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া পরিবর্তিত বিশ্বের বাস্তবতা তুলে ধরছে। ইউক্রেন যুদ্ধ ও তাইওয়ানের প্রতি হুমকির মতো কারণে আজ রাশিয়া ও চীন আন্তর্জাতিক আঙিনায় কতটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। শলৎস বেইজিং যাওয়ার আগে এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও জার্মানিকে সতর্ক করে দিলো। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বৃহস্পতিবার জার্মানিতে জি-সেভেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও বিষয়টি উত্থাপন করবেন বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের পর তিনিই ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম শীর্ষ নেতা হিসেবে চীন সফরে যাচ্ছেন। 

হামবুর্গ শহরের বন্দরের তিনটি টার্মিনালের বেসরকারি মালিকানায় এক চীনা কোম্পানির অংশগ্রহণের মতো আপাতদৃষ্টিতে ‘তুচ্ছ' বিষয়ও পশ্চিমা বিশ্বে বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বুধবার জার্মানিকে সে বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন। জার্মানির মধ্যেও জরুরি অবকাঠামোর ক্ষেত্রে চীনের আদৌ কোনো ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এমনকি জোট সরকারের মধ্যেও চীনা কোম্পানির অংশগ্রহণের তীব্র বিরোধিতা দেখা গেছে। শেষ পর্যন্ত নিজস্ব সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে জার্মান চ্যান্সেলরকে বাধ্য হয়ে কসকো কোম্পানির মালিকানার অনুপাত ২৪.৯ শতাংশে কমিয়ে আনতে হয়েছে। সে ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। 

এমন প্রেক্ষাপটে চীন সফরের আগে চ্যান্সেলর শলৎস বুধবার জানিয়েছেন, তিনি মোটেই এ বিষয়ে বিতর্ক এড়িয়ে যাচ্ছেন না। ফ্রাংকফুর্টার আলগেমাইনে সাইটুং সংবাদপত্রে তিনি চীন সম্পর্কে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। শলৎসের মতে, দুই পক্ষের স্বার্থ পূর্ণ হলে জার্মানি তবেই সহযোগিতা চায়। কিন্তু বিতর্কও এড়িয়ে যাওয়া হবে না। বেইজিং সফরে তিনি এমন বিতর্কিত বিষয়গুলি তুলে ধরার আশ্বাস দিয়েছেন। নাগরিক স্বাধীনতা, চীনের শিংচিয়াং প্রদেশে সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং মুক্ত ও অবাধ বিশ্ব বাণিজ্যের মতো বিষয় তিনি আলোচনার সূচিতে রাখবেন বলে জানিয়েছেন শলৎস। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কেচিয়াং-এর সঙ্গে মুখোমুখি সংলাপ অত্যন্ত জরুরি বলে জার্মান চ্যান্সেলর মনে করেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, যে কোভিড মহামারির কারণে তিন বছর ধরে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের আলোচনা সম্ভব হয় নি। 

জার্মান চ্যান্সেলরের সঙ্গে জার্মান শিল্পবাণিজ্য জগতের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলও চীনে যাচ্ছে। সে দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও জার্মানি তথা ইউরোপে সংশয় বাড়ছে। ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে জার্মানি রাশিয়ার জ্বালানির উপর অতিরিক্ত নির্ভর করে আজ যেভাবে বেকায়দায় পড়েছে, ভবিষ্যতে চীনের ক্ষেত্রেও একই আশঙ্কা বাড়ছে। জার্মানির একাধিক শিল্পক্ষেত্র ইতোমধ্যেই চীনের সঙ্গে বাণিজ্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। শলৎস অবশ্য সমালোচকদের আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, তিনি চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমান পারস্পরিক অধিকারের উপর জোর দেবেন। তিনি জার্মানির সংকীর্ণ স্বার্থে ইউরোপের স্বার্থ খর্ব না করারও অঙ্গীকার করেছেন।

ইত্তেফাক/এসআর