রোববার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

নির্বাচিত হয়ে ভোটারদের কাছ থেকে ফেরত নিলেন শাড়ি ও পাঞ্জাবি !

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২২, ১৯:৩৬

রংপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটারদের মোট অংকের টাকা দিয়ে সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন এক প্রার্থী। ভোজে জিতে ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে টাকা ফেরত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ অভিযোগ রংপুর জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্য কাউনিয়া উপজেলা ২ নং ওয়ার্ডে সদস্য প্রার্থী আলতাব হোসেনের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে  কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদে এমন অভিযোগ করেছেন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যরা।
 
ভোট কেনার টাকা ফেরত চেয়ে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনায় জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্য আলতাব হোসেনকে নিয়ে উপজেলা জুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

টেপামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইউনুস আলী বলেন, ভোটের আগের রাত সাড়ে ৩টার দিকে আলতাব হোসেন আমার বাড়ি আসেন। এরপর তাকে ভোট দেওয়ার জন্য চেয়ারম্যানকে ১ লাখ এবং পুরুষ ও নারী সদস্যদের ৫০ হাজার করে টাকা দেন। নির্বাচনের পরদিন চেয়ারম্যানসহ সকলের কাছ থেকে চাপ প্রয়োগ করে টাকা ফেরত নিয়েছেন তিনি। 

টেপামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও সদস্য আবুল কাশেম বলেন, আলতাব ভোটে জেতার পর ফোনে চেয়ারম্যানকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং সবাইকে টাকা ফেরত দিতে বলে। পরে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আমরা সবাই তাকে টাকা ফেরত দিয়েছি। 

ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন বলেন, ভোট কেনার জন্য ৫০ হাজার টাকাসহ মিষ্টি, শাড়ি ও পাঞ্জাবির টাকাও ফেরত দিয়েছি আমরা।

ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, আলতাবের কাছ থেকে ভোটের জন্য আমরা কেউ টাকা চাইনি। আলতাব নিজেই ইউনুস আলী মেম্বারের বাড়িতে আমাদেরকে ডেকে নিয়ে জোড় করে ভোট দেওয়ার জন্য ৫০ হাজার করে টাকা দিয়েছিল। ভোটে জেতার পরও আমরা নাকি তাকে ভোট দেই নাই এমন অভিযোগ তুলে আমাদের কাছ থেকে টাকা ও শাড়ি-পাঞ্জাবি ফেরত চান। আমাদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা ফেরত নিয়েছে।

টেপামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদে নারী সদস্য রুহি বেগম বলেন, শুধু নগদ টাকাই নয়, ভোটের আগে দেওয়া মিষ্টি, বাড়ির বাচ্চাদের জন্য দেওয়া উপহার সামগ্রী এবং পাঞ্জাবি-শাড়িও ফেরত নিয়েছেন আলতাব।

রংপুর জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য আলতাব হোসেন বলেন, আমি নির্বাচন করেছি। দিনে-রাতে জনপ্রতিনিধি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চেয়েছি। তারা আমাকে সম্মানিত করেছে। আমি কাউকে টাকা দেইনি, কারও কাছে টাকা ফেরতও চাইনি। যারা টাকা ফেরতের প্রসঙ্গে কথা বলছে। 

তবে তার টাকা ফেরৎ ভাইরাল হওয়া অডিও প্রসঙ্গে বললে তিনি বিষটি এড়িয়ে যান।
 
গত ১৭ অক্টোবর রংপুর জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে কাউনিয়া উপজেলা ২ নং ওয়ার্ডে সদস্য প্রার্থী ছিলেন আলতাব হোসেন, গোলাম সারোয়ার বাবু ও মিজানুর রহমান মিজান । নির্বাচনে ৫২ ভোট পেয়ে আলতাব হোসেন সদস্য নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী গোলাম সারোয়ার ৪০ ভোট ও মিজানুর রহমান মিজান ১ ভোট পান।

রংপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া কাউনিয়া উপজেলার ২নং ওয়ার্ডে ৪০ ভোট পেয়ে পরাজিত সদস্য প্রার্থী গোলাম সারোয়ার বাবু বলেছেন, আলতাব তার অপকর্ম ঢাকার জন্য একটি কুচক্রী মহলসহ পরাজিত সদস্যদের বিরুদ্ধে নানান প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে। এ পর্যন্ত আমরা তার বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য করিনি।

ইত্তেফাক/পিও