বাজারে পাওয়া ড্রাগন ফল তুলনামূলকভাবে বড়। দামও বেশি। এক পাশে লাল থাকলেও অপর পাশে সবুজ। ক্রেতারা রাসায়নিক হরমোন দিয়ে পাকানো ফল বেশি দাম দিয়ে কিনে প্রতারিত হয়। রাসায়নিক ছাড়া জৈব সার দিয়ে পরিচর্চা করা ড্রাগনফল তুলনামূলক ছোট হয়। তার দামও হয় কম। এসব কারণে অভিমান করে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ড্রাগন চাষি ড. আবু বকর প্রিন্স তার বাগান থেকে ৮ শতাধিক ড্রাগন গাছ কেটে ফেলেছেন।
২০১৪ সালের দিকে ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের হাতিলেইট গ্রামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আবু বকর প্রিন্স কিষাণ সমন্বিত কৃষি নামে একটি কৃষি খামার গড়ে তোলেন।
বাংলাদেশে যে ক’জন ড্রাগন চাাষি রয়েছে তার মধ্যে তিনিও একজন। তার খামারে রয়েছে ৬ হাজার ড্রাগন গাছ। এছাড়া খামারে রয়েছে ৬১টি লটকন গাছও। রয়েছে ছয়শত মাল্টা গাছ।এবং ছয়শত আম গাছ। তাছাড়াও তার বাগানে আরও রয়েছে ৩৫ রকমের ফলজ গাছগাছালি।
তিনি নিজেকে আদর্শ চাষি হিসাবে মিডিয়ায় বহুবার আলোড়িত হয়েছেন। বিষমুক্ত ফল ও সবজি আবাদের বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান তার প্রতিষ্ঠিত ‘কিষাণ সমন্বিত কৃষি খামার’। তার বিষমুক্ত ড্রাগনফল রাসায়নিক হরমোন দিয়ে পাকানো ড্রাগনের চেয়ে বাজার দর কম হওয়ায় তিনি মনের ক্ষোভে ৮শ ড্রাগন গাছ কেটে ফেলেছেন।
ড. আবু বকর প্রিন্স বলেন, ড্রাগন গাছে ফুল আসার ৫ দিনের মাথায় অসাধু ড্রাগন চাষিরা ড্রাগন টনিক নামের একটি রাসায়নিক হরমোন স্প্রে করে। ফুলে রাসায়নিক হরমোন স্প্রে করার কারণে ড্রাগন ফল বেশ বড় হয়। জৈবসার দিয়ে পাকানো ড্রাগন তুলনামূলকভাবে ছোট হয় বলে বাজারে দামও কম। প্রশাসনের নজরদারী না থাকায় আদর্শ চাষিরা মার খাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, মানুষ টাকা দিয়ে বিষ কিনে খাচ্ছেন। বিষমুক্ত ড্রাগন চাষ করার পরও দাম কম হওয়ায় মনের ক্ষোভে তিনি ড্রাগন চাষ কেটে ফেলেছেন। আমেরকিান বিউটি নামে ড্রাগনের ৫শ চারা সংগ্রহ করে রেখেছেন। সাহস হচ্ছে না সে চারাগুলো লাগানোর।
ফুলবাড়ীয়া উপজেলা কৃষি অফিসের কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ উপজেলায় ২৬ একর জমিতে ড্রাগনের চাষ হয়। ড্রাগনে রাসায়নিক হরমোন স্প্রে হয় কিনা বিষয়টি তার জানা নেই।
