টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চার সেমিফাইনালিস্ট নিশ্চিত হয়ে গেছে আগেই। আগামীকাল মাঠেও গড়াবে সেমিফাইনালের লড়াই। একাধিক ঘটন-অঘটনের মধ্য দিয়েই নিশ্চিত হয়েছে এবারের আসরের শেষ চার।
চলুন দেখে আসা যাক, বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভের সেরা পাঁচটি মুহূর্ত ছিলো কোনগুলো:
১. কোহলি চমক: গত সেপ্টেম্বরে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে প্রথম সেঞ্চুরি হাকানো ভারতীয় তারকা বিরাট কোহলির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ জয়ী ৮২ রান এমসিজির ৯০ হাজারেও বেশী দর্শককে মুগ্ধ করেছেন।
হারিস রউফের ১৯তম ওভারের শেষ দুই বলে ছক্কা হাকিয়ে ১৬০ রানের জয়ের লক্ষ্য পূরণ করেন তিনি। অসাধারণ ওই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে ভারত। টুর্নামেন্টে আরও দুটি হাফ সেঞ্চুরি হাকিয়েছেন ‘কিং কোহলি’। যার মাধ্যমে তিনি এখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তিনি টপকে গেছেন শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তি মাহেলা জয়বর্ধনেকে।
২. আইরিশ উদযাপন: দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বিদায় করে ‘জায়ান্ট কিলার’ তকমা নিয়ে সুপার টুয়েলভ পর্ব নিশ্চিত করেছিল আয়ারল্যান্ড। কিন্তু এতেই ক্ষান্ত হয়নি এন্ড্রু বালবার্নির দল। বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে তারা আপসেট ঘটায় টুর্নামেন্টের অন্যতম শিরোপা ফেভারিট ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। মেলবোর্নে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়ে বালবার্নি ৬২ রানের এক অসাধারণ ইনিংসের মাধ্যমে ইংলিশদের সামনে ছুড়ে দেন ১৫৮ রানের টার্গেট।
জবাবে বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি থেমে যাবার আগে ১০৫ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারায় থ্রি লায়ন্সরা। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি আইনে ৫ রানে জেতে আয়ারল্যান্ড।
৩. জিম্বাবুয়ের আগুন: পার্থে শেষ বলের নাটকীয়তায় পাকিস্তানকে আরেক দফা দুঃখজনক পরাজয়ের স্বাদ দিয়েছে জিম্বাবুয়ে। ক্রেইগ আরভিনের দলটি তাদের ১৩০ রানের মামুলি সংগ্রহকে সমুজ্জ্বল করে রেখেছে পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজা ও পেসার ব্র্যাড ইভান্সের দক্ষতায় এশিয়ার জায়ান্টদের ১২৯ রানে আটকে দিয়ে। ম্যাচের শেষ বলে শাহিন শাহ আফ্রিদি রান আউট হলে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে অবিস্মরণীয় জয় উদযাপনে মেতে উঠে জিম্বাবুয়ে।
৪. অস্ট্রেলিয়ার দুঃস্বপ্ন: দুঃস্বপ্নের পরাজয় দিয়ে শিরোপা অক্ষুন্ন রাখার মিশন শুরু করা অস্ট্রেলিয়া শেষ পর্যন্ত আর ফিরতে পারেনি নিজেদের ট্র্যাকে। সুপার টুয়েলভ পর্বের উদ্বোধনী ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৮৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ও স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। ঐ ম্যাচের পর নেট রানরেটে অজিরা এতটাই পিছিয়ে পড়েছিল যে শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের সমান ৭ পয়েন্ট নিয়েও শেষ চারে উঠতে পারেনি অ্যারন ফিঞ্চের দল।
৫. ‘চোকার’ প্রোটিয়া: নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ‘মাস্ট ইউন’ ম্যাচের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা যখন অনুশীল শুরু করেছিল, তখন অ্যাডিলেডের সকালটা ছিল আলোকজ্জ্বল। কিন্তু অন্ধকার ভর করা দিনটিতে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের জয় ছিলো একমাত্র আলোকিত মুহুর্ত।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ম্যাচ সেরা কলিন অ্যাকারম্যানের অপরাজিত ৪১ রানে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৫৮ রান সংগ্রহ করে নেদারল্যান্ডস। এরপর ডাচ বোলারদের জাদুতে আসকিং রান রেটের চাপে পড়ে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রানে গুটিয়ে যায় প্রোটিয়ারা। সুপার টুয়েলভ পর্বের শেষ দিনের এই ম্যাচটিই যে টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আপসেট, সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।
