সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ফারাবীর গল্প

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২২, ২৩:২৩

অভিনয় বা স্পোর্টসম্যান না হয়েও সেলিব্রিটি হওয়া যায়। তেমনি একজন সংবাদ পাঠ করে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছেন। বলছি বেসরকারি টিভি চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের সিনিয়র সংবাদ পাঠক ফারাবী হাফিজের কথা। এত এত বেসরকারি চ্যানেলের এত এত প্রেজেন্টারের মধ্যে তিনি আলাদা করে নিজেকে চিনিয়েছেন। কিন্তু—সেটা কিভাবে। ঘণ্টাখানেকের আড্ডায় জানা গেল কিছুটা।

২০০৯ সালে যখন তিনি অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র থাকার সময় শুরু করেন তার টেলিভিশন ক্যারিয়ার। অবশ্য সে সময় দেশ টিভিতে শুরু করেছিলেন রিপোর্টার হিসেবে। এরপর সংবাদভিত্তিক চ্যানেল হিসেবে যাত্রা করে এটিএন নিউজ। সেখানেও তিনি যোগ দেন রিপোর্টার হিসেবে। গল্পে গল্পে জানান, এটিএন নিউজ থেকে পরের বছর তিনি সময় টিভিতে জয়েন করেন।

টেলিভিশনের সংবাদ বলতে আমরা গুরুগম্ভীর, ভারী ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কেই বুঝি। কিন্তু ফারাবী হাফিজের সংবাদ উপস্থাপনের ধরন একদম সাবলীল। অনেকটা মনে হয়, টেলিভিশনের ভেতর থেকে তিনি আমার সাথে কথা বলছেন। এটা কিভাবে? উত্তরে জানালেন, ঠিক এই চেষ্টাটাই তিনি করেছেন। কারণ টিভি সেটের সামনে যে মানুষটা খবর দেখতে বসেছেন, তাকে উদ্দেশ্য করেই খবরটা জানানো।

গল্পে গল্পে জানালেন, পত্রিকার সংবাদ সব শ্রেণি, পেশা বা বয়সের মানুষ পড়েন না। কিন্তু টেলিভিশনের সংবাদ সবার উপযোগী করে তৈরি করতে হয়। যেহেতু সমাজের নিরক্ষর শ্রেণি থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায়ের মানুষ এই খবর দেখে, তাই এমনভাবে সংবাদ পরিবেশন করতে হয় যেন কারোই বুঝতে কোনো অসুবিধা না হয়। এই বিষয়টাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, ‘একজন সংবাদ পাঠকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সংযোগ স্থাপন। অন্যভাবে এটিকে নিউজ বিক্রি করাও বলা যেতে পারে।’ উত্সুক দৃষ্টি নিয়ে জানতে চাইলাম, বিষয়টা আসলে কেমন? তিনি বলেন, ‘একটি টিভি নিউজে ২০০ থেকে শুরু করে ৭০০ মানুষ কাজ করে। মালিক বিরাট একটা ইনভেস্ট করে বসে আছে। দিন শেষে এই ৭০০ মানুষ মিলে যে প্রোডাক্ট তৈরি করে তা ভোক্তাদের নিকট কার্যকর ভাবে পৌঁছানো জরুরি। শুধু পৌঁছানো নয়, তার মধ্যে যেন প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এমনভাবে পৌঁছাতে হবে। যদি এভাবে একজন প্রেজেন্টার তার কাজটি করতে পারেন, তাহলে তাকে তার কাজের ক্ষেত্রে সফল বলা যায়।’

সংবাদ পাঠের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে তিনি ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশে প্রবেশের ঘটনা শোনালেন।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ঢল শুরু হয়েছে। ঈদের আগে চ্যানেল টোয়েন্টিফোর এ ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে কাভার করতে চাইল। মিটিংয়ে আমি আইডিয়া দিলাম, ঘটনাস্থল অর্থাৎ কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্প থেকে আমরা নিউজ পড়ব। ওখান থেকেই রিপোর্টারদের মতো লাইভ নিউজ প্রেজেন্টেশন হবে। সেভাবেই কাজ শুরু হলো। তারপর প্রতিদিন সকাল ৬টায় কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে কুতুপালং  যেতাম, আর রাত ১১টায় ফিরতাম। টানা ২২ দিন সেখানে থেকে নিউজ প্রেজেন্টেশন করেছি। এরপর অফিসে এসে যে ফিডব্যাক পেয়েছিলাম তা দারুণ।’

ইত্তেফাক/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন