বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে হাম (Measles) সংক্রমণ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। শিশুদের জন্য অত্যন্ত সংক্রামক এই রোগটি প্রতিরোধযোগ্য হলেও সচেতনতার ঘাটতি ও টিকাদান কার্যক্রমে অনীহার কারণে অনেক পরিবার এখনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে জনসচেতনতা বাড়াতে এগিয়ে এসেছে তরুণ চিকিৎসক সমাজ।
বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্টস সোসাইটি (বিএমএসএস)-এর অধীনে ঢাকার উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজের লোকাল কমিটি সম্প্রতি আয়োজন করেছে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ—যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রজেক্ট সুরক্ষা’।
গত সোমবার ১৩ এপ্রিল রাজধানীর উত্তরা এলাকায় বেগম রোকেয়া নারী ও শিশু স্বাস্থ্য উন্নয়ন সংস্থার ক্লিনিকে অনুষ্ঠিত হবে এই আয়োজন। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে মূলত দুটি ধাপে কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
প্রথম ধাপে ছিল সুবিধাবঞ্চিত বস্তিবাসীদের নিয়ে সরাসরি সচেতনতামূলক আলোচনা ও ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন। এখানে চিকিৎসা শিক্ষার্থীরা হাম রোগের লক্ষণ, সংক্রমণের ধরন, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—টিকাদানের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে ভ্রান্ত ধারণা দূর করারও চেষ্টা ছিল আয়োজকদের।
দ্বিতীয় ধাপে ছিল মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সৃজনশীল উদ্যোগ—ইলাস্ট্রেশন ও পোস্টার তৈরির প্রতিযোগিতা। এই পোস্টারগুলো পরবর্তীতে সচেতনতা কার্যক্রমে ব্যবহার করা হবে, যাতে বার্তাটি আরও কার্যকরভাবে মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়। স্বাস্থ্য সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে তরুণদের এই সৃজনশীল অংশগ্রহণের ব্যাপারে আয়োজকরা আশাবাদী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও সময়মতো টিকা না নিলে এটি মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। তাই সরকারের চলমান টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি এমন কমিউনিটি-ভিত্তিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে ইসরাত জাহান জানান, ‘প্রজেক্ট সুরক্ষা’ শুধু একটি গৎবাঁধা ক্যাম্পেইন নয়; এটি একটি বার্তা—প্রতিটি শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। সচেতনতা, অংশগ্রহণ এবং দায়িত্ববোধ—এই তিনের সমন্বয়েই গড়ে উঠতে পারে একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ।

