দশ বছর আগের কথা। তখন বাংলাদেশে বসে ই-কমার্স জায়ান্ট ‘আমাজন’ নিয়ে কাজ করা কিংবা বিশ্বমানের সেবা দেওয়ার চিন্তা ছিল অনেকটা আকাশ কুসুম কল্পনার মতো। শেখার জন্য না ছিল ইউটিউব টিউটোরিয়াল, না ছিল কোনো গোছানো গাইডলাইন। ঠিক সেই অনিশ্চিত সময়ে লন্ডনের পাঠ চুকিয়ে আসা আইনের এক তরুণ ছাত্র মো. মঈনুল ইসলাম ভিন্ন এক স্বপ্নের বীজ বুনছিলেন। পড়াশোনা ছিল এলএলবি, কিন্তু তার ধ্যানজ্ঞান জুড়ে ছিল বৈশ্বিক বাজারের ডিজিটাল বিপণন।
মঈনুল ইসলাম এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইউকে এবং বাংলাদেশভিত্তিক বিশ্বখ্যাত আমাজন ক্রিয়েটিভ এজেন্সি ‘ইসেভিওর লিমিটেড’-কে। যে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ১৭০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের বিশ্বস্ত সহযোগী। ২০১৪ সালে যখন মঈনুল তার যাত্রা শুরু করেন, তখন পুঁজি বলতে ছিল কেবল অদম্য জেদ আর ক্লায়েন্টদের দেওয়া বাস্তব অভিজ্ঞতা।
মঈনুল সেই সময়ের কথা মনে করে বলেন, আমি কোনো কোর্স করে শিখিনি। আমার ক্লায়েন্টরাই ছিল আমার শিক্ষক। তারা ছোট ছোট কাজ দিতেন, আর আমি সেগুলো করতে গিয়েই আমাজন এফবিএ-র অলিগলি চিনতে শুরু করি। সেই হাতেকলমে শিক্ষাটাই আজ আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।
তিনি আরও বলেন, আমি প্রমাণ করতে চেয়েছিলাম যে, বাংলাদেশি প্রতিভা বিশ্বমানের কাজ উপহার দিতে সক্ষম।
দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় মঈনুল একটি সহজ কিন্তু কঠিন সত্য উপলব্ধি করেন, আমাজনে পণ্যের গুণমানের চেয়েও এর উপস্থাপনা বা ‘ভিজ্যুয়াল’ অনেক বেশি প্রভাবশালী। তিনি দেখেন, অনেক ভালো পণ্য কেবল অস্পষ্ট ছবির কারণে বিক্রি হচ্ছে না, আবার সাধারণ পণ্য আকর্ষণীয় উপস্থাপনায় বাজার মাত করছে। এই অভাব পূরণ করতেই তিনি গড়ে তোলেন ‘ইসেভিওর লিমিটেড’।
প্রতিষ্ঠানটি বৈজ্ঞানিক উপায়ে এমন সব ডিজাইন তৈরি করে যা সরাসরি বিক্রয় বৃদ্ধিতে (Conversion Rate) ভূমিকা রাখে। বর্তমানে ইসেভিওর ১,৩০০টিরও বেশি প্রজেক্ট সম্পন্ন করেছে। যার মধ্যে রয়েছে—লিস্টিং ইমেজ, প্যাকেজিং ডিজাইন এবং আমাজন স্টোরফ্রন্ট। মঈনুলের হাত ধরে বাংলাদেশের এই প্রতিষ্ঠানটি অ্যাঙ্কার ও অ্যামক্রেস্ট-এর মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
ভবিষ্যতের জন্য মঈনুল দুটি বড় উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছেন—‘গ্লোবাল আমাজন ভিজ্যুয়াল বেঞ্চমার্ক রিপোর্ট ২০২৬’ এবং ‘ইসেভিওর ক্রিয়েটিভ একাডেমি’, যেখানে নতুনদের দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে।

