তিব্বতে চীনা শাসনের বিরোধিতা করার জন্য ছয় বছরের জন্য জেলে থাকা একজন তিব্বতি সন্ন্যাসী ২০১৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পায়। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে অসুস্থতার কারণে মারা গেছেন তিনি। রেডিও ফ্রি এশিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
তিব্বতের অভ্যন্তরের এক সূত্র জানায়, সিচুয়ানের কার্দজে (গাঞ্জি) তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত প্রিফেকচারের ড্র্যাগো কাউন্টির বাসিন্দা গেশে তেনজিন পালসাং সেপ্টেম্বর মাসে হঠাৎ অবস্থা খারাপ হওয়ায় মারা যান।
আরএফএর এক সূত্র জানায়, কারাগারে তিনি নির্যাতন সহ্য করেছিলেন এবং মুক্তির পরে চিকিৎসা সেবার অভাবের কারণে তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। ড্র্যাগো মঠের এক সন্ন্যাসী পালসাংকে ২০১২ সালের ২ এপ্রিল বেইজিংয়ের শাসনকে চ্যালেঞ্জ করে একটি বিক্ষোভের আয়োজন করার অভিযোগে আটক করা হয়েছিল।
প্রতিবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পালসাং ২০১৮ সালের এপ্রিলে মুক্তি পায়, কিন্তু চীনা কর্তৃপক্ষ তাকে ক্রমাগত হয়রানি ও নজরদারি করতো।
নির্বাসনে বসবাসকারী একজন তিব্বতি জানান, পালসাং ২০১২ সালে চীনা কর্তৃপক্ষকে তাদের তিব্বতে দমনমূলক নীতি ও তিব্বতের জনগণের উপর তাদের গণহত্যা ও নিপীড়ন বন্ধ করার জন্য খোলাখুলি আহ্বান জানিয়েছিলেন।
পূর্বে একটি স্বাধীন জাতি হলেও প্রায় ৭০ বছর আগে জোরপূর্বক চীনের সঙ্গে যুক্ত হয় তিব্বত। চীনের কর্তৃপক্ষ তিব্বতিদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের শান্তিপূর্ণ প্রকাশকে সীমিত করে এই অঞ্চলের ওপর শক্ত দখল বজায় রেখেছে।
