পেটেলকো কোম্পানির অর্থ আত্মসাৎ করা সেই মাইনুল গ্রেফতার

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২২, ১৯:৩১

পেটেলকো কোম্পানির অর্থ ও সম্পদ আত্মসাতের ঘটনায় মাইনুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে মতিঝিল থানা পুলিশ। পুলিশ তাকে আদালতে হস্তান্তর করলে এক দিনের রিমান্ড দিয়েছেন ঢাকা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। এর আগে তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলা করেন পেটেলকো লিমিটেডের এমডি মো. মাসুদ খান।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) দিবাগত রাতে ঢাকার বাসাবো এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে মতিঝিল থানা পুলিশ। বরিশালের ঝালকাঠি জেলার রাজাপুরের কৈবর্তখালী গ্রামের সাহরাব সিকদারের পুত্র মাইনুল ইসলাম।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাইনুল ইসলাম পেটেলকো লিমিটেড নামে একটি ট্রান্সফর্মার উৎপাদন ও বিপণনকারী কোম্পানিতে এজিএম পদে ২৫ হাজার বেতনে ২০১৭ সালের ১২ জুন চাকুরী নেন। এ বছরের জানুয়ারি থেকে অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি। তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে অফিসের হিসাব বিভাগ তার বিরুদ্ধে তদন্তের অনুমতি দেয়। তদন্তে দেখা যায়, কারখানার মালামাল আত্মসাৎ বাবদ, বিক্রির জিম্মাদারী দায় দেনা, অর্থের একক গ্রহীতা হিসবে মানি রিসিট ও তার দায়িত্বে থাকা হিসেবে টাকার হিসেব গড়মিলসহ মোট ৮ কোটি ৬২ লাখ ৮১ হাজার ৭৯০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এমন অভিযোগে গত ৭ নভেম্বর পেটেলকো লিমিটেডের এমডি মো. মাসুদ খান বাদী হয়ে পেনাল কোড ১৮৬০ ধারায় মতিঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহার

মো. মাসুদ খান বলেন, মাইনুল ইসলাম আমাদের কোম্পানিতে প্রায় ৪ বছর চাকরির পর এ বছরের জানুয়ারিতে মোটা অঙ্কের টাকা ও মালামাল আত্মসাৎ করেন মাইনুল ইসলাম। এর পর থেকেই আমাদের কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি। 

তিনি আরও বলেন, আত্মসাতের টাকা ও মালামাল দিয়ে নিজে এমডি হয়ে নারায়গঞ্জের ফতুললায় বেষ্ট পাওয়ার নামে একটি নিজেই একটি ট্রান্সফর্মার কোম্পানীর গড়ে তুলেছেন। প্রতারণার অর্থ দিয়ে ঝালকাঠির রাজাপুরের ছোট কৈবর্তখালী গ্রামের নিজ বাড়িতে বিশাল অট্টালিকা গড়েছেন। গ্রামর বাড়িতে কয়েক একর জমি ক্রয় করেছেন।

মামলার প্রথমিক তথ্য বিবরণী

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মতিঝিল থানার এস আই শফিকুল ইসলাম আকন্দ বলেন, মো. মাসুদ খানের অভিযাগের ভিত্তিকে তাকে বাসাবো এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিভ্রান্তিমুলক তথ্য দেওয়ায় আদালতে নির্দেশে তাকে ১ দিনের রিমান্ডে আনা হয়। হঠাৎ করেই তিনি এত টাকার মালিক হলেন কিভাবে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি